• সিলেট, রাত ৮:৩০, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শবেকদর :হাজার মাসের চেয়েও উত্তম যে রাত

admin
প্রকাশিত মার্চ ১২, ২০২৬
শবেকদর :হাজার মাসের চেয়েও উত্তম যে রাত

Manual8 Ad Code

শবেকদর :হাজার মাসের চেয়েও উত্তম যে রাত

অনলাইন ডেস্ক

 

পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকে মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ রাত হলো শবেকদর বা লাইলাতুল কদর। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। ফলে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান রমজানের শেষ দশকে এই রাতের সন্ধানে বিশেষভাবে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় সময় কাটান।

Manual6 Ad Code

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ অর্থাৎ প্রায় ৮৩ বছর চার মাসের ইবাদতের চেয়েও এই এক রাতের ইবাদতের সওয়াব বেশি। তবে ইসলামী গবেষকদের মতে, এই হিসাব শুধু ফজিলতের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন বা সহিহ হাদিসে এক মিনিট বা এক সেকেন্ড ইবাদতের সমান কত বছরের সওয়াব—এ ধরনের নির্দিষ্ট কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।

Manual7 Ad Code

সময়ের গাণিতিক মহিমা

​লাইলাতুল কদরের ফজিলতকে জাগতিক সময়ের ফ্রেমে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই রাতে ইবাদত করা জীবনের দীর্ঘ সময়ের আমলনামাকে সমৃদ্ধ করে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই রাতের মাত্র এক সেকেন্ডের ইবাদত সাধারণ সময়ের ২৩ ঘণ্টার চেয়ে বেশি সওয়াব বয়ে আনে। ​মাত্র এক মিনিটের জিকির বা প্রার্থনা সাধারণ সময়ের ৫৮ দিনের সমতুল্য। ​এক ঘণ্টার গভীর ইবাদত প্রায় ৯.৮ বছরের ইবাদতের সমান নেকি দেয়। ​আর পূর্ণ একটি রাত ইবাদতে কাটালে তা ৮৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে করা নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় শবেকদরের রাতে ইবাদত করে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০১; মুসলিম, হাদিস : ৭৬০)

হাদিসের ভাষ্য মতে, শবেকদরের নির্দিষ্ট তারিখ জানা নেই। তবে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে—২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ শবেকদর হওয়ার বেশি সম্ভাবনা আছে। এ কারণে মুসলমানরা শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগ দেয়। এই সময় শবকদরের খোঁজে ইতেকাফ করা সুন্নত।

অনেক মুসলমান তাই মসজিদে মসজিদে ইতেকাফ করে থাকেন। তাঁরা পার্থিব ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে পুরো সময়টা ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় কাটানোর চেষ্টা করেন।

শবেকদরের বিশেষ তাৎপর্য হলো, এই রাতেই মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর প্রথমবারের মতো পবিত্র কোরআন নাজিল হওয়া শুরু হয়েছিল।

শবেকদরে করণীয় হলো, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, নিজের ভুলত্রুটির জন্য তাওবা করা, যথাসাধ্য নফল নামাজ, তারাবি-তাহাজ্জুদ আদায়, বেশি জিকির-আজকার ও কোরআন তিলাওয়াত করা এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার সংকল্প নেওয়া। এই রাতগুলোতে বেশি বেশি দোয়া করারও বিশেষ গুরুত্ব আছে।

পরিশেষে আধুনিক ব্যস্ত জীবনে মানুষ ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারে না। কিন্তু শবেকদর এমন একটি সুযোগ, যখন অল্প সময়ের ইবাদতও আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করতে পারে।

এই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানো একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Manual1 Ad Code

 

বিডি প্রতিদিন

Manual2 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com