দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নিযাতনের প্রতিবাদে সুজন সিলেটের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২০

দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নিযাতনের প্রতিবাদে সুজন সিলেটের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশব্যাপী ধর্ষণ, নারী নিযাতনের প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের উদ্যোগে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করা হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সহ-সম্পাদক মিজানুর রহমানের পরিচালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজনের সম্পাদক এডভোকেট শাহ সাহেদা। সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত দাবিগুলো তুলে ধরেন শাবিপ্রবির সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম।

আরও বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল­াহ শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন সভাপতি সৈয়দ সাইদুল ইসলাম দুলাল, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার এর সদস্য সচিব লক্ষী কান্ত সিংহ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট কমিশনের সভাপতি ফয়সল আহমদ বাবলু, সংক্ষুবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম, সুজন এর সদস্য ইউসুফ আলী, এডভোকেট নুসরাত হাসিনা সম্পা, এডভোকেট জাকিয়া জালাল, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ূন রশীদ সোয়েব, সুজন সদস্য গাজী কামাল, পরিবেশ ও হাওড় উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুষ রঞ্জন পুরকায়স্থ টিটু, সুজন সহসম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, গ্রীন ভিলেজ ক্লিন ভিলেজ এর আহ্বায়ক রোটারিয়ান ইকবাল হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট সৈয়দ কাওছার আহমদ, প্রকৌশলী সেতু কুমার বড়ুয়া, ইসলাম উদ্দিন, সুজনের কোষাধ্যক্ষ এ. মুহিদ চৌধুরী, মোজাহিদ আহমদ, প্রধান শিক্ষক বিলাল আহমদ, মুফতি সাদিকুর রহমান ইয়ামানী, ভূমি সন্তান আশরাফুল কবির, সাংবাদিক কামকামুর রাজ্জাক রুনু, বৃক্ষছায়া শহীদ আহমেদ খান, মানবাধিকার কর্মী দেলোয়ার আহমদ, ফজলুর রহমান শিপু, ইমাম উদ্দিন কামাল, রাজীব চাকমা, বুশরা জাহান, পপি বেগম, দুর্জয় রায়, মুজাহিদুল ইসলাম, বদরুদ্দোজা বদর, আলী মাহমুদ, তাসিম চৌধুরী প্রমুখ।
যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে মানববন্ধনে নানা দাবি উত্থাপন করে সুজন। তাদের দাবি গুলো হচ্ছে, পারিবারিক সুশিক্ষা, ভিকটিমকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি হতে বের হওয়া, নারীবান্ধব বিচারিক প্রক্রিয়া, ধর্ষণ আইনের সংস্কার ও সংশােধন করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করণ, দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে দ্রত ট্রাইবুন্যালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা, পরিবার ও সমাজে শিশু ও নারীর সমান সুযোগে তৈরী করা ও নারীর প্রতি বৈষম্য কমানো, আইনের শাসন নিশ্চিত করা ও এ ধরণের অপরাধীদের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা, স্বল্প সময়ে বিচার শেষ করা, ভিক্টিমের জন্য নারীবান্ধব থানা এবং বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ইমার্জেন্সি হটলাইন চালু করা।
বিশেষ করে আমাদের সরকারের যে ৯৯৯ (জাতীয় জরুরী সেবা) ও ১০৯ (নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল) এর তথ্য সকল স্কুল-কলেজ সহ সাইন বাের্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করা। প্রয়োজনে নারী পুলিশের বিশেষ টিম এই হটলাইন গুলোকে প্রমোট করতে স্কুল- কলেজ ও প্রত্যন্ত এলাকাতে কাজ করতে পারেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ জেন্ডার ট্রেইনিং এর ব্যবস্থা করা। এ জাতীয় নারী নীতি ২০১১ ও সিডো সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
স্কুল- কলেজ সমূহে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা অনুযায়ী সেক্স এডুকেশন প্রবর্তন করা। নির্যাতিতা নারীদের জন্য (যেমনঃ রেপ সারভাইভার এবং এসিড সারভাইভারদের) সরকারী উদ্যোগে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে ভিক্টিমদের জন্য শেল্টার হোমের ব্যবস্থা করা যেখান থেকে তারা একটি কমপ্রিহেনসিড সেবা, যেমন, তার চিকিৎসা, মনোসামাজিক কাউনসেলিং সহ আইনগত সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি জেলা শহরে সব ধরণের ভিক্টিমদের জন্য সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে বিশেষ মনোসামাজিক কাউনসেলিং ও আইনি সেবার ব্যবস্থা করা। প্রতিটি স্কুলে কাউনসেলার নিয়োগ করা বা শিক্ষকদেরকে কাউনসেলিং প্রশিক্ষণ প্রদান করে শিক্ষার্থী বান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করা। আকাশ সংস্কৃতি ও ইন্টারনেটের আগ্রাসন হতে আমাদের সমাজকে রক্ষা করা। ধর্ষনের শিকার নারীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।

নিপিড়নের ভিডিও ভাইরাল করা ধর্ষকদেরকে চিহ্নিত করা ও নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করা। ধর্ষণ, এসিড মামলাসহ যাবতীয় নারী নির্যাতনের আসামীদেরকে জামিন অযোগ্য অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা যৌন সন্ত্রাসীদের দ্বায়ভার নিতে হবে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠপোষকদেরকে, তারা কোনভাবেই বিচারের উর্দ্ধে থাকতে পারেন না। এই দানবদের দমনের উদ্যোগ নিতে হবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকে। ভিকটিম নয়, ধর্ষককেই প্রমাণ করতে হবে, তিনি নির্দোষ এবং গণধর্ষণ সহ নারকীয় নারী নির্যাতনমূলক অপরাধের আসামীর পক্ষে কোন। বিবেকবান আইনজীবী যদি না দাঁড়ান, তাহলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারবো। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি শুধু নারী নিপিড়কদের জন্যই নয়, তাদের পোশক, প্রশ্রয়দাতাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে পাশ্চাত্যের ন্যায় নারী নির্যাতনকারী পুরুষদের আচরণ পরিবর্তনের জন্য পুরষ সংশোধনাগার সেন্টার স্থাপন করা।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
17181920212223
24252627282930
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ