ড. কামালের দরজায় মাহীর লাথি
মন্জুরুল ইসলাম
২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অনেক নাটকীয় ঘটনা ঘটেছিল। যা কখনো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, তা-ও হয়েছিল। তার পরও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য বিএনপিসহ চারটি রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। ১৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক যাত্রা হওয়া এ ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দিতে হবে। আমরা জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা করছি-কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, জাতির স্বার্থে। এর জন্য নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।’ এর আগে বেশ কয়েকটি দল নিয়ে বিকল্পধারার সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল যুক্তফ্রন্ট। দুই হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে দুটি ফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সরকারের নানান ষড়যন্ত্রে কোনো ফ্রন্টই হালে পানি পায়নি। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরকার নিজস্ব স্টাইলে একটি নির্বাচন করে। দুপুরের মধ্যেই ৯৭ জন প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। সব বিরোধী দলকে নানান ফাঁদে ফেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিয়ে অনায়াসেই নির্বাচন ও নিজেদের বৈধতা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিল আওয়ামী লীগ। সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং বুঝতেই পারেনি বিরোধী দলগুলো। তবে সেই নির্বাচনকেন্দ্রিক নেপথ্যের কোনো কোনো ষড়যন্ত্র এখনো সচেতন মহলে যথেষ্ট আলোচিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করেও অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং হচ্ছে। নির্বাচনের আছে মাত্র এক মাস চার দিন। এই স্বল্প সময়ে যেন জাতিকে নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্য দলমতনির্বিশেষে গণতন্ত্র ও দেশপ্রেমী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
মোহাম্মদ আলী আরাফাত। সাবেক সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী। বিগত প্রায় ১৬ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি নানাভাবে আলোচিত ও প্রভাবশালী ছিলেন। বিশেষ করে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত তিনি দল ও সরকারে খুবই ক্ষমতাবান ছিলেন। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যরাও তাকে সমঝিয়ে চলতেন। কারণ তার ছিল অনেক পরিচয়। কখনো তিনি প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু। কখনো তিনি শিক্ষক। কখনো আওয়ামী লীগের থিংকট্যাংক। কখনো অভিনেত্রী শমী কায়সারের স্বামী। কখনো তিনি বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী। কখনো কলামিস্ট। কখনো নিজের নামে লিখতেন। কখনো লিখতেন ছদ্মনামে। কখনো সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। নানান পরিচয়ে পরিচিত এই আওয়ামী লীগ নেতা গোটা চারেক বিয়েও করেছেন। অত্যন্ত ভাগ্যবান সফল পুরুষ! ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই শহীদুল্লা কায়সার-কন্যা অভিনয়শিল্পী শমী কায়সারকে বিয়ে করার সুবাদে সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পরিবারের আত্মীয় হয়ে যান। শমী কায়সার মাহী বি. চৌধুরীর খালাতো বোন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে একদিন হঠাৎ করেই আরাফাত বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম অফিসে তার পরিচিতজনদের ফোন করে বলেন, ‘নিউজ রেডি রাখেন, কিছুক্ষণ পর মাহী বি. চৌধুরী ড. কামাল হোসেনের দরজায় লাথি দেবে।’ তার এ কথা শুনে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা রীতিমতো বিস্মিত, হতভম্ব হয়ে পড়েন। যেহেতু ঘটনা ঘটবে, সে কারণে বার্তাপ্রধানরা যার যার কর্মীদের বেইলি রোডে ড. কামালের বাসায় দ্রুত যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং অপেক্ষায় থাকেন শেষ পর্যন্ত কী হয় দেখার জন্য। এর ঠিক ১ ঘণ্টা পর ড. কামালের বাড়িতে যান মাহী বি. চৌধুরী এবং চিৎকার করে গালাগাল করতে করতে দরজায় লাথি মারেন। সেদিন সে সময় ড. কামাল বাসায় ছিলেন না। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন টেলিভিশনের স্ক্রলে তা প্রকাশ হয় ব্রেকিং নিউজ হিসেবে। এ ঘটনার নেপথ্য কারণ হলো, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিসহ কয়েকটি দল নিয়ে ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। ওই ফ্রন্ট ভেঙে দিতে ড. কামাল হোসেনকে ভয় দেখানোর জন্য আরাফাত তার আত্মীয় মাহীকে দিয়ে এমন নজিরবিহীন জঘন্যতম কাজটি করিয়েছিলেন। এ কাজের পুরস্কার হিসেবে মাহী বি. চৌধুরী, নগদ-নারায়ণ কী পেয়েছিলেন তা জানা নেই। তবে ওইদিন রাতেই তিনি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আরও অনেক চক্রান্ত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহননও করা হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে একটি প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা কিছু রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির গণমাধ্যমগুলোতে সরবরাহ করা হয়। ওইসব রিপোর্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে নানান অপতথ্যের উল্লেখ ছিল। ওই কর্মকর্তা শুধু গণমাধ্যমগুলোতে পৌঁছেই দেননি, গণমাধ্যমের সম্পাদক বা মালিকদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দিতেন। রিপোর্টগুলো গুরুত্বসহকারে ছাপানোর জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিতেন। গণমাধ্যমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বুঝতে পারতেন, রিপোর্টগুলোতে অপতথ্য আছে এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর রিপোর্ট ছাপানো ছাড়া ওই সময় তাদের কিছুই করার ছিল না।
এক ক্রান্তিলগ্নে অনুুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দল-সবাই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনমুখী যাত্রা করেছে। আবার যাত্রা ভঙ্গ করার জন্য দেশিবিদেশি চক্রও শক্তি সঞ্চয় করছে
ড. কামালের দরজায় মাহীর লাথিবর্তমান নতুন বন্দোবস্তে, নতুন পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ চলবে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২ হাজার ৫৮২ জন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামীকাল ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। এখন পর্যন্ত বৈধ আবেদনপত্রের সংখ্যা ১ হাজার ৮৪২টি। বাতিল হয়েছে ৭২৩টি আবেদনপত্র। যাদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাদের অনেকেই আপিল করছেন। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২১ জানুয়ারি। এই শিডিউল অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো পুরোদমে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। আসন্ন নির্বাচনে আপাতত তিনটি প্রধান জোট অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচন সামনে রেখে বেশ কয়েকটি জোটও হয়েছে। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এখন আমাদের সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে, এর মধ্যে কোনো আরাফাত বা কোনো মাহীর যেন জন্ম না হয়। নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র যেন না হয়। কোনো মহল কোনো অপকর্ম করার সাহস যেন না পায়। সবাইকে সম্মিলিতভাবে দেশের স্বার্থে নির্বাচনটা করতে হবে। তা না হলে দেশবাসীকে চরম মূল্য দিতে হবে।
রাজনীতি হলো জটিল অঙ্কের খেলা। বর্তমানে বসে অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পারলেই কোনো রাজনৈতিক দল কালোত্তীর্ণ হতে পারে। কোনো কারণে দল বিলুপ্ত হয়ে গেলেও নেতা বেঁচে থাকেন জনগণের মনে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অবদান অনেক। তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তবে মূলত তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নিয়েই আমৃত্যু রাজনীতি করে গেছেন। তিনি দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ছিলেন বলেই ১৯৫৭ সালের ৮ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কাগমারী সম্মেলন থেকে পাকিস্তানিদের ‘ওয়ালাইকুম আস্সালাম’ বলেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ তিনি তাঁর ওই কাগমারী সম্মেলনের বক্তব্যের মধ্যেই বপন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ ও নামে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। আওয়ামী লীগ সেই যুদ্ধে নেতৃত্বও দেয়। তবে দলের মধ্যে সুুবিধাবাদী নেতার সংখ্যা বেশি হওয়া ও দূরদর্শী নেতার শূন্যতার কারণেই তখনকার মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম দেন। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেকটা সময়জুুড়েই আলোচনা-সমালোচনায় ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু অপরাজনীতির কারণে চব্বিশের ৫ আগস্ট মুজিবকন্যা হাসিনার কারণে দলটিকে নির্মম পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াউর রহমান, পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রেসিডেন্ট জিয়ার অবর্তমানে তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলটিকে সফলভাবে পরিচালিত করেন এবং তিনবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। গত ৩০ ডিসেম্বর তিনিও চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। এখন দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিয়া-খালেদা দম্পতির পুত্র তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে দলকে সুসংগঠিত রেখে নির্বাচনের পথে তাঁর যাত্রা খুব সহজ বিষয় নয়। তেলবাজ, ধান্দাবাজরা ইতোমধ্যে তারেক রহমানকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করছে। একসময়ের সমমনা দল জামায়াতে ইসলামী এখন বিএনপির অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকলেও অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জামায়াত এখন দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি অতীতের বিভিন্ন সময়ের তুলনায় অনেক মজবুত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের জয়লাভের পর জামায়াতের প্রতিও অনেকের আগ্রহ বেড়ে গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের নেতৃত্বেই গঠন করা হয়েছে নির্বাচনি জোট। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোটবদ্ধ নির্বাচন নতুন নয়। তবে এবারের নির্বাচন অতীতের সব নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি জটিল এবং সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং হবে।
গতানুগতিক চিন্তা ও প্রচারণায় এবার ভোটের বাক্স ভরবে না। নতুন ভোটাররাও এখন অনেক বেশি স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করছেন। প্রত্যেকের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। বিভিন্ন শহরে যারা ভিক্ষা করেন তাদের অনেকেই এখন স্মার্টফোনে ভিডিও কল করে গ্রামের বাড়িতে কথা বলেন। বাটন ফোন এখন আর কেউ ব্যবহার করে না বললেই চলে। লাখ লাখ ডিজিটাল আইডি দিয়ে দেশবিদেশ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা আরও আগে থেকেই চালানো হচ্ছে। ডিজিটাল দুনিয়া যতটা না সুস্থ, তার চেয়ে অনেক বেশি অসুস্থ অপপ্রচারে ভরপুর। মানুষের মধ্যে দিনদিন মানবিক মূল্যবোধও কমে যাচ্ছে। কয়েকজন মিলে মব করে রাস্তায় প্রকাশ্যে কাউকে পিটিয়ে হত্যা করার মতো জঘন্য কাজ করলেও কেউ নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসে না। বরং চারদিক ঘিরে ভিডিও করে, কেউ কেউ আবার লাইভ সম্প্রচার করে ভিডিও কনটেন্ট বানায়। এমন এক ক্রান্তিলগ্নে অনুুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দল-সবাই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনমুখী যাত্রা করেছে। আবার যাত্রা ভঙ্গ করার জন্য দেশিবিদেশি চক্রও শক্তি সঞ্চয় করছে। সুতরাং দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে; সর্বোপরি চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদদের সম্মানার্থে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
manju209@yahoo.com
বিডি প্রতিদিন