শর্তসাপেক্ষে গণস্বাস্থ্যের কিটসহ ‘র‌্যাপিড টেস্টিং’ অনুমোদন পাচ্ছে

প্রকাশিত: ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

শর্তসাপেক্ষে গণস্বাস্থ্যের কিটসহ ‘র‌্যাপিড টেস্টিং’ অনুমোদন পাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক :;

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিটসহ র‌্যাপিড টেস্টিং কিট অনুমোদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশে কিছু শর্তসাপেক্ষে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে করোনাভাইরাস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই কিট ব্যবহার করা হবে না। ব্যবহার হবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা নির্ণয়ের জন্য এই কিট ব্যবহার করা যাবে।

শনিবার (২৭ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, এরই মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র র‌্যাপিড টেস্টিং কিট আবিষ্কার করেছে। তা ছাড়া ২৫-৩০টি প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিড টেস্টিং কিট আমদানি ও ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কিছু শর্তসাপেক্ষে একটা নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন মো. কামালকে আহ্বায়ক ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিকে সদস্ সচিব করে ১৪ সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা বিএসএমএমইউ, আইসিডিডিআরবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

এই কমিটি গত ২১ ও ২৩ জুন দুই দফা বৈঠক করে র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ব্যবহারের নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। এতে বলা হয়েছে, সেরো সার্ভেইল্যান্স এবং কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপি ও গবেষণার কাজে এই কিট ব্যবহার হবে। অপব্যবহার রোধে শুধু কিটটি ল্যাবরেটরিতে ব্যবহার করা যাবে। কিটের মোড়কে লিখতে হবে, ‘দিস ইজ নট এ ডায়াগনস্টিক কিট, দিস কিট উইল বি ইউজড অনলি ফর ডিটেক্টিং অ্যান্টিবডি, নট ইন অ্যাকিউট স্টেজ’ (এটি নির্ণায়ক কিট নয়, শুধু অ্যান্টিবডি শনাক্ত করার কাজে ব্যবহার করা যাবে, রোগ শনাক্ত করার কাজে নয়)। কিটগুলো পয়েন্ট অব কেয়ারে (কোভিড-১৯ পরীক্ষা কেন্দ্রে) ব্যবহার করা যাবে না। কিটের আইজিজি/আইজিএমের সেনসিটিভিটি ৯০ ভাগ ও স্পেসিফিসিটি ৯৫ ভাগ হতে হবে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় ১০০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে, র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্টিং কিটে কমপক্ষে ৯০ জনের পজিটিভ আসার শর্ত দেওয়া রয়েছে।

কমিটির প্রধান বিএসএমএমইউ মো. কামাল বলেন, করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার ১৪ দিনের আগে বিশ্বের কোথাও র‌্যাপিড টেস্টিং কিটের ফল ভালো আসেনি। সে কারণে বাংলাদেশেও ১৪ দিনের আগে এটি ব্যবহারের পক্ষে নই আমরা। সেরো সার্ভেইল্যান্স বলতে বোঝানো হয়েছে, একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগটির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা।

র‌্যাপিড টেস্টিং কিড প্রসঙ্গে প্লাজমা থেরাপি বিশেষজ্ঞ ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশরাফুল হক বলেছেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্লাজমা থেরাপির জন্য এই কিট প্রয়োজন। কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার পর রক্তে রোগপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডিটা একসময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এরপর কমতে থাকে।এমন অনেকে প্লাজমা দিতে আসছেন, যাঁদের রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ কম। কারও কারও অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়ারও নজির আছে। র‌্যাপিড টেস্টিং কিট এই সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে।

প্লাজমা থেরাপি দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত এই চিকিৎসক আরও দুটি সমস্যার সমাধান এই কিট থেকে হতে পারে বলে মনে করেন। তিনি বলেন, নমুনা সংগ্রহের সময় একটি আরেকটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ফলে অনেকে নেগেটিভ হলেও ফল এসেছে পজিটিভ। তাঁরা যখন প্লাজমা দিতে আসছেন, তখন বোঝা যাচ্ছে তাঁরা আসলে আক্রান্তই হননি। তা ছাড়া আরটিপিসিআর পরীক্ষায় ভাইরাসের সংখ্যা ২০০-র নিচে হলে পরীক্ষায় শনাক্ত হয় না। সে ক্ষেত্রেও র‌্যাপিড টেস্টিং কিট কাজে লাগতে পারে।

পূর্বপশ্চিম-

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
20212223242526
2728293031  
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ