কানাইঘাটের সীমা বাজারে পশুর অ বৈ ধ হাট
নিজস্ব প্রতিবেদক
এবার সিলেটের প্রশাসন কোরবানীর পশুর অবৈধ হাট নিয়ে বেশ কড়াকড়ি অবস্থানে। কোথাও কোনো অবৈধ হাট বসানো যাবেনা, এমন কঠোর নির্দেশনা থাকলেও কানাইঘাটের ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের সীমা বাজারে দিব্যি চলছে অবৈধ হাট। এতে আশপাশের বৈধ হাটের ইজারাদাররা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তেমনি স্থানীয়দের মধ্যেও চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা। অবশ্য প্রভাবশালী একটা সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখও খুলছেন না।
জানা গেছে, এ বছর কানাইঘাটের ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নে মাত্র একটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। সেটি মুকিগঞ্জ বাজার। অথচ ঢাকঢোল পিটিয়ে সীমার বাজারের পশুর হাটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শুধু প্রচরণাই নয়, বিনা ইজারায় দিব্যি বাজারে কোরবানীর পশু বেঁচাকেনাও শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট উপজেলা প্রশাসন ও থানাপুলিশকে ম্যানেজ করে বাজার চালিয়ে যাচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বৈধ হাটের ইজারাদাররা।
জানা গেছে, সরকার একবার সীমা বাজার ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করলে স্থানীয় প্রভাবশালী জনৈক শামসুদ্দিন উচ্চ আদালতে রিট করেন (নং ২৪৬২/২০১০)। তার দাবি ছিল, বাজারটি সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানাধীন। তাই ইজারা দেওয়া যাবেনা। এরপর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে উচ্চ আদালত ইজারা দেওয়ার উপর তিন মাসের একটি স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।
এরপর আর কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি বলে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ সুপ্রীস কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখার সুপারিনটেনডেন্টের এক নথিতে উল্লেখ পাওয়া গেছে। ২০১৬ সাল থেকেই প্রতিবছর ওই প্রভাবশালী মহল বাজারটি নিজেরাই ইজারা দিয়ে পকেট ভরছে। অনেকটা ডামি সরকারের মতো ব্যাপার স্যাপার।
প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই প্রভাবশালী মহলের কারণে সীমার বাজারের অনেক দোকান মালিকই তাদের ভূমি নামজারি করতে পারছেন না।
আশপাশের বৈধ হাটগুলোর ইজারাদারদের কয়েকজন জানিয়েছেন, আমরা সরকারি কোষাগারে টাকা দিয়ে ইজারা নিয়ে বাজার চালাচ্ছি। আর তারা প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে কোনো ট্যাক্স না দিয়েই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
জানতে চাইলে ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবক্কর বলেন, এখানে বাজার বসে। যারা বাজার বসিয়েছে তারা শুনেছি প্রশাসনের সঙ্গে মামলার ডকুমেন্ট নিয়ে কথাবার্তা বলেছে। এর বেশি আর কিছু আমি জানিনা।
তিনিও বাজারের সাথে জড়িত প্রভাবশালীদের নাম উল্লেখ করতে রাজি হন নি।
কানাইঘাট থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) আমিনুল ইসলাম সিলেটভিউকে বলেন, এরকম কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই পশুর হাট চলছে। তবে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানালেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বললেন, আমাদের অনুমোদনহীন কোনো বাজার বসানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ পশুর হাটগুলোর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের মোবইলে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। তবে সহকারী কমিশনার তানভীর হোসাইন সজীব বলেন, অবৈধ পশুর হাট বসালে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তেমন নির্দেশনা দেওয়া আছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম