চামড়া শিল্পকে পরিপক্ক রপ্তানিমুখী করা হবে: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, ‘আমরা তো কাজ শুরু করেছি মাত্র, এখনো পরবর্তী কাজ করা বাকি। তবে একটা জিনিস বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করবো, এখনো চামড়া খাতের যে অপকথা হয়। হাজারিবাগ থেকে সাভারের স্থানান্তরের পরে এবং বিগত কয়েক বছরে চামড়ার দাম না পাওয়ার কারণে চামড়া ব্যবসায়ীদের যে অনীহা, রপ্তানিকারকদের মধ্যে যে একটা অনিশ্চয়তার দোলাচল, এরকম একটা অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে যে পরিমাণে চামড়া সংরক্ষণ হয়েছে। তা আলহামদুলিল্লাহ। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামী দিনে এই চামড়া শিল্পকে একটা পরিপক্ক রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরিত করার জন্য আমরা কাজ করবো।’
রবিবার (৩১ মে) বিকেলে সিলেট নগরীর শহীদ সুলেমান হলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথাগুলো বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে আমরা বিভাগীয় শহরগুলিতে স্লটার হাউস করবো। যে স্লটার হাউসের মাধ্যমে পশু জবাই হবে, চামড়া খুলে নেওয়া হবে, পশুর স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং হবে এবং মাংস কেটে যিনি কোরবানি দিলেন অথবা যিনি জবাই করালেন তার কাছে দিয়ে দেওয়া হবে। এবং এটি হবে অত্যন্ত পেশাগত দক্ষতার সাথে। তাহলে যে পরিমাণে স্লটার হাউসে পশু জবাই হবে, সেই চামড়া পুরোটাই সংরক্ষণ করতে পারব এবং পশু জবাইজনিত কারণে শহরগুলিতে বিভিন্ন কারণে আবর্জনা জমার সুযোগ পাবে না।’
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, ‘আমরা তো আগেই বলেছি, আমি যে হাজারিবাগ থেকে সাভারের স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় এই সমস্ত ট্যানারিগুলি ঝরে পড়েছে, ব্যবসা শুরু করতে পারেনি এবং তাদের মধ্যে যাদের এখনো উৎসাহ আছে, সক্ষমতা আছে, তাদেরকে আমরা ফ্যাসিলিটেট করবো। তারা যাতে নিজেরাই ইন্ডিপেন্ডেন্ট হতে পারে, সে জন্য কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তা দিব সরকারের পক্ষ থেকে।’
চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে ট্যানারিদের নিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের যে সেন্ট্রাল ইটিপি সেটের শোধন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, একটা ফিজিবিলিটি স্টাডি চলতেছে। সেটা সম্পন্ন করে দ্রুত কাজ করবো, যাতে পঁচিশ হাজার কিউবিক মিটারে পৌঁছে শোধন ক্ষমতা। এই সপ্তাহে যতগুলো ট্যানারি ফ্রেশ ব্যবসা করবে, সবটাকে আমরা এলডি গ্রুপ গোল্ড ক্যাটেগরিতে নিয়ে যাবো। এটাই হবে আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য। যারা পণ্য বিক্রয় করবেন, রপ্তানি করবেন দেশের বাইরে, তারা যেন তাদের এই পণ্যের সর্বোচ্চ বিনিময় পান, সেদিন ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে নিশ্চয়ই হবে।’
চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে তথ্য এসেছে আমরা সারা দেশব্যাপী প্রায় ছাপ্পান্ন লাখ পঞ্চাশ হাজারের বেশি চামড়া সংরক্ষণ পেয়েছি। এরপরেও আমরা আরও কিছু সংরক্ষণের আশাবাদী। এবং শুধু সিলেটে আমরা পঁচাশি হাজার টন চামড়া পেয়েছি। তো এই সংরক্ষণ মানে যারা কিনবেন, পরবর্তীতে তাদের কেনার প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি কখনো আমরা দেখি প্রত্যুত্তর প্রয়োজন, তাহলে আমরা প্রয়োজনবোধে ওয়ার্ডগুলো চার্জে নিতে পারব ।’
কার্গো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিমানে যে পরিমাণ কার্গো যায়, এক বছর আগে আমি যদি তিন-চার বছর আগের তুলনায় হিসাব করি, তো তিন-চার বছর আগের তুলনায় গত বছর প্রায় বিশ থেকে চল্লিশ পারসেন্ট কার্গোর হ্যান্ডলিং রিসিভ হয়েছে। কার্গোর মাধ্যমে আয় রিসিভ হয়েছে। এবং আমার যদি ভুল না হয়, গত বছর কার্গোর মাধ্যমে রপ্তানি ছিল বারোশো কোটি টাকার আশেপাশে। কিন্তু এটির বিপুল সম্ভাবনা আছে। এয়ার কার্গোর বিপুল সম্ভাবনা আছে। প্রথমে আমাদের এই কার্গো হ্যান্ডলিংটাকে এখনো এরিয়া রেট বিপর্যয়জনক লেভেল দিয়ে দিছে, রেড দিয়ে দিছে এই জায়গা থেকে বের হওয়া। ঢাকায় এয়ারপোর্টের যে স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি, যেটা পড়ে যাওয়ার পরে বিপদগুলো তৈরি না হওয়ার কারণে যে সমস্যা, সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করার জন্যই আমরা বসেছি। আগামী দিনে বিমান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গেও আমরা কিছু সভা করবো। এবং যেহেতু এই বিষয়টির সমাধান বের করে যাতে আমরা দেশীয় এবং বিদেশী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরায় অর্জন করতে পারি, এই বিষয়টাতে সেদিন আলোচনা করবো।
এর আগে সিলেট মহানগর বিএনপি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. মালিক, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. নাজমুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর, আমির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জামান রোজী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউল বারী খোরশেদ, সৈয়দ রেজাউল করিম আলো, আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জীবন, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা সম্রাট, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী এবং মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ প্রমুখ।