• সিলেট, সকাল ৬:৪৭, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়োগ ও পদায়নে অ নি য় ম: নিয়ম ভে ঙ্গে ‘ডাবল’ পদোন্নতি

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১২, ২০২৫
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়োগ ও পদায়নে অ নি য় ম: নিয়ম ভে ঙ্গে ‘ডাবল’ পদোন্নতি

Manual3 Ad Code

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়োগ ও পদায়নে অ নি য় ম: নিয়ম ভে ঙ্গে ‘ডাবল’ পদোন্নতি

নিউজ ডেস্ক

Manual6 Ad Code

সরকারি মেডিকেল কলেজে ক্যাশিয়ার একটি ব্লক (বন্ধ) পদ। ক্যাশিয়ার থেকে কেউ পদোন্নতি পেয়ে স্টেনোগ্রাফার হতে পারেন না। কিন্তু তিনি ক্যাশিয়ার থেকে স্টেনোগ্রাফার হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি স্টেনোগ্রাফার থেকে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সচিব পদেও দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়োগ বিধি ভঙ্গের এ ঘটনাটি ঘটেছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে। ব্লক পদ ক্যাশিয়ার থেকে স্টেনোগ্রাফার ও সচিব ‘ডাবল পদে’ বহাল তবিয়তে আছেন মো. মাহমুদুর রশীদ দিদার।

নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী (জৈষ্ঠ্যতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা-২০১১ অনুসরন করা বাধ্যতামূলক। এ বিধিমালা যথাযথ অনুসরন না করে কোনো পদোন্নতি প্রদান অথবা পদোন্নতি কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।

নিয়োগ বিধি ২০১৮ বলছে, নন মেডিকেল কর্মচারী স্টেনোগ্রাফার পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্টেনোটাইপিস্ট পদে নূন্যতম ৫ বছরের চাকরি হতে হবে। একই সঙ্গে নন ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী (জৈষ্ঠ্যতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা-২০১১ যথাযথ অনুসরন করতে হবে।

বিধিমালা-২০১৯ ক্রমিক ৫ অনযায়ী, স্বাস্থ্য বিভাগের স্টেনোগ্রাফার পদে সরাসরি নিয়োগ প্রদান করতে হবে। এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্টেনোটাইপিস্ট পদ থেকে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট মেডিকেল কলেজের স্টেনোগ্রাফার (পিএ) মো. মাহমুদুর রশীদ ওরপে দিদার-এর পদোন্নতি বা পদায়নের ক্ষেত্রে উপরিল্লিখিত বিধিমালার কোনোটি-ই অনুসরন করা হয়নি। বরং তাকে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে একই সঙ্গে ‘ডাবল পদ’ দিয়েছেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী।

অভিযোগ রয়েছে, অনুজ কান্তি দাশ ছিলেন এই পদ পাওয়ার একমাত্র দাবীদার। তিনি ছিলেন ওই কলেজের স্টেনোটাইপিস্ট। তাকে পদোন্নতি দিয়ে স্টেনোগ্রাফার করা যেত।

বিধিমালা অনুযায়ী, স্টেনোটাইপিস্ট থেকে পদোন্নতি করা যায়। স্টেনোটাইপিস্ট পদেও যোগ্য লোক না থাকলে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার বিধি রয়েছে। তখন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রার্থীদের থেকে বাছাই করে স্টেনোগ্রাফার নিয়োগ করা যায়। কিন্তু বিধিমালার তোয়াক্কা না করেই মো. মাহমুদুর রশীদ দিদারকে পদোন্নতি দিয়ে স্টেনোগ্রাফার করা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে তিনি ক্যাশিয়ার থেকে এ পদোন্নতি পেতে পারেন না। কারণ, মেডিকেল কলেজে ক্যাশিয়ার পদ থেকে স্টেনোগ্রাফার হওয়ার কোনো বিধান নেই।

বিধিমালা অনুযায়ী, মো. মাহমুদুর রশীদ দিদার একজন ক্যাশিয়ার। ওই পদ থেকে স্টেনোগ্রাফার পদে পদোন্নতি হয় না। কিন্তু তাকে পদোন্নতি দিয়েছেন কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী। একটি বন্ধ পদ থেকে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। এখানে কর্মচারীদের জৈষ্ঠ্যতা ও চাকরির বিধি সম্মত বয়েস কোনোটি-ই মানা হয়নি। দুর্নীতির মাধ্যমে এ পদে মো. মাহমুদুর রশীদ দিদারকে পদোন্নতি দেওয়ায় অনেক যোগ্য লোক পদ বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমেদ ও তার পিএ মো. মাহমুদুর রশীদ দিদার মিলে ওসমানী মেডিকেল কলেজের নানা প্রকল্পে দুর্নীতি করার উদ্দেশ্য নিয়ে এ নিয়োগ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছিলেন।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর মো. মাহমুদুর রশীদ দিদার সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করেন। ২০১৬ সালে কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী। বিধিমালা না মেনে তিনি একটি অবৈধ নিয়োগ কমিটি করেন। সেই নিয়োগ কমিটি বিধিমালার শর্ত ভঙ্গ করে মো. মাহমুদুর রশীদ দিদারকে স্টেনোগ্রাফার পদোন্নতি দেয়। অথচ, ক্যাশিয়ার থেকে তিনি পদোন্নতি পেয়ে স্টেনোগ্রাফার হতে পারেন না।

২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত কাগজে স্টেনোগ্রাফার হিসেবে কলেজে যোগদান করেন মো. মাহমুদুর রশীদ দিদার। একটি ব্লক পদ থেকে দিদার শুধু স্টেনোগ্রাফার-ই হননি, ডা. মোর্শেদ আহমেদ তাকে বানিয়েছিলেন একই কলেজের সচিব। ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সচিব পদেও দায়িত্ব দেওয়া হয় দিদারকে। যা স্বেচ্ছাচারিতা বলেই মনে করছেন কলেজ সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, সরকারি এ কলেজের যে অধ্যক্ষ পদোন্নতি দিয়ে স্টেনোগ্রাফার বানিয়েছিলেন দিদারকে, সেই অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়োগে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়োগে দুর্নীতির কারণে ডা. মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি চার্জশীট আদালতে জমা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, মো. মাহমুদুর রশীদ দিদার একই সঙ্গে ডাবল পদে থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের নানা প্রকল্পে দুর্নীতি ও লুটপাট করেছিলেন। তিনি ডা. মোর্শেদ আহমেদের ঘনিষ্টজন হওয়ায় এসব প্রকল্পে দুর্নীতি ও লুটপাট করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

Manual6 Ad Code

দুদক এ নিয়োগ তদন্ত করলে দিদারের দুর্নীতির সন্ধান পাবেন বলে মনে করছেন কলেজের সংশ্লিষ্টরা। তা- না হলে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক স্টেনোটাইপিস্ট ভুক্তভোগী অনুজ কান্তি দাশ অভিযোগ করে বলেন,‘আমি এ পদে আসতে পারিনি সেটা বিষয় নয়। নিয়োগ বিধিমালা লঙ্ঘন করে একজন অযোগ্য লোককে এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো। আবার তাকে সচিব পদেও পদায়ন করা হলো-অথচ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমি চাই, এ দুর্নীতি খতিয়ে দেখে বিভাগীয় ও দুদক আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ-এর স্টেনোগ্রাফার (পিএ) ও সচিব মো. মাহমুদুর রশীদ দিদার বলেন,‘আমার পদোন্নতি অবৈধ নয়। আমাকে সাবেক অধ্যক্ষ মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরীর নিয়োগ কমিটি পদোন্নতি দিয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ-এর সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন,‘ পিএ দিদার-এর বিষয়ে আমাকে অনেকেই বলেছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবগত করলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। আর পিএ দিদার-এর নিয়োগ আমার আমলে হয়নি। তাই এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না।’

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘যাদের এ পদ প্রাপ্য ছিলো, সেই বঞ্চিতরা যদি এ বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম আবু হানিফ বলেন, ‘ভুক্তভোগী কেউ যদি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, তা হলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরেও বিষয়টি পাঠানো হবে। তবে অবশ্যই লিখিত অভিযোগ ও ডকুমেন্টস পাঠাতে হবে।’

Manual3 Ad Code

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়-এর উপপরিচালক নাজমুস সাদাত রাফি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। যদি লিখিত অভিযোগ পাই, তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো। কারণ, যে পদ থেকে পদোন্নতি হয় না, সেখান থেকে পদোন্নতি অবশ্যই দুর্নীতি। আমরা চাচ্ছি, সিলেটকে দুর্নীতিমুক্তকরণ রোল মডেল প্রকল্প হিসেবে নিবো। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি তদন্ত করা হবে।’

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com