• সিলেট, রাত ৮:৫৮, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তীব্র শীতে কাঁপছে পাহাড়

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৭, ২০২৬
তীব্র শীতে কাঁপছে পাহাড়

Manual5 Ad Code

তীব্র শীতে কাঁপছে পাহাড়, বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি

Manual5 Ad Code

ফাতেমা জান্নাত মুমু,রাঙামাটি

 

Manual1 Ad Code

সকাল গড়িয়ে বিকেল হলেও সূর্যের দেখা মেলে না। সময়ের সঙ্গে সন্ধ্যা নামে, চারপাশ ঢেকে যায় ঘন কুয়াশায়। রাতে শুরু হয় কনকনে শীত। এমন পরিস্থিতি টানা এক সপ্তাহ ধরে বিরাজ করছে পার্বত্য অঞ্চলে। সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে পাহাড় যেন তীব্র শীতে কাঁপছে।

Manual3 Ad Code

এই শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। ঠান্ডার কারণে কাজ হারাচ্ছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা। রাঙামাটি শহরের তুলনায় উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শীতের প্রকোপ আরও বেশি। ঘন কুয়াশার কারণে মাঠে নামতে পারছেন না কৃষকেরা। বেলা পর্যন্ত খালি পড়ে থাকছে পাহাড়ি সবজির বাগান। এতে নষ্ট হচ্ছে শীতকালীন সবজি। একই সঙ্গে পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখনো তেমন কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় বন ও বৃক্ষের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ঘন কুয়াশা ও শীতলতা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। ফলে সমতলের তুলনায় পাহাড়ে শীতের অনুভূতি বেশি হয়। এর প্রভাব পড়ছে রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মানুষের জীবনে—কাপ্তাই, কাউখালী, রাজস্থলী, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, লংগদু, বরকল, নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়িতে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। চারদিকে পাহাড়, ঘন বন-জঙ্গল ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকায় বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে।

Manual6 Ad Code

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার স্থানীয় কৃষক মো. রুবেল বলেন, “এত তীব্র শীতে প্রায় সবজিই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডার কারণে বাগানে কাজ করা যাচ্ছে না। ফলন ভালো হলেও সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। কোনো শ্রমিক কাজ করতে রাজি না।”

একই কথা জানান নানিয়ারচর উপজেলার বাসিন্দা সোনাধন চাকমা। তিনি বলেন, তীব্র ঠান্ডার কারণে মাঠে কাজ করা যাচ্ছে না। সামান্য শীতবস্ত্র দিয়ে এমন ঠান্ডা সামলানো কঠিন। অনেকেই ঘরের ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকছেন। যারা কাজে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ দেখা দিচ্ছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলার ঝুনু দে বলেন, বাঘাইছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। শীতের কারণে বাজার ঠিকমতো বসছে না, দোকানপাটও খুলছে না। নিম্ন আয়ের মানুষের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। এখনো কেউ সহায়তার হাত বাড়ায়নি।

রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস জানায়, বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এবং জেট বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসায় তাপমাত্রা নেমে গেছে। ফলে সারাদেশের সঙ্গে পাহাড়ি এলাকাতেও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আরও কয়েক দিন থাকতে পারে। এটি একটি মাঝারি মাত্রার মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আজ রাঙামাটিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে অনুভূত হচ্ছে প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো।

বিডি-প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com