• সিলেট, সকাল ১০:০৩, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাকাতের আত্মিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল

admin
প্রকাশিত মার্চ ৪, ২০২৬
জাকাতের আত্মিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল

Manual6 Ad Code

জাকাতের আত্মিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল

Manual7 Ad Code

ড. আবু সালেহ মুহাম্মদ তোহা

 

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত। পবিত্র কোরআনে ৩২ জায়গায় জাকাতের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জায়গায় নামাজের সঙ্গে জাকাতের নির্দেশ উল্লেখিত হয়েছে, যা এর গুরুত্বের প্রমাণ বহন করে।

জাকাত শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টন ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ধনী-গরিবের বৈষম্য হ্রাস করে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। নির্দিষ্ট সম্পদে নির্ধারিত হারে জাকাত আদায় করা ফরজ এবং তা যথাযথভাবে আদায় করলে সম্পদ পবিত্র ও বরকতময় হয়।

নৈতিকতা ও আত্মিক শুদ্ধির বিকাশ : জাকাত শুধু অর্থনৈতিক নীতি নয়, এটি নৈতিক ও আত্মিক শুদ্ধিরও মাধ্যম। জাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদ ও ব্যক্তিত্বের পরিশুদ্ধি হয়। সম্পদের মালিক কৃপণতা, স্বার্থপরতা ও লোভ থেকে মুক্ত হতে শেখে। আল্লাহ তাআলাই সম্পদের মূল মালিক, বিষয়টি প্রকাশ পায়। ফলে সম্পদের মোহ দূর হয় এবং মহান আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ পায়।

আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সম্পদ থেকে জাকাত গ্রহণ করো, যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে ও বরকতময় করতে পারো এর মাধ্যমে। আর তুমি তাদের জন্য দোয়া করো, নিশ্চয়ই তোমার দোয়া তাদের জন্য সান্ত্বনাস্বরূপ। বস্তুত আল্লাহ সবকিছুই শোনেন, জানেন।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১০৩)।

সম্পদের সুষম বণ্টন ও বৈষম্য হ্রাস : মানব সমাজে সম্পদ স্বাভাবিকভাবে কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এই কেন্দ্রীভূত সম্পদ সমাজে বৈষম্য, অসন্তোষ ও অস্থিরতার জন্ম দেয়। জাকাত সেই সঞ্চিত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ (২.৫%) দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের মধ্যে বণ্টনের বাধ্যতামূলক বিধান প্রদান করে। এর ফলে সম্পদ শুধু ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়ে সমাজের নিম্ন স্তরেও প্রবাহিত হয়।

আল্লাহ বলেন, ‘এবং তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৯)।

দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা : জাকাতের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ও মিসকিনদের সহায়তা করা। জাকাতের নির্ধারিত খাতগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যেখানে দরিদ্র, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত ও অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আট শ্রেণির লোকদের জাকাত প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘জাকাত হলো শুধু ফকির, মিসকিন, জাকাত উসুলের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী এবং যাদের মনোরঞ্জন করা উদ্দেশ্য তাদের হক। আর তা দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তের ঋণ পরিশোধ এবং আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের সাহায্যেও ব্যয় করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬০)।

অর্থনৈতিক প্রবাহ ও স্থবিরতা রোধ : অর্থনীতির একটি মৌলিক সমস্যা হলো সম্পদের স্থবিরতা। যখন সম্পদ সঞ্চিত হয়ে থাকে এবং বাজারে প্রবাহিত হয় না, তখন উৎপাদন ও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাকাতব্যবস্থা সম্পদ সঞ্চয় করে রাখাকে নিরুৎসাহ করে এবং তা বাজারে প্রবাহিত করতে উদ্বুদ্ধ করে। আমর ইবনু শুআইব (রহ.) থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী (সা.) জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিলেন। তিনি বললেন, ‘শোনো! যে লোক কোনো সম্পদশালী এতিমের তত্ত্বাবধায়ক হয়েছে, সে যেন তা ব্যবসায়ে খাটায় এবং ফেলে না রাখে। তা না হলে জাকাতে সেগুলো নিঃশেষ হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৪১)

রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করে : বাধ্যতামূলকভাবে জাকাত গ্রহণ করে সে অর্থ গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দরিদ্রতা দূরীকরণে ব্যবহার নিশ্চিত করলে একদিকে জাকাত আয়ের একটি উৎস হবে, অন্যদিকে ক্রমান্বয়ে রাষ্ট্রের ব্যয় কমতে থাকবে।

জাকাতের প্রতি গুরুত্বারোপ করে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত আদায় করো, তোমরা নিজের জন্য পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১১০)। অন্যত্র বলেন, ‘দুর্ভোগ মুশরিকদের জন্য, যারা জাকাত দেয় না এবং তারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না।’ (সুরা : হা-মিম আস-সাজদা, আয়াত : ৬-৭)।

Manual2 Ad Code

পরিশেষে বলা যায়, জাকাত ইসলামের একটি অনন্য ও কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে, দারিদ্র্য হ্রাস করে, অর্থনৈতিক প্রবাহ সচল রাখে।

Manual4 Ad Code

লেখক : অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

Manual1 Ad Code

বিডি-প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com