পর্তুগালের অর্থনীতিতে মহামারীর আঘাত

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

পর্তুগালের অর্থনীতিতে মহামারীর আঘাত

সিল-নিউজ-বিডি ডেস্ক :: বেকারত্ব, বাজেট ঘাটতি এবং ব্যয় বৃদ্ধি অর্থনীতির এই তিন কুপ্রভাব পর্তুগিজ সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মে/২০২০ মাসে গত বছরের মে/২০১৯ মাসের তুলনায় এবছর ১ লাখেরও বেশি লোক কর্মহীন হয়েছে, যা প্রায় ৩৪% শতাংশ।

এই বেকারত্বের হার অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে পর্যটন কেন্দ্র পর্তুগালের আলগার্ভ অঞ্চলে সীমা ছাড়িয়েছে। গত মে/২০২০ মাসে যা গত বছরের তুলনায় ২০২.৪% বেশি। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে পর্তুগালের দিপাঞ্চল সাগর কন্যা খ্যাত আছোরস এলাকায়। গত বছরের তুলনায় -২.৪%।

এপ্রিল পর্যন্ত সরকারের বাজেট ঘাটতি দেখা দিয়েছে ১,১৫১ মিলিয়ন ইউরো। যেখানে রাজস্ব আয় বেড়েছে খুবই সামান্য ৫%। তার বিপরীতে খরচের পরিমান বেড়েছে ৬.১%। বর্তমান মহামারীর প্রভাবে স্বাস্থ্যখাত এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

আয়করের কাঠামো পরিবর্তন এবং করদাতাদের পরিমাণ বাড়ার ফলে আয়কর রিফান্ডের পরিমান বেড়ে গেছে যা পরবর্তী মাসগুলোতে প্রদান করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় ৪% বৃদ্ধি করা হয়েছে, তবে কোভিড১৯ আক্রমণের পূর্বে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি খাতে আয় ছিল ৭.৪%।

তাছাড়া ২০২০ সালে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। প্রাথমিকভাবে ৭.৬ শতাংশ ব্যয় বেড়ে যায়, এর জন্য দায়ী স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় ১২%। তবে এর মধ্যে কর্মীদের পিছনে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.%।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৪.৫ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাতে ৮,২০৪ জন প্রফেশনাল নিয়োগ দেয়া হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় ৬.৩% ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে ৪.৮ শতাংশ, তাছাড়া জনবলের মানোন্নয়ন তথা কর্মীদের ক্যারিয়ার মানোন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যালেন্স এপ্রিলে ১১৪৭.৪ মিলিয়ন ইউরো দাঁড়িয়েছে যা গত মার্চ মাসের তুলনায় ৪৫১.৪ মিলিয়ন ইউরো (-২৮.২%) কম।

অথচ কভিড-১৯ মহামারীর কারণে ২০০ মিলিয়ন ইউরোর চেয়ে বেশি ব্যয় যুক্ত হয়েছে। তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সোশ্যাল সিকিউরিটির কন্টিবিউশন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

পর্তুগাল সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ফেরোভিয়া ২০২০-এর আওতায় সরকারি-বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৮.৬%। তাছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সরঞ্জামাদি ক্রয় এবং হাসপাতালে পুনর্গঠন অনির্ধারিত ব্যয় সীমা ছাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য যে গতবছর বছর ২০১৯ সালে পর্তুগালের বাজেট উদ্বৃত্ত হয়েছিল ০.২% যা পর্তুগালের স্বাধীনতার ৪৫ বছরের মধ্যে একটি রেকর্ড। কেননা পর্তুগাল কখনোই বাজেট উদ্বৃত্ত করতে পারিনি।

তবে গত ১৮ জুন তৃতীয় ধাপের লকডাউন খুলে দেওয়ার পর রাজধানী লিসবন মেট্রোপলিটন এরিয়া এবং পর্যটন নগরী আলগার্ভ নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

সরকার জুলাই পর্যন্ত লে অফ বর্ধিত করেছে এতে সরকারের ব্যয় আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া লিসবন মেট্রোপলিটন এরিয়া নতুন করে স্বাস্থ্যবির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, অমান্য করলে জেল জরিমানার বিধানও রয়েছে।

ইউরোপের এই ছোট দেশটি সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে উন্নয়নের পথে হাঁটছিল। এমতাবস্থায় মহামারী কতটা পিছিয়ে দিল তা এখনো হিসাব করে বের করার অবকাশ নেই। তবে আশা করা হচ্ছে বর্তমান সোস্যালিস্ট পার্টির সরকার প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কস্তা কভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কারণে ক্ষতির হিসাবটা কমে আসতে পারে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ