ওসমানীনগরে ৩টি খালের পুঃণ খননের উদ্বোধন
ওসমানীনগর প্রতিনিধি
বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনামলে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বিগত সময়ে এসব খাল দখল ও ভরাট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ঘন ঘন বন্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিপুর মৌজায় চম্পাতলি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনা, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট সিটি করর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কায়ুম, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশাসহ রাজনৈতিক ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিলেট জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এদিকে একই দিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হুমায়ুন কবির কালাসারা বিল থেকে মোতিয়ারগাঁও হয়ে কুশিয়ারা নদী অভিমুখী নাটকিলা খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। দুপুরে উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের একারাই গ্রামে নাটকিলা খাল পুনঃখননের উদ্বোধন ও খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের দয়ালং বিল থেকে খাদিমপুর অভিমুখী বড় খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জলাধার ও খালগুলো সচল থাকলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বজায় থাকে এবং কৃষি ও পরিবেশ উভয়ই উপকৃত হয়। তাই জলাশয় রক্ষা ও খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে টেকসই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশের জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জলধারা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকারের বৃহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৩টি জেলায় এই কর্মসূচী শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। খাল পুঃণ খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।