দিরাই-শাল্লায় পানিবন্দি কয়েক হাজার পরিবার

প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

দিরাই-শাল্লায় পানিবন্দি কয়েক হাজার পরিবার

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :;
সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা উপজেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা। এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে নিচু এলাকায় বসতি স্থাপনকারী সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি। কিছু পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষগুলো।

অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে দুই উপজেলায় অন্তত দেড় সহস্রাধিক মাছের খামার হুমকির মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যে শতাধিক পুকুর পানিতে তলিয়ে খামারিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম।

জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলায় বহমান কালনী নদীর পানি বিপদসীমার ১৮ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার দিবাগত রাত থেকে হাওরের পানি উপচে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দিরাই পৌর সদরসহ উপজেলা দুটির ১৩ ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই বন্যার পানি উঠে পড়েছে। বানের পানিতে ভেসে গেছে অনেক মৎস্য চাষীর পুকুরের মাছ।

দিরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম জানান, এ পর্যন্ত বন্যায় ৬৭টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

শাল্লা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মামুন আহমেদ জানান, এ পর্যন্ত তার উপজেলায় ৭টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান তালুকদার জানান, তার ইউনিয়নের তেতৈয়া, হাতিয়া, কুলঞ্জ, তারাপাশা, রাড়ইলসহ বিভিন্ন গ্রামে বন্যার পানি উঠেছে। হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছু পরিবারকে নিয়ে আসা হয়েছে।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিবলী আহমেদ বেগ জানান, তার ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই বানের পানি উঠেছে। আক্রান্ত পরিবারগুলো তাদের গবাদি পশুগুলো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, ঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে চাইছেন না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবোর উপজেলা সমন্বয়কারী রিপন আলী জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত কালনীর পানি বিপদসীমার ১৮ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা শহর দিয়ে বহমান সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে রয়েছে, সেই পানি এদিক দিয়ে নামছে। যে কারণে বৃষ্টি না হলেও পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সফি উল্লাহ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতার জন্য জিআরের ৪৫০ মেট্রিন টন চাল ও ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে।

শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আল আমিন চৌধুরী জানান, পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মনিটরিং সেলের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা পরিষদ প্রস্তুত রয়েছে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
20212223242526
2728293031  
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ