সিলেটে গণশুনানি: অভিযোগ পেয়েই ওসমানী মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দুদক চেয়ারম্যানের
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উাঠায় এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরিয়ান শেখর দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
রোববার দুপুরে নগরের রিকাবীবাজারের কবি নজরুল মিলনায়তনে দুদকের সমন্বিত সিলেট জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এই ঘটনা ঘটে।
গণশুনানিতে শেখর দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিশ্বজিৎ দাস নামে একজন জানান, শেখর দাস তাঁর কাছ থেকে চাকরির কথা বলে দুই লাখ টাকা নেন। কিন্তু পরে চাকরি না দিয়ে অর্থও ফেরত দেননি। অভিযোগ শোনার পরপরই দুদক চেয়ারম্যান বরখাস্তের নির্দেশ দিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া গণশুনানিতে মোট ৭৩টি অভিযোগের শুনানি হয়। বিভিন্ন দপ্তরের অভিযুক্ত কর্মকর্তারাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদকে শুধু দীর্ঘসূত্রতা নয়, দুদকে দুর্নীতিও আছে। আমরা সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগগুলো নিয়মিত রেইডের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি।’ সরকারি দপ্তরগুলোর সেবাদানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সিলেটের সাদাপাথর লুটকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাদাপাথর সেখানে ছিল না, পরে এসেছে এটা সত্য। এখানে কারা জড়িত, সেটা আপনারা আমাদের চেয়ে ভালো জানেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনারা কি তাঁদের পার্লামেন্টে চান।’
গণশুনানিতে পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ ছাড়া পাসপোর্ট না পাওয়া, হাসপাতালের ১৫ টাকার টিকিট ২০ টাকা নেওয়া, গ্যাস সংযোগে অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা–উন–নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, এসএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার মু. মাসুদ রানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।