সংগৃহীত ছবি
৫৫ বছরে সবজির দাম স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
দেশে গত ৫৫ বছরে সারা বছর সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে পরিকল্পিত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সবজির দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা বছর পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দেশীয় বাজারে ডালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিয়ে আয়োজিত সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা এবং দাম স্থিতিশীল থাকা দুটি আলাদা বিষয়। বাজারে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা সরবরাহের স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্যদিকে, পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকা মূল্যের স্থিতিশীলতার বিষয়। তিনি বলেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে কয়েক লাখ টন বেশি হলেও মৌসুমের বাইরে দাম বেড়ে যায়। একইভাবে শাকসবজির ক্ষেত্রেও মৌসুমভিত্তিক দামের তারতম্য দেখা যায়। এর কারণ, সারা বছর পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার মতো ব্যবস্থা দেশে গড়ে ওঠেনি।
এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোল্ড স্টোরেজের ব্যবহার বাড়িয়ে কিংবা যে সময়ে কোনো পণ্যের উৎপাদন কম থাকে, সে সময়ে উৎপাদনের ব্যবস্থা করে সারা বছর সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে মৌসুম পরিবর্তনের কারণে পণ্যের দামে বড় ধরনের ওঠানামা কমানো যাবে।
তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশে সারা বছর পণ্যের সরবরাহ একই রকম রাখার জন্য কোনো সরকারই পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়নি। এ কারণে মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের দামে ওঠানামা দেখা যায়।
শীতের সবজির দামের উদাহরণ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০ দিন আগেও যে সবজির দাম ১২০ টাকা ছিল, শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় এখন সেই দাম কমতির দিকে। আবার মৌসুমের শেষ দিকে সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যায়। সারা বছর সবজির দাম সহনীয় রাখতে হলে সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।
আগামী রমজানের জন্য পণ্যের আমদানি মূল্য ও জাহাজভাড়া বেড়ে গেলে ভোক্তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি পণ্যের বুকিংয়ের বিষয়টি মূলত বেসরকারি ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক কৌশলের ওপর নির্ভর করে। সরকার ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দামে পণ্য বুকিং দিতে বাধ্য করতে পারে না।
তিনি বলেন, কোনো পণ্য নির্দিষ্ট দামে বুকিং দেওয়ার পর রমজানের সময় বিশ্ববাজারে সেই পণ্যের দাম কমে গেলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আবার আমদানি করা পণ্যের পরিবহন ব্যয়ও আগে থেকে পুরোপুরি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। জাহাজে পণ্য বোঝাইয়ের সময় পরিবহনভাড়া নির্ধারিত হয়। ফলে পণ্যের দাম ও পরিবহন ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছু অনিশ্চয়তা থাকে।
বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম প্রত্যাশিত পর্যায়ে না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্যের পরিবর্তন, বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো নানা চাপের মধ্যেও বাজারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডিমের দামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ৫০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে তা আবার ৪০ টাকার ঘরে নেমে এসেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারের পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সরবরাহ ও দাম—দুটি বিষয়ই বিবেচনায় নিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে বাজারে দামের ওঠানামা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিডি-প্রতিদিন