• সিলেট, রাত ৯:০৮, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লাইলাতুল কদর আজ

admin
প্রকাশিত মার্চ ১৬, ২০২৬
লাইলাতুল কদর আজ

Manual5 Ad Code

লাইলাতুল কদর আজ

Manual8 Ad Code

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

 

Manual2 Ad Code

২৬ রমজান দিবাগত রাতে অর্থাৎ ২৭ রমজানের রাতে প্রচলিত অর্থে শবেকদর পালিত হয়ে থাকে। বিভিন্ন রেওয়ায়েত অনুযায়ী মাহে রমজানের শেষ ১০ দিনের যে কোনো একটি বেজোড় রাত শবেকদর। ঠিক কোন বেজোড় রাত শবেকদর তা নির্দিষ্ট নেই এবং এমনকি প্রত্যেক রমজানে তা পরিবর্তিত হয়।

সহিহ বোখারির এক রেওয়ায়েতে রসুলুলাহ (সা.) বলেন- ‘রমজানের শেষ দশকে শবেকদর অন্বেষণ করো।’ সহিহ মুসলিমের রেওয়ায়েতে আছে- ‘শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে তালাশ করো।’

আরবি ‘লায়লাতুল’ আর পারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ ‘মহিমান্বিত’। অতীব তাৎপর্যপূর্ণ এ রাতের বিশেষ মর্যাদার কারণ নির্দেশ করে আল কোরআনের সুরা দুখান এবং সুরা কাদরে ইরশাদ হয়েছে- ‘শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি তো এ কিতাব অবতীর্ণ করেছি এক মুবারক রজনিতে, আমি তো সতর্ককারী। এ রজনিতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।’ (সুরা দুখান। আয়াত ২-৪)

আমি ইহা অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনিতে; আর মহিমান্বিত রজনি সম্বন্ধে তুমি কি জানো? মহিমান্বিত রজনি সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাত্রিতে ফেরেশতা ও রূহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। সেই রাত্রিতে শান্তিই শান্তি, যা থাকে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত। (সুরা কাদর। আয়াত ১-৫)।

Manual1 Ad Code

আল কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার গৌরবে দীপ্ত এই মহিমান্বিত রাতকে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত বলা হয়েছে। ইবনে আবী হাতেম বর্ণিত হাদিসে আছে একবার রসুল (সা.) সাহাবিদের কাছে বনি ইসরাইলের জনৈক মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। সে এক হাজার মাস পর্যন্ত অবিরাম জেহাদে মশগুল থাকে এবং কখনো অস্ত্র সংবরণ করেনি। সাহাবিরা এ কথা শুনে আক্ষেপ করছিলেন। তখন সুরা কদর নাজিল হয়।

সেই সূত্রে নবীজি (সা.) তাদেরকে জানালেন- আলাহ মুসলমানদেরকে এমন একটি রাত এনায়েত করেছেন শুধু সে এক রাতের ইবাদতকে ওই মুজাহিদের এক হাজার মাসের ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করা হয়েছে। সুরা কাদর অবতীর্ণ হওয়ায় উম্মতে মোহাম্মদির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়েছে। কুরতুবির ব্যাখ্যা অনুযায়ী শবেকদরের রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন- যে চারজন ফেরেশতাকে প্রত্যেক মানুষের জন্ম, মৃত্যু, রিজিক, বৃষ্টি ইত্যাদির তালিকা ও পরিমাণ এ রাতে হস্তান্তর করা হয় তারা হলেন- ইসরাফিল, মিকাঈল, আজরাঈল ও জিবরাঈল (আ.)। শবেকদরের মাহাত্ম্যের আরেকটি অন্যতম কারণ এ রাতে মানুষের কাছে আল কোরআন অবতরণ শুরু হয়। আল কোরআনের মাধ্যমে প্রথম যে বাণী মানুষের কাছে এসেছে তা হলো- ‘পাঠ করো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক হতে। পাঠ করো, আর তোমার প্রতিপালক মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।’ (সুরা আলাক। আয়াত ১-৫)।

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয় তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞায়, যা অর্জিত হয় শিক্ষার মাধ্যমে। আলাহ রব্বুল আলামিন মানুষকে শিক্ষার সবক দিয়ে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে সব জীবজন্তুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার শক্তি ও ক্ষমতা দিয়েছেন। মাহে রমজানে মানুষের এ মর্যাদা, সম্মান ও স্বীকৃতি তো রহমানুর রাহিমের তরফ থেকে সেরা নিয়ামত।

লেখক: সরকারের সাবেক সচিব ও এনবিআরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান

বিডি প্রতিদিন

Manual7 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com