সিলেটে সিআইডি কর্মকর্তাকে ছু রি কা ঘাত কারী নি ষি দ্ধ ঘো ষি ত ছাত্রলীগ নেতার যতো অ প ক র্ম
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে সিআইডি কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতকারী নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রহিম উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের প্রমাণ উঠে এসেছে। সিআইডি ও পুলিশী তদন্তে দেখা গেছে সিআইডি কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করা ছাড়াও সে ৬টি মামলার আসামী।
তার অপকর্মের ঘটনায় কানাইঘাট, কোতোয়ালী ও শাহপরাণ থানায় এসব মামলা হয়েছে। সিডিএমএস পর্যালোচনায় এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
রহিম উদ্দিন রাজু সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পশ্চিম কোনাগ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে। সে বর্তমানে নগরীর টিলাগড় শাপলাবাগ এলাকায় থাকতো। রাজু নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কানাইঘাটের এক নারীর ছবি সংগ্রহ করে এডিটিংয়ের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি তৈরি করে। এরপর ওই নারীকে যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করে হয়রানি করে। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ১২ মার্চ ওই নারী বাদী হয়ে রহিম উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনে মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া ২০১৭ সালের ২ ডিসেম্বর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনায় কানাইঘাট থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার আসামী ছিল সে।
পুলিশ জানায়, ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর সিলেট কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলার আসামী রহিম উদ্দিন রাজু।
২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর শাহপরাণ থানায় হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলারও আসামী রাজু।
২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) সংশ্লিষ্ট ধারায় কোতোয়ালী থানায় দায়েরকৃত মামলায় রাজু এজহারনামীয় আসামী ছিল।
এছাড়াও কোতোয়ালী থানায় দায়েরকৃত আরও একটি মামলার এজহারনামীয় আসামী ছাত্রলীগ নেতা রহিম উদ্দিন রাজু।
মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডি সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি ড. মো. আল মামুনুল আনসারী জানান, রহিম উদ্দিন রাজু সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ মামলার পলাতক আসামী ছিল। সোমবার রাত ৯টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির খোরশেদ আলম নগরীর সাগরদিঘীরপাড় এলাকায় তাকে গ্রেফতার করতে গেলে সে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে সিআইডি কর্মকর্তা খুরশেদ আলমের বাম বগলের নিচে প্রায় ৩ ইঞ্চি গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। রাতে অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তিনি ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন।
ভ্রমণ গাইড
এদিকে, মঙ্গলবার কোতোয়ালী ও এয়ারপোর্ট থানাপুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মজুমদারী এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে একটি ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়। যেখানে রাজুর পরিচয় হিসেবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য লেখা রয়েছে।
সিআইডি সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা জানান, রহিম উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে ৬টি মামলা রয়েছে।
সিআইডি কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম