• সিলেট, বিকাল ৪:৪৮, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফেঞ্চুগঞ্জে খাল খননে অ*নি*য়*ম বরদাস্ত করা হবে না: এমপি মালিক

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
ফেঞ্চুগঞ্জে খাল খননে অ*নি*য়*ম বরদাস্ত করা হবে না: এমপি মালিক

Manual8 Ad Code

ফেঞ্চুগঞ্জে খাল খননে অ*নি*য়*ম বরদাস্ত করা হবে না: এমপি মালিক

Manual3 Ad Code

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কুরকুছি খাল খননের কাজ এসেছে। এলজিইডি এর অর্থায়ন ও তত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাফি এন্টারপ্রাইজ কাজটি পায়।

Manual1 Ad Code

কুরকুছি খালের মল্লিকপুর গ্রাম থেকে সোনাপুর গ্রাম পর্যন্ত সোয়া ৪ কিলোমিটার খনন,ব্লক অন্যান্য কাজ করার কথা।

Manual4 Ad Code

১কোটি ২৫লাখ টাকা বাজেটের এ কাজে খালের দুই পারে ৭মিটার করে স্লোপ (ঢালু) ও খালের তলদেশ ১মিটার খনন করে গভীর করার কথা। সম্প্রতি কাজটি মল্লিকপুর গ্রামের দক্ষিন অংশ থেকে শুরু হয়। শুরুতেই এক্সেবেটর আনার কথা বলে খালের পশ্চিম পারের মানুষ বাড়ির পিছন দিকের লক্ষ লক্ষ টাকার গাছপালা ভেঙ্গে দেওয়া হয়। কাজের মধ্যে আছে খাল পারে উভয় দিকে ৭মিটার করে স্লোপ (ঢালু) করা কথা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায় ঢালু না করে খালপার কেটে চ্যাপ্টা দেখানো হচ্ছে!

অন্যদিকে খালের ভাঙ্গনের শিকার একাধিক পরিবার নিজের গাছপালা, গোয়ালঘর ইত্যাদির ক্ষতি মেনে নিয়েছিলেন যে খনন ঠিক মত হলে ভাঙ্গন থেকে বাচা যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খনন মূল কাজ শুরুই হয় নি। উল্টো খাল পারের মাটি খালের দিকে এনে ভরাট করা হচ্ছে।

প্রশ্ন করলে ঠিকাদারের নিযুক্ত লোক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এক্সেবেটর আসা যাওয়ার রাস্তা করা লাগবে। অন্যদিকে খালের পশ্চিম পারের বাড়িঘর ভেঙ্গে পুর্বপার ভরাট হয়ে চর হয়েছে। এ চর কেটে নদীর গতিপথ সোজা করার কথা থাকলে অজ্ঞাত কারনে সে মূল কাজটাই হচ্ছে না।

 

এ নিয়ে দুই গ্রামের লোকজন উত্তেজিত হয়ে জড়ো হলে খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ সহকারী কমিশন (ভূমি) মনিরুল ইসলাম এসে পরিদর্শন করে আব্দুর রাজ্জাক কে চর কেটে নদীর গতিপথ সোজা করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অমান্য করে এই রাতেও উলটো চরে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়! দুই দিন পরে আবারও এসিল্যান্ড, ফেঞ্চুগঞ্জ এলজিইডি এর সাব স্টেশন ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল ইসলাম, সার্ভেয়ার, তহশিলদার নিয়ে এসে গ্রামের লোকজনের উপস্থিতিতে মাপঝোঁক করে দেখেন এই চর পশ্চিম পারের মানুষের জায়গা। পশ্চিম পার ভেঙ্গে চর হয়েছে। খাল আরো অনেক পুর্ব দিকে। তার পরও অজ্ঞাত কারনে চর (বাক) না কেটে ঠিকাদারের লোকজন ভাটির দিকে গিয়ে খাল পার বড় করে গ্রামের ভিতর ঢুকতেছে! মুল কাজ না করে বেড বানানোর নামে খালপারের ক্ষতি করায় গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবজাল হোসেন ও এলজিইডির সাব স্টেশন ইঞ্জিনিয়ার বাচ্চু খানও পরিদর্শনে এসে অযৌক্তিক কাজ দেখতে পান। বাচ্চু খান এসব নিয়মবহির্ভূত কাজ করার দায়ে ঠিকাদার পক্ষের আব্দুর রাজ্জাক কে শাষিয়ে বলে যান, এ ভাবে বেড বানানো চলবে না৷ খালপারের মাটি এনে খালের ভিতরে ফেলা যাবে না। খনন হবে। খালের চর বাক এসব খনন করে মাটি সরিয়ে ফেলতে হবে।

 

গ্রামের মুরব্বি আব্দুল বারি বলেন এই আমার বাড়ির মরহুম সুনু মিয়ার ঘর এ খালে বিলিন হয়ে গেছে। আমাদের একটি কবরস্থানও খালে নাই হয়ে গেছে। এ পাশের মন্তাজ মিয়া, গেদই মিয়া, জিলাল মিয়া, ফরিদ উদ্দীন ও মাহফুজ পলাশের নিজস্ব জায়গা এখালের গর্ভে চলে গেছে। এসিল্যান্ড সাহেবের মাপঝোঁকেও তা প্রমান পাওয়া গেছে। প্রধান বাধা যেটা ঐ চরই। এই চরে স্রোত বাধাগ্রস্ত হয়ে ভাঙ্গন পার আরো ভাঙ্গে। এই জায়গাটা এতটা ভেঙ্গেছে যে শীত মৌসুমেও খালের পানিতে ঠাই মিলে না। সরকার খনন কাজ দিয়েছে খালের গভীরতা বাড়িয়ে, গতিপথ সোজা স্বাভাবিক করতে যাতে বন্যা ও স্রোতের আক্রমণ না হয়। কিন্তু এখানে কাজের কোন অর্থ মিলছে না।

এছাড়াও ঠিকাদার পক্ষ এক্সেবেটর নামানোর জন্য খালের পুর্ব দিকের সড়ক ভেঙ্গে ফেলে! বার বার অনুরোধ করার পরও সেটা মেরামত করে দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, স্টিমিট অনুযায়ী খালের গভীরতা ১মিটার বাড়ানো হোক। ৭মিটার করে স্লোপ করে, চর,বাক কেটে খাল সোজা করে না দিলে আগামীতে গ্রাম ভাঙ্গনের মূখে পড়বে।

এ ব্যাপারে দুদু মিয়া, চিকন মিয়া, কুনু মিয়া সহ গ্রামবাসী বলেন, খাল গভীরও করতেছে না, স্লোভও করতেছে না, চর হয়ে যে বাক সৃষ্টি হয়েছে সেটাও কাটতেছে না তাহলে তারা শুধুই সরকারি টাকা নষ্ট করতে এসেছে। এর মধ্যে বৃষ্টির সিজন শুরু হয়ে যাবে। বৃষ্টি হলে কাজ বন্ধ করে এরা চলে যাবে আর উল্টাপাল্টা কাটাকুটির কারনে আমরা আরো ভাঙ্গনে পড়বো।
এ কাজ সঠিক ভাবে না হলে ৩ গ্রাম কয়েকশো পরিবার বসে করণীয় বা কোন কর্মসূচি ঠিক করবেন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজটি গত বছর জুলাইয়ে শুরু করে এ বছর আগস্টে শেষ করার কথা।কিন্তু ঠিকাদার কাজ শুরুই করেছে চলতি ফেব্রুয়ারীতে! সামনে বৃষ্টি শুরু হবে।এ কাজ তারা কি ভাবে সম্পন্ন করবে আমরা বুঝতেছি না। এ ব্যাপার নিয়ে গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Manual1 Ad Code

খবর পেয়ে আজ বুধবার খনন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন

সিলেট -৩আসনের সাংসদ আলহাজ্ব আব্দুল মালিক।

তিনি পরিদর্শন শেষে বলেন, সরকার কাজ দিয়েছে মানুষের উপকারের জন্য। এখানে সঠিক কাজ করে যেতে হবে। ভাঙ্গন রোধ করতে চর বাক কেটে খালের গতিপথ সোজা করে দিতে হবে যাতে স্রোত ভাঙ্গনপারে আঘাত না করে। কাজের কোন অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেলে কোন রকম ছাড় দেওয়া হবে না। খনন কাজে স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের নজরদারি রাখতে বলেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ এসিল্যান্ড মনিরুল ইসলাম, এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ, উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আবজাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইকবাল চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক মতিউর রহমান মুকুল, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম তানিম, ইউপি সদস্য বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, ফেঞ্চুগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম মিটু, ইউপি সদস্য সুমন আহমেদ প্রমুখ।

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com