সুনামগঞ্জ-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের ভরসা মাওলানা তোফায়েল
অনলাইন ডেস্ক
প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহুর্তে এসে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীতার দ্বন্দ্বের অবসান করলো জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার বিকেলে সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসার মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় মাওলানা তোফায়েল আহমেদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেন জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমান।
এসময় তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনটি প্রাথমিকভাবে নেজামে ইসলামী পার্টিকে দিয়েছিলাম। সার্বিক বিবেচনায় তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তাঁরা আমাদেরকে এই আসনটি উপহার দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দিক৷ আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ এবং মধ্যনগরসহ ৪টি থানা নিয়ে এই আসনটিতে দাঁড়িপাল্লাকে জয়ী করতে আহ্বান জানান তিনি।
এসময় তোফায়েল আহমেদের হাত ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমান।
এদিকে, জামায়াতের আমীরের ঘোষণার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের দলটির কর্মী-সমর্থকরা। শনিবার বিকেলে তাহিরপুরে উচ্ছ্বাস জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেন তাঁরা।
এব্যাপারে জেলা জামায়াতের আমীর ও সুনামগঞ্জ-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খান বলেন, দল আমাকে মূল্যায়ন করায় প্রথমেই মহান আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি। নির্বাচনী জনসভায় আমাকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের আমীরের ঘোষণার পর তৃণমূল পর্যায়ে নতুন আশা জাগিয়েছে। তাঁরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দাঁড়িপাল্লার নিরঙ্কুশ বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা এই লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। আমরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি।
এর আগে, সুনামগঞ্জের বৃহৎ সংসদীয় আসনে তোফায়েল আহমেদ খানকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেয় জামায়াত। তবে, ১১ দলীয় জোটের মেরুকরণে নেজামে ইসলামী পার্টিকে আসনটি ছাড় দিয়ে মাওলানা মোজাম্মেল হক তালুকদারকে মনোনয়ন দেয় ১১ দলীয় জোট। দলের নির্দেশনা অনুয়ায়ি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার কথা থাকলেও প্রত্যাহারের শেষদিন নাটকীয়ভাবে জামায়াতের প্রার্থী ও আমীরে জামায়াতকে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখেন বিক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা। প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ১১ দলীয় জোটের দুই প্রার্থী পৃথকভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসিলেন।
এদিকে প্রার্থিতার বিষয়র শেষ পর্যন্ত দলের অবস্থান পরিস্কার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দলের নেতৃবৃন্দ।