• সিলেট, সকাল ৭:৫১, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কর্মবিমুখ জীবন ইসলাম অনুমোদন করে না

admin
প্রকাশিত আগস্ট ৪, ২০২৬
কর্মবিমুখ জীবন ইসলাম অনুমোদন করে না

Manual2 Ad Code

প্রতীকী ছবি

Manual5 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

কর্মবিমুখ জীবন ইসলাম অনুমোদন করে না

 

অনলাইন ডেস্ক

 

মুসলমানের জন্য অলস বসে থাকা এবং জীবিকার অনুসন্ধান থেকে বিমুখ হওয়া বৈধ নয়। চাই সেটা ইবাদতের নামে হোক বা তাওয়াক্কুলের নামে হোক।

Manual7 Ad Code

কেননা আসমান থেকে স্বর্ণ-রৌপ্য বর্ষিত হয় না। যে মুসলমান নিজে এতটুকু অর্থ উপার্জনে সক্ষম, যা দিয়ে তার নিজের ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব, তার জন্য দান-সদকার ওপর নির্ভরশীল হওয়াও বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ধনী ব্যক্তির জন্য ও সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্য জাকাত গ্রহণ করা বৈধ নয়।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৬৩৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) যেসব বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছেন এবং মুসলমানের জন্য হারাম করেছেন তার একটি হলো ভিক্ষাবৃত্তি। ভিক্ষাবৃত্তি ও মানুষের কাছে হাত পাতলে ব্যক্তির সম্মান, মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যায়। নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে মানুষের কাছে চায় সে যেন জ্বলন্ত অঙ্গার আহরণ করে।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ২৪৪৬)

অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অপরের কাছে ভিক্ষা চায়, কিয়ামতের দিন তার চেহারায় ক্ষতচিহ্ন হবে এবং সে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর খাবে। অতএব, যার ইচ্ছা হয় (ভিক্ষা) কম করুক আর যার ইচ্ছা হয় বেশি করুক।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৫৩)

Manual5 Ad Code

তবে হ্যাঁ, কেউ যদি বিশেষ প্রয়োজনে, অপারগ হয়ে ভিক্ষা চায় অথবা রাষ্ট্র বা ব্যক্তির কাছে সাহায্য চায় তাতে কোনো সমস্যা নেই। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ভিক্ষাবৃত্তি হচ্ছে ক্ষতবিক্ষতকারী। মানুষ এর দ্বারা স্বীয় মুখমণ্ডল ক্ষতবিক্ষত করে। কাজেই যার ইচ্ছা ভিক্ষাবৃত্তি করে স্বীয় মুখকে ক্ষতবিক্ষত রাখুক। আর যে ইচ্ছা তা পরিহার করুক। তবে রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে চাওয়া কিংবা নিরুপায় হয়ে কিছু চাওয়ার বিষয়টি ভিন্ন।’
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৩৯)

অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) তিন ব্যক্তিকে মানুষের কাছে হাত পাতার অনুমতি দিয়েছেন। কবিসাহ বিন মুখারিক আল হিলালি (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার আমি (ঋণের জামিন হয়ে) বিরাট অঙ্কের ঋণী হয়ে পড়লাম। কাজেই আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে এ জন্য তাঁর কাছে চাইলাম। তিনি বললেন, জাকাত বা সদকার মাল আসা পর্যন্ত আমার কাছে অপেক্ষা করো। তা এসে গেলে আমি তোমাকে তা থেকে দেওয়ার নির্দেশ দেব। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি বললেন, হে কাবিসা! মনে রেখো, তিন ব্যক্তি ছাড়া কারো জন্য হাত পাতা বা সাহায্য প্রার্থনা করা হালাল নয়।-১. যে ব্যক্তি (কোনো ভালো কাজ করতে গিয়ে বা ঋণের জামিন হয়ে) ঋণী হয়ে পড়েছে। ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সাহায্য প্রার্থনা করা তার জন্য হালাল। যখন ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে তখন সে এ থেকে বিরত থাকবে।

২. যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হয়েছে এবং এতে তার সব সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। তার জন্য সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষণ না তার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়।

৩. যে ব্যক্তি এমন অভাবগ্রস্ত হয়েছে যে তার গোত্রের তিনজন জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোক সাক্ষ্য দেয় যে সত্যিই অমুক অভাবে পড়েছে তার জন্য জীবিকা নির্বাহের পরিমাণ সম্পদ লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত সাহায্য প্রার্থনা করা হালাল।

হে কবিসা! এই তিন প্রকার লোক ছাড়া আর সবার জন্য সাহায্য চাওয়া হারাম। অতএব, এই তিন প্রকার লোক ছাড়া যেসব লোক সাহায্য চেয়ে বেড়ায় তারা হারাম খায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০৪৪)

কোনো মানুষের কর্মবিমুখতার প্রধান কারণ হলো কিছু কিছু কাজ ও পেশাকে ছোট করে দেখা। মহানবী (সা.) এমনটি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি সাহাবিদের শিখিয়েছেন, যেকোনো কাজই সম্মানের, যদি তা হালাল হয়। অসম্মান হলো মানুষের ওপর নির্ভর করা। তিনি বলেন, ‘যদি তোমাদের কেউ রশি নিয়ে নিজের পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে আনে এবং তা বিক্রি করে, ফলে আল্লাহ তাকে (হাত পাতা থেকে) রক্ষা করেন, তা মানুষের কাছে চাওয়ার চেয়ে উত্তম, চাই তারা দিক বা না দিক।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪৭১)

সুতরাং মুসলমানের দায়িত্ব হলো কর্মমুখী হওয়া এবং পরনির্ভর জীবন থেকে বের হয়ে স্বাবলম্বী হওয়া। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দিন। আমিন।

লেখকের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com