• সিলেট, রাত ৪:৩২, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে লু*টে প্রকৃতির বিনাশ, পর্যটনের স*র্ব*না*শ

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
সিলেটে লু*টে প্রকৃতির বিনাশ, পর্যটনের স*র্ব*না*শ

Manual3 Ad Code

সিলেটে লু*টে প্রকৃতির বিনাশ, পর্যটনের স*র্ব*না*শ

মোহাম্মদ শাহ্ দিদার আলম চৌধুরী

 

পাহাড়ের বুক চিরে নেমেছে স্বচ্ছ জলধারা। নদীর বুকে বিছানো ধবধবে সাদা পাথর। দূরে মেঘে ঢাকা পাহাড়, কাছে সবুজের সমারোহ। কোথাও নীলাভ স্বচ্ছ জল, কোথাও সারি সারি চা-বাগান। আবার কোথাও বুক ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছের সারি। প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যের নাম সিলেট। জাফলং, বিছানাকান্দি, সাদাপাথর, রাতারগুল, লালাখাল, পান্তুমাই- প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র যেন প্রকৃতির আলাদা একেকটি ছবি।

তবে প্রকৃতি যেখানে দুহাত উজাড় করে দিয়েছে, সেখানে মানুষের অব্যবস্থাপনা যেন সেই সৌন্দর্য কেড়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নির্বিচারে বালু-পাথর লুট, পাহাড় কাটা, যত্রতত্র প্লাস্টিক-বর্জ্য ফেলা, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ- সবমিলিয়ে মানুষই যেন ‘বারোটা বাজাচ্ছে’ প্রকৃতি-পর্যটনের। এরপরও পর্যটনকে ঘিরে রয়েছে অপার সম্ভাবনা।

Manual3 Ad Code

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেটের পর্যটন বিকাশে প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা। আর এখনই প্রকৃতি রক্ষায় উদ্যোগী না হলে সর্বনাশ ঘটবে পর্যটনের। সিলেটে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে থাকে জাফলংয়ের নাম। জাফলংয়ে পৌঁছার আগেই সীমান্তের ওপারের সারি সারি পাহাড় আর চ‚ড়া থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণা দেখে শুরু হয় পর্যটকদের উচ্ছ্বাস। পাথরের উপর পিয়াইনের স্বচ্ছ জলরাশি, ডাউকি ঝুলন্ত ব্রিজ, মায়াবি ঝর্ণা, দেশের প্রথম সমতল চা বাগান আর আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা দেখতে দেখতে শেষ হয় তাদের প্রকৃতিকন্যা দর্শন। কিন্তু এই জাফলংয়েই এখন প্রকৃতি রক্ষার প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। বালু-পাথর লুট, দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে ইসিএভ‚ক্ত জাফলং এখন পার করছে দুঃসময়।

জাফলংয়ের পরই পর্যটকদের গন্তব্য হয়ে ওঠে সাদাপাথর। ধবধবে সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ জলস্রোত, আকাশের গায়ে হেলান দেয়া পাহাড় আর মাথার ওপর ভেসে বেড়ানো মেঘের ভেলা মুগ্ধ করে পর্যটকদের। কিন্তু সেই সাদাপাথরে পড়েছে কালোছায়া। বালু-পাথর লুটের কারণে ধলাই নদী হারিয়েছে স্বাভাবিক গতিপথ। নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। সবচেয়ে দুরাবস্থায় রয়েছে জল-পাথরের বিছানাকান্দি। ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটনকেন্দ্র থেকে অবাধে পাথরলুট ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণে এখন মৃতপ্রায় পর্যটনকেন্দ্রটি।

সিলেটের পর্যটনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল। বর্ষায় পানিতে গলা ডুবিয়ে থাকে বিশাল বনের সারি সারি গাছ। গাছের ডালে পাখির ডাক, নানা রকম পশুর দেখা, নৌকার বৈঠার শব্দ আর চারপাশের নীরবতা তৈরি করে অন্যরকম পরিবেশ। দেশের অন্যতম মিঠাপানির জলাবনও ভাল নেই। নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধি, পানিতে বর্জ্য ফেলা, শব্দদূষণ ও অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে রাতারগুলের জীববৈচিত্র্য রীতিমতো হুমকিতে।

 

Manual5 Ad Code

পর্যটনকেন্দ্র লালাখাল যেন পাহাড়ের কোলে আঁকা এক জলরঙের ছবি। নৌকা ভ্রমণে নেমে পান্নাসবুজ স্বচ্ছ পানির সৌন্দর্য্যে যেন হারিয়ে যান পর্যটকরা। অন্যদিকে সীমান্তঘেঁষা পান্তুমাইয়ে পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা জলপ্রপাত পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বর্ষায় জলধারা যখন প্রবল হয়ে ওঠে, তখন দূর থেকেই শোনা যায় পানির গর্জন। কিন্তু লালাখাল ও পান্তুমাই রক্ষায়ও নেই সরকারি-বেসরকারি কোন উদ্যোগ।

 

এর বাইরে সিলেটের চা-বাগান, খাদিমনগর উদ্যান, হাকালুকি হাওর, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজারসহ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও পর্যটনকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রকৃতি, ইতিহাস, ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ঘিরে সিলেটে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ থাকলেও সেদিকে নজর নেই কারও।

Manual2 Ad Code

সিলেটের পর্যটনের বিকাশে সবচেয়ে বড় অন্তরায় দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা। বেহাল সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, ট্রেনের টিকেট সংকট ও আকাশপথে বেশি ভাড়ার কারণে অনেকেই ইচ্ছা থাকাসত্তে¡ও সিলেটমুখী হন না। আর যারা পরিবার নিয়ে আসেন তাদেরকে আসা-যাওয়ায় পোহাতে হয় ভোগান্তি। এছাড়া পরিবেশ ও প্রকৃতি বিনাশী কার্যক্রম বন্ধে জোরালো উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতি বদলে যাবে। কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার মানুষের। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, ‘সিলেটের পর্যটন প্রকৃতিনির্ভর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতেই এখানে পর্যটকরা আসেন। কিন্তু আমরা প্রকৃতি রক্ষার চেয়ে বিনাশে বেশি ব্যস্ত। এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটনের সর্বনাশ ঘটবে। প্রকৃতি বাঁচলে সিলেটের পর্যটন বাঁচবে।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, “পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের সাথে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। সিলেটে নতুন নতুন পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জেলা প্রশাসন আন্তরিক রয়েছে। গেল কয়েক দিন আগে জৈন্তাপুরে একটি পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানের সন্ধান পাওয়া যাওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পর্যটনের বিকাশে সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

Manual3 Ad Code

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com