• সিলেট, রাত ১২:৫৩, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ৫, ২০২৬
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Manual8 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

‘শিক্ষক হচ্ছেন জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র-সমাজ গড়ার প্রধান হাতিয়ার’
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক

 

Manual2 Ad Code

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‌‘একজন শিক্ষক কর্মরত কিংবা অবসর জীবনে—যেভাবেই থাকুন না কেন, তার সুমহান পেশার কারণেই আমৃত্যু তিনি রাষ্ট্রের কাছে অবশ্যই সম্মানীয়। শিক্ষকগণই হচ্ছেন জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র-সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।’

তিনি বলেন, ‌‌‘মেধাবীদের কাছে শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দের পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। সম্মানিত শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন এবং প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে একজন সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হয়ে উঠবে।’

সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, ‘নিজেদের মেধা ও যোগ্যতায় যারা গুণী শিক্ষক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন, তাদের আবারও অভিনন্দন। সম্মানিত শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন এবং প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে একজন সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হয়ে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পার হওয়ার পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই হচ্ছেন ‘আদর্শ রোল মডেল’। শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে নিজেদের একজন রোল মডেল হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করতে পারেন, সে ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশ এবং আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সময়ে প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা বিকল্পহীন হয়ে উঠেছে। তাই ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং শিক্ষা সিলেবাসের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই হাতে পাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যাতে বইবিমুখ হয়ে না ওঠে, সে ক্ষেত্রে ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থ করার চেয়ে ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’- এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তোলা জরুরি। কৌতূহল থাকলে শিক্ষার্থী নিজেও নিজের শিক্ষক হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকার গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই স্কুলের সিলেবাস আধুনিকায়ন করেছে।

‘শিখন’ কৌশল হিসেবে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ সারাবিশ্বেই, বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণীয় হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে একটি নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যাতে আনন্দের সঙ্গে লেখাপড়া করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ। পর্যায়ক্রমে অন্য ক্লাসেও এই বই দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এমন একটি সময়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হচ্ছে, যখন শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে একদিকে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা, অন্যদিকে, রয়েছে বড় বড় চ্যালেঞ্জ। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স জ্ঞান অর্জনের সুযোগকে অবারিত করেছে। সার্টিফিকেটনির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে বর্তমানে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

Manual2 Ad Code

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনেও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর আরও আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিকে আমরা ‘শিক্ষক’-এর বিকল্প হিসেবে দেখতে চাই না। বরং প্রযুক্তি হবে শিক্ষকের শক্তি। এই লক্ষ্যেই সরকার ‘একজন শিক্ষক, একটি ট্যাব’ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিচ্ছে। একজন শিক্ষক তার ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন।

Manual5 Ad Code

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকবে না। শিক্ষাজীবনের যে কোনো পর্যায় থেকে কেউ কোনো কারণে ড্রপআউট হলেও যেন কাউকে বেকার থাকতে না হয়, সেটি নিশ্চিত থাকা জরুরি।

Manual2 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাজেট আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপ্তি অনেক বড়। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান এবং তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার বড় অংশই বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।

এজন্য এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষক শুধু তার বেতন কিংবা অবসরভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে ঘোরার প্রয়োজন নেই। যথানিয়মে যথাসময়ে তার প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমেই তাকে পৌঁছে দিতে হবে।

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com