পরিবেশ ক্রমেই অ স হি ষ্ণু, বি প জ্জ ন ক হয়ে উঠছে
আবু আহমেদ ফয়জুল কবির
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড আমাদের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরছে। কেন রাজনীতির মাঠে গুলির শব্দ? কেন মতের ভিন্নতা মোকাবেলা করা হচ্ছে প্রাণঘাতী সহিংসতার মাধ্যমে? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখন আর শুধু প্রয়োজন নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য এক জরুরি কর্তব্য।
বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের অগ্রভাগে বরাবরই ছিলেন তরুণরা।
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তরুণদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ সেই তরুণরাই রাজনৈতিক সহিংসতার প্রধান শিকার হতে দেখা যাচ্ছে। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকজন তরুণ রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু প্রমাণ করে, আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই অসহিষ্ণু ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
রাজনীতি মত প্রকাশের, সংগঠিত হওয়ার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হওয়ার কথা।
কিন্তু যখন রাজনীতিতে আগ্নেয়াস্ত্রের এ রকম ব্যবহার দেখা যায়, তখন তা শুধু আইন-শৃঙ্খলার ব্যর্থতাই নয়, সমাজ ও গণতন্ত্রের জন্যও এক ভয়াবহ হুমকি। অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এবং তার রাজনৈতিক ভাষার রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ও সদিচ্ছা উভয়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। সব রাজনৈতিক শক্তিকে এক সুরে সহিংসতা পরিহারের অঙ্গীকার করতে হবে।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সহনশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারই হওয়া উচিত গ্রহণযোগ্য পথ। প্রতিপক্ষকে শত্রু নয়, ভিন্নমতের রাজনৈতিক প্রতিযোগী হিসেবে যেখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
একই সঙ্গে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসায় ও হত্যাকাণ্ড রোধে যে ধরনের প্রতিরোধমূলক ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল, বাস্তবে তার ঘাটতি স্পষ্ট। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সহিংসতার এই ধারাবাহিকতা থামাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
লেখক : মানবাধিকারকর্মী
বিডি প্রতিদিন