থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ দমনে জরুরি ডিক্রি জারি

প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ দমনে জরুরি ডিক্রি জারি

অনলাইন ডেস্ক

চারজনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করে বৃহ্স্পতিবার জরুরি ডিক্রি জারি করেছে থাইল্যান্ড। এ ছাড়া অলোপনীয় রাজতন্ত্রের সমালোচনা করায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভেও দমনপীড়ন বেড়েছে।

এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে চলা ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমনে সরকার এ জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সিএনএনের খবরে এমন তথ্য মিলেছে।

বিক্ষোভকারীরা রাজকীয় মোটর শোভাযাত্রাকে চ্যালেঞ্জ জানানো ও ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ চলচ্চিত্র থেকে নেয়া ‘তিন আঙুলের’ অভিবাদন প্রদর্শন করেছেন, যা দেশটিতে অতি শ্রদ্ধেয় রাজার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অবাধ্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১৪ সালে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন ও-চা।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে জরুরি ফরমান ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে রাতে তাঁবু গেড়ে অবস্থান করা কট্টর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে যায় দাঙ্গা পুলিশ।

মানবাধিকারকর্মী পানুসায়া সিথিজিরাওত্তানাকুল বলেন, আটক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রনেতা প্যারিট চিওয়ারাক রয়েছেন। যিনি ‘পেঙ্গুইন’ নামেই বেশি পরিচিত।

পরবর্তী সময় ফেসবুকে প্রচারিত এক লাইভ স্ট্রিমে দেখা গেছে, পানুসায়াকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সময় সমর্থকরা তার দীর্ঘ জীবন কামনা করে স্লোগান দেন। আর ‘তিন আঙুলের’ সেই অভিবাদন প্রদর্শন করেন।

সরকারি মুখপাত্র বলেন, জরুরি পদক্ষেপ অনুসারে চারজনের বেশি লোক জড়ো হতে পারবেন না। বৈদ্যুতিক যোগাযোগের যন্ত্রপাতি, ডেটা ও অস্ত্র সরকার জব্দ করে নিয়ে যেতে পারবে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দেয়, এমন কোনো খবর বৈদ্যুতিন মাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বুধবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ব্যাংককের গণতন্ত্র স্মৃতিসৌধে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় সেখান দিয়ে রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন ও তার পরিবারকে বহনকারী মোটর শোভাযাত্রা যাচ্ছিল।

যখন রাজার গমন পথে কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে পুলিশ ঘিরে রাখে, তখন সেখানে থাকা আরও কয়েক ডজন প্রতিবাদী রাজপরিবারকে ‘তিন আঙুলের’ অভিবাদন দেখান। এ সময় রানি সুথিদাকে লিমোজিনের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

থাইল্যান্ডের ইতিহাসে রাজপরিবারের প্রতি এমন প্রকাশ্য অবাধ্যতা আরও কখনও ঘটেনি। যেখানে দেশটির সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজপরিবারের প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।

এ ঘটনার পর থাইল্যান্ডের রাজপরিবারপন্থী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। দেশটিতে রাজা খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও কোটিপতি গোত্রগুলোও তাকে সমর্থন জানিয়ে আসছে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, আমরা কেবল রাজতন্ত্রকে আধুনিক সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বলেছি। তারা রাজপরিবার অবমাননা আইনও বাতিল দাবি করেছেন।

এই আইন রাজাকে সব সমালোচনার ঊর্ধ্বে রেখেছে। এ ছাড়া রাজপরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে তাদের দাবিতে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
17181920212223
24252627282930
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ