‘স্পেশাল এবিলিটি সামিট সিলেট’ অনুষ্ঠিত
অনলাইন ডেস্ক
বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের মেধা, প্রতিভা এবং অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম ‘স্পেশাল এবিলিটি সামিট সিলেট’।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সিলেটের আমানুল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে হিউম্যান কেয়ার বাংলাদেশ-এর আয়োজনে এবং ট্রোপ ইভেন্টস ও জি.আই.ই.টি ইন্সটিটিউট-এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘A Celebration of Human Potential’ বা মানব সক্ষমতার উদযাপন।
হিউম্যান কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এমজি রাব্বানীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি সৈয়দা শারমিন ফাতেমা ও সাইকা তাবাসসুম চৌধুরী নাহিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হিউম্যান কেয়ারের উপদেষ্টা সামা হক চৌধুরী ও সায়মা সুলতানা চৌধুরী লিনু।
সম্মানিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে আমাদের সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। রাষ্ট্র ও সমাজকে যৌথভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এই অসাধারণ মানুষদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিলে তারা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম। এজন্য আমাদের কর্মপরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংবেদনশীল করতে হবে।’
সামিটে বিভিন্ন সেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পিপিএম, সিলেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির ক্ষুদ্র ও কুটির বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী, ড. মোস্তফা শাহ জামান বাহার, বিশিষ্ট সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেটের সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক হিসকিল গোলজার, দৈনিক পূর্ণভূমির সম্পাদক আবু তালেব মুরাদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক ইকরামুল কবির, রাজনীতিবিদ ফয়সল আহমদ চৌধুরী, বিশিষ্ট কবি ও রাজনীতিবিদ সালেহ আহমদ খছরু, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রফিক, ফুলকলীর ডাইরেক্টর জসিম উদ্দিন, সাংবাদিক মঈন উদ্দিন মনজু, সাংবাদিক আনিস রহমান, সাংবাদিক বিলকিস সুমি, হিউম্যান কেয়ারের সহ-সভাপতি রোটারিয়ান মাজহারুল ইসলাম জয়নাল, এস রহমান সায়েফ, মিলাদ রহমান ও মো. হাবিবুর রহমানসহ আরও অনেকে।
সামিটের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাকিয়া সুলতানা চৌধুরী লিমি চৌধুরী।
দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ভুল ধারণা ভাঙা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা’ শীর্ষক বিশেষ প্যানেল আলোচনা। এতে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম।
আলোচনা শেষে অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়কদের জন্য উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবা ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দানবীর ড. রাগীব আলী-কে হিউম্যান কেয়ারের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বিকেলে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, এমপি। তিনি বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে আমাদের সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। রাষ্ট্র ও সমাজকে যৌথভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’
এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এই অসাধারণ মানুষদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিলে তারা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম। এজন্য আমাদের কর্মপরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংবেদনশীল করতে হবে।’
সমাপনী অধিবেশনে বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা, সহায়তা ও উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সমাজসেবক, দানবীর ও শিল্পপতি ড. রাগীব আলী-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ শেষে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে সামিটের ইভেন্ট চেয়ার আলেয়া ফেরদৌসী তুলি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সামিটের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্য, অটিজম বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।