• সিলেট, রাত ৮:২৫, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাদিস শরিফে এসেছে

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ৩১, ২০২৬
হাদিস শরিফে এসেছে

Manual3 Ad Code

মায়ের অসন্তুষ্টির কঠিন পরিণতি

Manual4 Ad Code

আল্লামা মাহ্‌মুদুল হাসান

Manual6 Ad Code

 

হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আলকামা রাজিয়াল্লাহু আনহু মৃত্যুশয্যায় শায়িত, কিন্তু তাঁর জবান থেকে কালেমা বের হচ্ছে না। সাহাবায়ে কেরাম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রসুল! আলকামা মৃত্যুর প্রহর গুনছেন! অথচ শত চেষ্টার পরও তাঁর জবানে কালেমা উচ্চারিত হচ্ছে না। দয়ার নবী আলকামা রাজিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে স্বয়ং চেষ্টা করলেন। আলকামা রাজিয়াল্লাহু আনহুর জবান থেকে সব কথা বের হয়, কালেমা উচ্চারিত হয় না। নবীজি চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে চক্ষু বন্ধ করে বসে গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলেন। ব্যাপারটা কী? অতঃপর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত আলকামা রাজিয়াল্লাহু আনহুর মাকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন, আলকামার জবান থেকে কালেমা বের হচ্ছে না কেন, সে কি কোনো অন্যায় করেছে? হজরত আলকামা রাজিয়াল্লাহু আনহুর মা বললেন, আমার আলকামা সোনার ছেলে, সে খুব নামাজি, দানবীর, গরিবের বন্ধু, হালাল-হারাম মেনে চলে, এক কথায় সে সব মহৎ গুণের অধিকারী, এমন সুসন্তান খুবই বিরল। অতঃপর রসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আলকামার প্রতি সন্তুষ্ট নাকি অসন্তুষ্ট? জবাবে তিনি বললেন, আমি তার প্রতি অসন্তুষ্ট। আলকামা বিবাহ করার আগে আমার অনেক আপন ছিল, বিবাহের পর থেকে এ পর্যন্ত আমি তাঁর আচরণে ব্যথিত। এ জবাব শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ব্যস, যথেষ্ট! আমার আর কোনো কথা শোনার প্রয়োজন নেই। আচ্ছা বলুন তো, আপনার ছেলে বেইমান হয়ে জাহান্নামে যাক, এটা কি আপনি চান? যদি তা-ই হয়, তাহলে এখনই তাকে আগুনে জ্বালিয়ে শেষ করে দিই। আর যদি আপনি আপনার ছেলের মঙ্গল ও কল্যাণ চান, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দিন। তা না হলে তার মৃত্যু বেইমান অবস্থায় হবে এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সতর্কবাণী শুনে আলকামা রাজিয়াল্লাহু আনহুর মা তাঁকে ক্ষমা করে দিলেন। কষ্ট পেয়ে ক্ষমা করলেও অন্তরে ব্যথা থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আপনি আমার মাথায় আঘাত করলেন, যার কারণে মাথা রক্তাক্ত হয়ে গেল। অতঃপর আপনি আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হলেন, আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিলাম। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, কেউ যদি তোমার কাছে ক্ষমা চায় তবে তাকে ক্ষমা করে দাও। এর ফলে আল্লাহপাকও তোমাকে হাশরের দিন ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু ক্ষমা করার পরও রক্তাক্ত করার ব্যথা অন্তরে থেকে যায়। তাহলে ক্ষমার দ্বারা কী লাভ? ক্ষমার দ্বারা লাভ হলো এই যে, হাশরের দিন এ অপরাধের বিচার হবে না। তবে আমাকে রক্তাক্ত করার কারণে আমার ছেলে-মেয়ে, পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনও যে ব্যথিত হয়েছে- এটা একটা মারাত্মক ব্যাপার।

Manual2 Ad Code

♦ লেখক : আমির, আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ

Manual7 Ad Code

 

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com