• সিলেট, রাত ৮:২১, ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জীবন ও সময় যেভাবে বরকতময় হয়

admin
প্রকাশিত আগস্ট ৪, ২০২৬
জীবন ও সময় যেভাবে বরকতময় হয়

Manual3 Ad Code

জীবন ও সময় যেভাবে বরকতময় হয়

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

 

সময় আল্লাহ তাআলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। যে ব্যক্তি সময়ের মূল্য বোঝে না, সে প্রকৃত অর্থেই ক্ষতিগ্রস্ত। সময় থেকে বরকত শুধু সেই ব্যক্তির জীবন থেকেই উঠে যায়, যে এর অপচয় করে।

Manual5 Ad Code

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে বেশির ভাগ মানুষ প্রতারিত (ক্ষতিগ্রস্ত) : সুস্বাস্থ্য ও অবসর সময়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

তাই সময় ও সুযোগ হারানোর আগেই তার সদ্ব্যবহার করতে হবে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটির আগে মূল্য দাও : বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্বাস্থ্য, দারিদ্র্যের আগে সম্পদ, ব্যস্ততার আগে অবসর এবং মৃত্যুর আগে জীবন। ’ (মুসতাদরাক হাকিম, হাদিস : ৭৮৪৬)

অন্যদিকে ‘বরকত’ মানে কল্যাণ ও প্রাচুর্য। কোনো কিছুতে বরকত হওয়ার অর্থ হলো ওই জিনিসের মধ্যে কল্যাণ, প্রাচুর্য ও স্থায়িত্ব লাভ। যেমন-টাকা-পয়সার বরকত হওয়ার অর্থ টাকা-পয়সা মঙ্গল ও কল্যাণের পথে ব্যবহৃত হওয়া। যে কাজে টাকা-পয়সা ব্যয়িত হবে সে কাজের মঙ্গলময়তা ও কল্যাণময়তায় প্রাচুর্য সাধিত হওয়া এবং স্থায়িত্ব লাভ করা। জীবনকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য সময়ের বরকত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ যুগে সময় দ্রুত চলে যাবে

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের আগে সময় যেন দ্রুত অতিক্রম হবে। জ্ঞান কমে যাবে, ভূমিকম্প বৃদ্ধি পাবে, ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে এবং হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৩৬)

আরেক হাদিসে এসেছে-‘এমন সময় আসবে যখন এক বছর এক মাসের মতো, এক মাস এক সপ্তাহের মতো, এক সপ্তাহ এক দিনের মতো, এক দিন এক ঘণ্টার মতো এবং এক ঘণ্টা আগুন জ্বালানোর মুহূর্তের মতো মনে হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৩২)

আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এর অর্থ হতে পারে-সময়ের বরকত কমে যাওয়া, অথবা বাস্তবিক অর্থেই সময় দ্রুত অতিবাহিত হওয়া। আজও ঘণ্টা ৬০ মিনিট, দিন ২৪ ঘণ্টা এবং বছর ১২ মাসই রয়েছে; কিন্তু অনেকেই বলেন, ‘সময়ই পাই না।’ এর একটি বড় কারণ হলো সময়ের বরকত কমে যাওয়া। আলেমরা সময় খাটো হয়ে যাওয়ার কয়েকটি অর্থ করেছেন।

সময়ে বরকত লাভের উপায়

১. সময়ের মূল্য উপলব্ধি করা : সময়ই হলো মানুষের প্রকৃত মূলধন। এই সময় দিয়েই মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা অর্জন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি তার করা ভালো ও মন্দ কাজ সামনে উপস্থিত পাবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩০)

২. ভোরে কাজ শুরু করা : রাসুলুল্লাহ (সা.)দোয়া করেছেন-‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য তাদের সকালবেলার কাজে বরকত দান করুন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১২১২) ভোরে ইবাদত, পড়াশোনা ও কাজ শুরু করলে তাতে বরকত আসে।

৩. সময় সম্পর্কে জবাবদিহির কথা স্মরণ রাখা : রাসুলুল্লাহ (সা.)বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার দুই পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে-তার জীবন কোথায় ব্যয় করেছে, তার জ্ঞান কী কাজে লাগিয়েছে, তার সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করেছে ও কোথায় ব্যয় করেছে এবং তার শরীর কী কাজে ব্যবহার করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)

৪. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি।’ (সুরা : সাদ, আয়াত : ২৯)

Manual8 Ad Code

কোরআন তিলাওয়াত মানুষের সময়, জীবন ও কর্মে বরকত নিয়ে আসে। বহু আলেমের অভিজ্ঞতা ছিল-যত বেশি কোরআন পড়তেন, তত বেশি কাজ সহজ ও ফলপ্রসূ হতো।

Manual4 Ad Code

৫. সময় নষ্টকারী বিষয় থেকে দূরে থাকা : ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন, ‘সময় নষ্ট করা মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ; কারণ মৃত্যু তোমাকে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে, আর সময়ের অপচয় তোমাকে আল্লাহ ও আখিরাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে।’

সময় নষ্টের কিছু কারণ হলো অপ্রয়োজনীয় টেলিভিশন দেখা, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয়, উদ্দেশ্যহীন গেম খেলা, অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম বা রাত জাগা, অলসতা, কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস ইত্যাদি।

৬. অল্প সময়কেও কাজে লাগানো : সালাফে সালেহিন সময়ের এক মুহূর্তও অপচয় করতেন না। অবসর পেলেই তাঁরা কোরআন তিলাওয়াত, জিকির বা ইলম চর্চায় ব্যস্ত থাকতেন।

৭. নামাজের সময়ের সঙ্গে কাজকর্মের রুটিন তৈরি করা : দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষকে সময়ের গুরুত্ব শেখায় এবং জীবনের বিশৃঙ্খল রুটিনকে একটি সুনির্দিষ্ট ও পবিত্র শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সময়ের বাধ্যবাধকতা নিয়ে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)

৮. জীবনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা : শরিয়তে ‘ফিকহুল আওলাউইয়্যাত’ বা অগ্রাধিকার বিজ্ঞান নামে একটি পরিভাষা আছে। কোন কাজ আগে করতে হবে এবং কোন কাজটি পরে করতে হবে-ইসলামের দৃষ্টিতে তা সঠিকভাবে বোঝার নামই হলো অগ্রাধিকার বিজ্ঞান। ইমাম শাফেয়ি বলেছেন, একজন বুদ্ধিমান মানুষের উচিত তার কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা-প্রথমে জরুরি ফরজ দায়িত্ব, তারপর গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা। (কিতাবুল উম্ম : ১/৮৯) এভাবে সময়ের বরকত লাভ করা যায়।

Manual6 Ad Code

৯. অল্প সময়ে বেশি সওয়াব অর্জনের সহজ আমল : একবার ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বা ‘আল্লাহু আকবার’ বলা একটি সদকার সমান। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ কিয়ামতের দিন আমলের পাল্লা ভারী করবে। ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বললে জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। (তিরমিজি)

কোরআনের প্রতিটি অক্ষর পড়লে অন্তত ১০ নেকি লাভ হয়। সুরা ইখলাস তিনবার পড়া সম্পূর্ণ কোরআন খতমের সওয়াবের সমান এবং ১০ বার পড়লে জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণের সুসংবাদ আছে। ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ জান্নাতের অন্যতম অমূল্য ভাণ্ডার। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

পরিশেষে সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয়ের চেষ্টা করা উচিত।

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com