ভোলাগঞ্জে পাথরের গাড়ি থেকে একরাতেই পুলিশের ২ লাখ টাকা চাঁ দা বা জি
অনলাইন ডেস্ক
এদিকে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এর পরোয়া করেন না এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রায়ই তিনি পাথরের গাড়ির লাইন দিয়ে চাঁদাবাজি করেন। এর আগেও গত শুক্রবার দিবাগত রাতে শাহ আরেফিন টিলার পাথরবাহী ট্রাক্টর থেকে লাইনের নামে লক্ষাধীক টাকা চাঁদাবাজি করেন। তাছাড়া প্রতিদিন পাথর বুঝাই ট্রাক্টর গাড়ি আটক করে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পুরনো। নিত্যদিন পাথর বুঝাই ট্রাক্টর গাড়ি আটক করে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে এসে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন তিনি। শনিবার দিবাগত রাতে উজানপাড়া এলাকায় ২টি পাথর বুঝাই ট্রাক্টর গাড়ি আটক করেন। পরে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই গাড়িগুলো ছেড়ে দেন। এভাবে এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন দিনে শুধু পাথরের গাড়ি থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছেন।
এদিকে গত প্রায় ৩ মাস আগে এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেন থানার ওসি। ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্ব পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। পুলিশ ফাঁড়ির নিচ থেকে বালু বিক্রি, দয়ার বাজার এলাকার বালু পাথরের গাড়ি থেকে চাঁদা নেওয়া, শাহ আরেফিনের গর্ত থেকে নায়েব নবাবকে দিয়ে চাঁদাবাজি করানো ও রাস্তা গাড়ি আটকিয়ে চাঁদাবাজি যেন তার নিত্যদিনের ঘটনা। এলাকার লোকজনকে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ আমি কাউকে ভয় করিনা। আমরাই দেশ চালিয়েছি কে কি বলবে আমাকে।
থানা-পুলিশের একটি সুত্রে জানা গেছে এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ওসিকে পাত্তা দিতে চান না। তিনি ওসির কথা মানতে নারাজ। তাই ওসির নির্দেশ অমান্য করে হরহামেশাই করছেন চাঁদাবাজি। গত সপ্তাহে শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর পরিবহন বন্ধ করতে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাস্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করেন। ওসি পাথর পরিবহন বন্ধ করার জন্য পুলিশের টহল পাঠালেও এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদেরকে দিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করে দেন।
এ বিষয়ে এএসআই মিজানুর রহমান বলেন, আমি রাতে শাহ আরেফিন টিলার গাড়ি আটকাতে টহলে ছিলাম। আমাদের থেকে অনেক দূর দিয়ে পাথরের গাড়ি চলেছে। আমি কোন গাড়ি থেকে টাকা নেইনি।
এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন গাড়ি চলার খবর আমরা পেয়েছি। এএসআই মিজান আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে। আমরা একটা গাড়িও আটক করেছি। তবে এএসআই মিজানুর রহমানকে দিয়ে চাঁদাবাজি করানোর বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকির হোসাইন বলেন, এ বিষয়টি আমি কিছুই জানি না তবে খবর নিচ্ছি। কেউ অপরাধ করছে পার পাবে না।