আরাফা দিবসের ফজিলত
মুফতি হেলাল উদ্দিন হাবিবী
হিজরি সনের জিলহজ মাসের নবম দিনটিকে আরাফার দিন বলা হয়। পবিত্র এই দিনে হজ পালনকারীগণ তালবিয়া পাঠ রত অবস্থায় মিনা থেকে আরাফার ময়দানে গিয়ে সমবেত হন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। আর এটাই হজের প্রধান রুকন।
মহিমান্বিত এই দিনে আরাফার ময়দানে হজরত আদম (আ.) এর সঙ্গে হজরত হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলন হয় এবং এখান থেকেই তাঁদের তওবা মহান রবের দরবারে কবুল হয়। রসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার ময়দানের জাবালে রহমত নামক ছোট পাহাড়ে দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। যা ইতিহাসে বিদায় হজের ভাষণ হিসেবে পরিচিত। সংগত কারণেই ইসলামে আরাফার দিন ও স্থানের মর্যাদা অপরিসীম।
বছরের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম দিন হলো আরাফার দিন। একজন ইমানদারের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় হলো আরাফা দিবসে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আরাফার দিনের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই। পালনকারীএই দিনে আল্লাহতায়ালা পৃথিবীবাসীকে নিয়ে গর্ব করে বলেন, ‘তোমরা আমার ওইসব বান্দাদের দেখো, যারা বিক্ষিপ্ত ও এলোমেলো চুল নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আমার রহমতের আশায় এবং শাস্তির ভয়ে এখানে সমবেত হয়েছে। অথচ তারা আমার আজাব দেখেনি, সুতরাং আরাফার দিনের চেয়ে বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তির আর কোনো দিন নেই।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান)
মহিমান্বিত এ দিবসে আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের ওপর তাঁর দীন ও নেয়ামতের পরিপূর্ণতা প্রদানের ঘোষণা করেছেন। মহান আল্লাহ এ ব্যাপারে ইরশাদ করেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসেবে পছন্দ করলাম।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত-৩)
সম্মানিত পাঠক! বুখারির এক বর্ণনায় এসেছে, একদা ইহুদিরা হজরত ওমর (রা.)-কে বলল, আপনারা এমন একটি আয়াত পাঠ করেন, যদি তা আমাদের ওপর নাজিল হতো তাহলে আমরা ওইদিন উৎসব পালন করতাম। হজরত ওমর (রা.) বলেন, আমি অবশ্যই জানি, সে আয়াতটি কী এবং কখন কোথায় নাজিল হয়েছে। আয়াতটি নাজিল হয়েছে আরাফার দিন। আল্লাহর কসম! রসুলুল্লাহ (সা.)-সহ আমরা তখন আরাফার ময়দানে ছিলাম। আয়াতটি হলো : আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। (সুরা মায়েদা, আয়াত-৩)
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আরাফার দিনের মতো আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। এই দিনে আল্লাহ দুনিয়ার নিকটবর্তী হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, কী চায় তারা? (সহিহ মুসলিম)
♦ লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক
বিডি প্রতিদিন