শ্রীমঙ্গলে ফসলি জমির উর্বর অংশের মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন রোধে সচেতনতামূলক সভা

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪

শ্রীমঙ্গলে ফসলি জমির উর্বর অংশের মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন রোধে সচেতনতামূলক সভা

শ্রীমঙ্গলে ফসলি জমির উর্বর অংশের মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন রোধে সচেতনতামূলক সভা

স্বপন দেব, নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ফসলি জমির উর্বর অংশের মাটি কাটা রোধকল্পে সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু তালেব।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মহিউদ্দিন, শ্রীমঙ্গলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) অমিতাভ শেখর চৌধুরী, ট্রাক-ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন উপজেলা শাখার সভাপতি নুর মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহাজান মিয়া, সাংবাদিক শামীম আক্তার হোসেন মিন্টু, নান্টু রায়, আতাউর রহমান কাজল প্রমুখ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মহিউদ্দিন বলেন, বিভিন্ন ইটভাটায় নির্বিচারে ফসলি জমির ওপরের উর্বর অংশের মাটি কাটার ফলে ফসলি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। এই জমিতে ফসলের উৎপাদন দিন দিনই কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের ফসলি জমিতে উৎপাদন হ্রাস পাবে। কারণ জমির ওপরের ১-২ ফুটের মধ্যে বিভিন্ন জৈব উপাদান থাকে যা জমির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায়।
অথচ ইটভাটাগুলোর মালিকেরা সামান্য টাকার বিনিময়ে জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে জমিতে ধান, রবিশস্যসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে, যা দেশের জন্য অশনি সংকেত যা কৃষকরা এখন বুঝতে পারছেন না। জমির ওপরের অংশের উর্বরতা ফিরে আসতে ১০-১৫ বছর লেগে যাবে। ফলে দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে। এখনই সচেতন না হলে এ পরিস্থিতি থেকে কৃষক তথা দেশকে বাঁচানো যাবেনা। এর সুদূর প্রসারি ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে বাঁচাতে এখনই জমির ওপরের অংশের মাটি কাটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, মাটি ব্যবসার সাথে জড়িত বিভিন্ন এলাকার ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু তালেব বলেন, অবাধে ফসলি জমির মাটি কেটে কৃষি ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না। ফসলি জমি থেকে মাটি কাটতে হলে দেশের আইন অনুযায়ী নীতিমালা মেনেই কাটতে হবে। নীতিমালার বাহিরে গিয়ে কেউ অবৈধভাবে মাটি কাটলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া নদী-ছড়া থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গন ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। এথেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে। যত্রতত্র বালু তোলা ও অবাধে মাটি কাটা বন্ধ করতে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
26272829   
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ