• সিলেট, সকাল ৭:৫৮, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলায় গ্রেপ্তার ১৭, অভিযান চলছে: ডিএমপি

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০২৫
প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলায় গ্রেপ্তার ১৭, অভিযান চলছে: ডিএমপি

Manual7 Ad Code
প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলায় গ্রেপ্তার ১৭, অভিযান চলছে: ডিএমপি

অনলাইন ডেস্ক

দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সহিংসতা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৭ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত ৩১ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৭ জন ব্যক্তিকে। এর মধ্যে থানা-পুলিশ ১৩ জন, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ৩ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

Manual6 Ad Code

 

থানা-পুলিশ যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, তাঁদের মধ্যে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ নাইম, মোহাম্মদ আকাশ, আহমেদ সাগর, মো. আবদুল আহাদ, মো. নজরুল ইসলাম (মিনহাজ), মো. জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ সোহেল রানা, মো. আবদুল বারেক শেখ (আল আমিন), রাশেদুল ইসলাম, সোহেল রানা ও শফিকুল ইসলাম।

Manual7 Ad Code

সিটিটিসি গ্রেপ্তার করেছে মো. প্রান্ত শিকদার (ফয়সাল), আহম্মেদ প্রান্ত ও আবুল কাসেম রাজু হোসাইনকে। আর ডিবি গ্রেপ্তার করেছে মো. সাইদুর রহমানকে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার নাইমের কাছ থেকে লুট করা নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এই টাকা দিয়ে তিনি একটি টিভি ও একটি টাচ ফ্রিজ কেনেন। এগুলো জব্দ করা হয়েছে।

 

Manual7 Ad Code

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব ঘটনায় যাঁরা সরাসরি অংশ নিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছেন। আরও গ্রেপ্তার হবে।’

নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবাদ বা ক্ষোভ প্রকাশ এক বিষয়, আর তার আড়ালে অফিসে ঢুকে আগুন দেওয়া, ভাঙচুর করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এসব কাজ অনাকাঙ্ক্ষিত। এগুলো ‘ব্যাড ইনটেনশন’ থেকে করা হয়েছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজছে না। হামলায় জড়িতরা দুষ্কৃতকারী। তারা আইন ভেঙেছে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। তাই জড়িতরা যে দলেরই হোক বা যে মতেরই হোক, দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে তাদের বিচার হবে।’

Manual8 Ad Code

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪ ধারায় নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীকে ধরতে সহায়তা করার অধিকার জনগণের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ কারণে শুধু এই ঘটনাই নয়, অন্যান্য মামলার আসামিদের ক্ষেত্রেও এলাকাবাসীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে সহিংসতা ছড়ানোর প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে মুহূর্তের মধ্যে ভুল তথ্য ও উসকানি ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে সহিংসতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, তখন ঘটনাস্থলে চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল। তুলনামূলক কম জনবল নিয়ে কঠোর অভিযানে গেলে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতো। সে কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সংযম দেখানো হয়েছে। কোনো মানবজীবনের ক্ষতি হয়নি—এই বড় ঘটনায় এটাকেই তাঁরা অর্জন হিসেবে দেখেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শাহবাগ মোড়ে লোকজন জড়ো হয়। পরে তারা কারওয়ান বাজারের দিকে চলে যায়। রাত আনুমানিক সোয়া ১১টা থেকে দিবাগত রাত ২টা-আড়াইটা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে প্রথমে প্রথম আলো, পরে দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট চালানো হয়। ঘটনাগুলো ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়। রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় প্রথম আলো ইতিমধ্যে মামলা করেছে বলে উল্লেখ করেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ডেইলি স্টারের মামলা প্রক্রিয়াধীন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ব্রিফিং। আজ সোমবার দুপুরে

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com