গা ন ম্যা ন, নি রা প ত্তা, অ স্ত্র চেয়েছেন জামায়াতের ডা. শফিক
নিউজ ডেস্ক
সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ। কেউ চেয়েছেন পুলিশের একটি দল তাকে নিরাপত্তা দিক। কেউ চেয়েছেন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী বা গানম্যান। কেউ চেয়েছেন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে এসব আবেদন আসছে। কেউ কেউ নিরাপত্তা ও অস্ত্রের লাইসেন্স একই সঙ্গে চেয়েছেন।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সিলেটের বাসিন্দা হলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা ১৫ আসন থেকে লড়বেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা, গানম্যান অথবা অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে এখন পর্যন্ত ১৫ জন রাজনীতিবিদের আবেদন তাদের কাছে এসেছে। সংখ্যাটি দিন দিন বাড়ছে। অনেকে খোঁজ নিচ্ছেন, কীভাবে আবেদন করতে হয়। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ২৫ জনের মতো সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখ প্রমুখের জন্য।
জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের পক্ষ থেকে আমিরের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জানা যায়, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয় ১৭ ডিসেম্বর।
১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ভোট গ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোটের প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। রাজনৈতিক দলগুলো এখন প্রার্থী চূড়ান্ত করা, জোটের আলোচনাসহ নির্বাচন-সংক্রান্ত কাজ করছে। তবে নিরাপত্তার প্রশ্ন জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে ১৪ ডিসেম্বর ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫’ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও সশস্ত্র রক্ষী নিয়োগে এই নীতিমালা করা হয়।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয় ১৭ ডিসেম্বর। দলের অফিস সেক্রেটারি আ ফ ম আবদুস সাত্তার আবেদনটি করেন। এতে বলা হয়, দলীয় প্রধান হিসেবে শফিকুর রহমানের দলীয় কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তিনি সারা দেশে পথসভা ও জনসভায় অংশগ্রহণের জন্য সফর করবেন। তাই তার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন জরুরি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দলের আমিরের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে সরকার বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তার জন্য একইভাবে আবেদন জানানো হবে।