সিলেটে ১০ অ প হ র ণ কা রী রি মা ন্ড শেষে কা রা গা রে : অপরাধ প্রমাণে ডিজিটাল এভিডেন্স
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট নগরীতে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী সংঘবদ্ধ চক্রের ১০ সদস্যের তিনদিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ রিমান্ড শেষে তাদেরকে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করলে আদালতের বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরআগে রবিবার (১৫ মার্চ) সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক শুনানী শেষে আসামীদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসময় আদালতের বিচারক মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে সাত কার্যদিবসের আসামীদের রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই মাসুদ আহমেদ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আসামীদেরকে রিমান্ডের জন্য থানায় নিয়ে আসেন। প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমে থানার একটি কক্ষে নিয়ে ্জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা সবাই নিজেদেরকে শিক্ষার্থী হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি তারা অপহরণ চক্রের সদস্য নয় বলে পুলিশকে জানায়।
সেই সাথে তারা এ ধরণের অপরাধের সাথে কোন ভাবেই জড়িত নয় বলে পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনার সময় জব্দকৃত মোবাইল ফোনের ডিজিটাল এভিডেন্সের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা অনেকেই কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।
তবে আসামীদের মধ্যে একজন পুলিশকে জানায়, আমরা বন্ধুরা আড্ডার ছলে ভুলবশত অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ি। আসলে এটার সাথে আমরা কেউই সম্পৃত্ত নন। কেউ কোন অপরাধের সাথে কোন দিনই জড়িত ছিলাম না।
আদালত সূত্র আরও জানায়, আসামীদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে আরও একটি মোবাইল ফোন মামলার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনে আসামীদের বাদী ও ভিকটিমের নির্যাতনের ভিডিও পাওয়া যায়। তাছাড়া তাদের নাম্বারে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আনার তথ্যও পায় পুলিশ।
এরআগে রবিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল নগরীর তাঁতীপাড়া এলাকার ‘নাজমা নিবাস’ নামের ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে ১০ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার হাজী বাহার উদ্দিনের ছেলে জাহিদ আহমদ (৪২) নামের আরেক প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সুহেল সরকার বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অপহরণকারীদের গ্রেফতার করার ধারালো চাকু, কেচি, লোহার রড ও স্টিক উদ্ধার করে। এরআগে ওই বাসায় জিম্মী ছিলেন সুহেল সরকার (২২) নামের আরেক যুবক। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সিলেটের মোগলাবাজার থানার গোটাটিকর এলাকার সেলিম আহমদ ও জানাত আরা নাজুর ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), উপশহর বি ব্লকের ১৫ নং রোডের ১৫নং বাসার মো. মোক্তাদির ও রনি বেগমের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার মন্ডলপুর গ্রামের মো. ফয়জুল করিম ও মোছা. শেফা বেগমের ছেলে বর্তমানের নগরীর হাওয়াপাড়া ৫৬নং বাসার বাসিন্দা জুবাইন আহমদ (১৯), জালালাবাদ থানার আমানতপুর গ্রামের আব্দুল মন্নান ও আসমা খানমের ছেলে বর্তমানে নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়া মোহিনী ১০২/৩০নং বাসার বাসিন্দা সুফিয়ান আহমদ (১৯), এয়ারপোর্ট থানার চৌকিদেখী এলাকার ৬৪/১নং বাসার মো. আনোয়ার মিয়া ও রোকেয়া বেগমের ছেলে মো. জাকির হোসেন (১৯), কাজীটুলা বিহঙ্গ-৭০নং বাসার আবুল হোসেন ও শেওলা বেগমের ছেলে মো. মারজান (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার রায়সত্তরপুর গ্রামের মো. সুজন মিয়া ও মোছা. স্বপ্না বেগমের ছেলে বর্তমানের নগরীর হাউজিং এস্টেটের বর্ণী-৪২নং বাসার বাসিন্দা মোসাদ্দেক আলী (১৮). হাওয়াপাড়া দিশামরী ৮১নং বাসার রুমান আহমদ ও মুন্নি আক্তারের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়ার মো. রতন ও কবিতা খানমের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) হাওয়াপাড়া দিশারী-৪৪নং বাসার মানিক মিয়া ও জোস্না বেগমের ছেলে মিজান আহমদ (১৮)।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁতিপাড়া পয়েন্ট এলাকায় থেকে সুহেল সরকার (২২) নামের এক যুবককে ১৪–১৫ জন দুর্বৃত্ত জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে তাঁতিপাড়ার নাজমা নিবাস নামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়। সেখানে অপহরণকারীরা ধারালো চাকু ও কেচি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তারা তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল থানাকে জানান। অভিযানের সময় আসামিদের হেফাজতে থাকা আরেক ভুক্তভোগী প্রবাসী জাহিদ আহমদকে (৪২) উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় খবর
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারদের কাছ থেকে দুই ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত কেচি, চাকু ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে।