সিলেটে ‘আপা’ প্রসঙ্গে যে ব্যাখ্যা দিলেন ইউএনও আশা
ওসমানীনগর প্রতিনিধি
সিলেটের ওসমানীনগরে ক্রেতাসেজে উপজেলার তাজপুর বাজারে অবস্থিত বনফুল অ্যান্ড কোম্পানিতে বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা। আর এই বিষয়টিকে ভিন্নখ্যাতে গনমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার ব্যখ্যা দিয়ে তিনি জানান, তাজপুর বাজারে অবস্থিত বনফুল অ্যান্ড কোম্পানিতে বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ বেশ কয়েকদিন থেকেই আসছিল। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ও সতর্ক করা হয়েছে। ঈদের পরদিন ঘটনার সময় ভ্রাম্যমান আদালতের টিম বাইরে রেখে তিনি ক্রেতার বেশে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানিতে গিয়েছিলেন। সেখানে ক্রেতা সেজে মিষ্টি ক্রয়ের কথা বলেন। এসব মিষ্টি ভালো কিনা জানতে চাইলে তারা জানান, না এগুলা অনেক আগের। কতদিন আগের জিজ্ঞেস করলে কেউ জানান ঈদের তিনদিন আগের, কেউবা বলেন, ঈদের আগের দিনের। তখন তদের কাছে মিষ্টির চালান দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু তারা চালান দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে আদালতের টিম ভিতরে যায়। ইউএনও তার পরিচয় দিলে তারা চালান দেখান। চালানের সাথে মিষ্টির কোন মিল ছিলনা। তখন তারা জানায় সবুজ কালারের সন্দেস সামনেরগুলা পুরাতন, পিছনেরগুলা নতুন। এসময় তারা নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তখন ম্যানেজারকে ডাকার জন্য বললে দোকানের কর্মচারী ম্যানেজারকে ডাকতে গিয়ে আর আসেননি এবং নিজের মোবাইল ফোনও বন্ধ করে রাখেন। এতে তিনি অভিযুক্ত হন।
আশা জানান, পরবর্তীতে ম্যানেজার এলে তাকে জানানো হয় মামলা ছাড়া কোন উপায় নেই। অপরাধ তার সামনে সংগঠিত এবং উদঘাটনও হয়েছে। এ সময় ম্যানেজারও ক্ষমা প্রার্থনা করলে পালিয়ে যাওয়া কর্মচারীকে সামনে আনতে বলা হয়। পরে লোক পাঠিয়ে ওই কর্মচারীকে নিয়ে হাজির করা হয়। এসময় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জরিমানার টাকা পরিষদ করেন।
ইউএনও আরও জানান, তিনি যত সময় ওই প্রতিষ্ঠানে ছিলেন তত সময় একাধিকবার তাকে আপা সম্বোধন করেছেন অনেকেই। এটা তেমন কোন বিষয় না। একটা সময় আপা ডেকে হাতেপায়ে ধরে মাফ চাইতে এলে তিনি তাকে বলেছিলেন এখানে এক্সিউটিভ ম্যাজিস্টিট হিসাবে এসেছি। এই কথাটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে ‘সাংবাদিক সাহেব’ সংবাদ প্রকাশ করেন। বিষয়টি তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং মোবাইলকোর্ট পরিচালনার সময় পালিয়ে যাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। কোম্পানি তার কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে, তা মোবাইল কোর্টে বিচার্য নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে কোম্পানির নিজস্ব বিষয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম