প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বৈঠক
অনলাইন ডেস্ক
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় যমুনায় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মু. তাহের। ওই সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছে। যা পুরাই জাতির জন্য ধোঁকাবাজি। বিএনপি নির্বাচনের আগেই মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিয়েছে। আর নির্বাচনে বিজয়ী হলে কী করবে তা স্পষ্ট। তবে এই প্রতারণার বিষয়টা আমরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করেছি। যেটা নির্বাচনের আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মু. তাহের বলেন, আমাদের ১১ দলীয় জোট বা ঐক্য ছিল। এই ঐক্য গঠনের জন্য ইসলামী আন্দোলনের অনেক ভূমিকা ছিল। আমরা তাদের ভূমিকাকে শ্রদ্ধা জানাই। তারা একক নির্বাচন করবে, তাদের নির্বাচনের সফলতা কামনা করি। তবে মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়ে রাখতে চাই, ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীমের আসনে জামায়াত কোনো প্রার্থী দেবে না। জোটের সৌজন্যতা হিসেবে আমরা তার আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করেছি।
তিনি বলেন, সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের যারা একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন, আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকর্তাদের তালিকা তারা ইতোমধ্যে করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
ডা. তাহের অভিযোগ করেন, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সরকারের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার প্রবণতা নির্বাচনি মাঠে সমতার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি বলেন, কারও নিরাপত্তা বা প্রটোকলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের প্রতিও একই ধরনের আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এটি পক্ষপাতমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জাতি একে পক্ষপাতমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।
ডা. তাহের জানান, এসব বিষয়ে তারা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা না নিলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান। তবে তাঁর আশপাশে থাকা কিছু উপদেষ্টা তাঁকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান জামায়াতের নায়েবে আমির।
এদিকে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. তাহের। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, যদি সত্যিই প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়, তাহলে এটিকে একটি উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা দেখব। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টাকে আগাম ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সাক্ষাৎ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, শিল্প ও বাণিজ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় করা হয়। চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।