খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকের পাশে সরকার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি বলেছেন, দেশের খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের অবদান অপরিসীম। কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। এজন্য পতিত জমিগুলোকে চাষাবাদের আওতায় এনে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল প্রদান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং বিয়াম ল্যাবরেটরি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলায় তরমুজ, নাগা মরিচ ও টমেটো উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুবিধা বাড়াতে অচিরেই এ অঞ্চলে একটি সবজি হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রত্যেককে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ বাড়িতে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করলে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে মন্ত্রী জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হাসপাতালকে একটি আধুনিক ইসিজি (ইসিজি) মেশিন প্রদান করেন। এ সময় তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কোনো রোগীর প্রতি অবহেলা করা যাবে না। আধুনিক ইসিজি মেশিনের মাধ্যমে হৃদরোগের প্রাথমিক পরীক্ষা আরও সহজ ও দ্রুত হবে। ফলে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দূরে যেতে হবে না এবং সময়মতো চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
শিক্ষাখাতের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত, সুস্থ ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
বিয়াম ল্যাবরেটরি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন, বিজ্ঞানাগার (সায়েন্স ল্যাব) ও খেলাধুলার সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী আগামী অর্থবছরে বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ এবং খেলাধুলার সামগ্রী সরবরাহের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বাইসাইকেল প্রদানের উদ্দেশ্য হলো তাদের শিক্ষাজীবনকে সহজ করা। দূর-দূরান্ত থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং ঝরে পড়া কমাতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ সময় তিনি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবনসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সামছুল ইসলাম, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেব, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সালমান নূর আলম, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) উসমান গণি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হাফিজ, নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান করিম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এন ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সরওয়ার বেলাল, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতি দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।