কবে থেকে চীনা সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকতে শুরু করে?

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

কবে থেকে চীনা সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকতে শুরু করে?

সিল-নিউজ-বিডি ডেস্ক :: ভূখণ্ড দখল নিয়ে চীনের সঙ্গে সংঘর্ষে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ২০ ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনায় মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছেন কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী অমিত শাহর আমন্ত্রণে শুক্রবার আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকের শুরুতেই নানা প্রশ্নের মুখোমুখী হন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মোদির উদ্দেশে সোনিয়া গান্ধীর সরাসরি প্রশ্ন, “কবে থেকে চীনা সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকতে শুরু করে? আগ্রাসনের কথা কবে জানতে পারে সরকার? সরকার কি ভারতীয় সীমান্তের উপগ্রহ চিত্র আগে পায়নি? LAC-তে চীনা সেনার সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে কি কোনও গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল না? সরকারকে কি আগাম সতর্ক করা হয়নি? কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এক্ষেত্রে কি আগাম সতর্ক করতে ব্যর্থ?”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে সোনিয়া গান্ধী বলেন, এই মুহূর্তে লাদাখের কি পরিস্থিতি তা দেশবাসী জানতে চায়। একইসঙ্গে চীনের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য যে মাউন্টেন স্ট্রাইক কর্প গঠন করা হয়েছিল, তা বর্তমানে কী অবস্থায় আছে? তা নিয়েও প্রশ্ন করেন কংগ্রেস সভানেত্রী।

লাদাখে চীনের আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া ওই সর্বদলীয় বৈঠকে দেশটির কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া এসব কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সেই বৈঠকে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শরদ পাওয়ার, নীতিশ কুমার, উদ্ধব ঠাকরে, কেসিআর, মায়াবতী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রমুখ। যদিও এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাননি অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আসাদউদ্দিন ওয়াইসিরা।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এখনও পর্যন্ত লাদাখে পর্যায়ক্রমে কী ঘটেছে না ঘটেছে, সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিরোধীদের অবগত করার দাবি জানান তিনি। লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিন বিরোধীদের ‘ব্রিফ’ করার কথা বলেন সোনিয়া গান্ধী।

প্রসঙ্গত, চীনের সেনাবাহিনী ভারতীয় ভূখণ্ডের ৬০-৭০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়ে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের বিজেপি বিধায়কও বিষয়টি স্বীকারে সংবাদমাধ্যমকে আরও বিস্ময়কর তথ্য দেন। তিনি জানান, ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনারা শুধু প্রবেশই করেনি; ঝুলন্ত ব্রিজও তারা তৈরি করে ফেলেছে।

রাজ্যের বিজেপি সভাপতি অরুণাচল পূর্ব কেন্দ্রের সংসদ সদস্য টাপির গাও সম্প্রতি বিভিন্ন সাংবাদ মাধ্যমে দাবি করেছিলেন, চাগলাগামের ডিমারু নালার ওপর একটি ‘সাসপেনশন ব্রিজ’ নজরে এসেছে আদিবাসীদের। ঘন জঙ্গলে ঘেরা ওই এলাকার গাছ কেটে কাঠ দিয়ে ওই ব্রিজটি তৈরি করেছে চীনা সেনাবাহিনী। দিল্লিতে সংশ্লিষ্ট সব দফতরে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন টাপির গাও।

যেখানে ব্রিজ তৈরির কথা বলেছেন টাপির গাও, সেই ডিমারু নালা অন্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত। জনবসতি খুব কম। রয়েছে প্রচুর পাহাড়ি ঝর্ণা ও নালা। অসংখ্য ‘ফিশ টেল’ প্রজাতির লম্বা গাছ এবং নিচে ঘন জঙ্গলে ঘেরা বলে কার্যত দুর্গম ওই এলাকা।

চীন-অরুণাচল সীমান্ত ম্যাকমোহন লাইন নামে পরিচিত। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা ম্যাকমোহন লাইন থেকে চাগলাগামের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। চাগলাগাম থেকে আবার ডোইমুর নালার দূরত্ব ২৫-৩০ কিলোমিটার। ফলে টাপির গাওয়ের দাবি সত্যি হলে ভারতীয় ভূখণ্ডের ৬০-৭০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে চীনা বাহিনী। দিল্লিতে বিষয়টি জানানোর পরই এ নিয়ে কার্যত তোলপাড় পড়ে যায়। ভারতীয় সেনাসহ কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ।

তবে বিষয়টি প্রকাশের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী বিষয়টি অস্বীকার করে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই এলাকা ঘন জঙ্গলে ঢাকা। নালা-ঝোরা ও পাহাড়ি চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা। ওই এলাকায় হেঁটে ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনে চলাফেরা করা সম্ভব নয়। যেহেতু সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তাই ভারত এবং চীন দুদেশের সেনা জওয়ানরাই বর্ষাকালে টহলদারির জন্য নালাগুলির ওপর অস্থায়ী ব্রিজ তৈরি করে। তবে এটা নিশ্চিত যে চীনের সেনা বা কোনো নাগরিকের স্থায়ী উপস্থিতি ওই এলাকায় পাওয়া যায়নি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ