• সিলেট, রাত ১২:৫৩, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইমান একজন মুসলমানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ

admin
প্রকাশিত জুলাই ১০, ২০২৬
ইমান একজন মুসলমানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ

Manual4 Ad Code

ইমান একজন মুসলমানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ

ফিতনাসংকুল সময়ে ইমান রক্ষার উপায়
শায়খ আহমাদুল্লাহ
অনলাইন ভার্সন
ফিতনাসংকুল সময়ে ইমান রক্ষার উপায়

Manual2 Ad Code

শায়খ আহমাদুল্লাহ

Manual1 Ad Code

ইমান একজন মুসলমানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র সনদ। ইমানহীন মানুষ লক্ষ্যহীন, উদ্ভ্রান্ত ও দুর্ভাগ্যগ্রস্ত। ইমান যেমন মহামূল্যবান, তেমনি অত্যন্ত সংবেদনশীলও। এটি অর্জন করা যেমন পরম সৌভাগ্যের বিষয়, তেমনি অসতর্কতার কারণে ইমান হারিয়ে দুর্ভাগ্যগ্রস্তদের কাতারে শামিল হয়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। বর্তমান যুগ ফিতনার যুগ। চারদিকে বিভ্রান্তিকর মতবাদ, নৈতিক অবক্ষয়, ভোগবাদ, মিথ্যা প্রচারণা এবং হারামকে স্বাভাবিক করে তোলার প্রবণতাসহ নানাবিধ ফিতনা দিনদিন বিস্তার লাভ করছে। ফলে এই সময়ে ইমানের ওপর অবিচল থাকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

Manual5 Ad Code

রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে অন্ধকার রাতের খণ্ডের মতো ফিতনা গোটা সমাজে ছেয়ে যাবে। তখন সকালের মুমিন সন্ধ্যায় কাফিরে পরিণত হবে।’ (তিরমিজি)। আজ চারদিকে নিত্যনতুন ফিতনার যে ঝড় বইছে, তাতে মনে হয় আমরা যেন কেয়ামতপূর্ব সেই সময়ের মধ্য দিয়েই অতিক্রম করছি। তাই এই ফিতনাসংকুল সময়ে ইমানের ওপর অবিচল থাকতে হলে ইমান সম্পর্কে বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন, যেসব কারণে ইমান দুর্বল বা বিনষ্ট হতে পারে সেসব বিষয় জানা এবং ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার উপায় সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ইমানের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ও উদ্বিগ্ন থাকতেন। একবার হানজালা (রা.) অনুভব করলেন, নবীজি (সা.)-এর সান্নিধ্যে থাকলে তাঁর অন্তর আল্লাহমুখী থাকে; কিন্তু নবীজির (সা.) থেকে দূরে গেলে স্ত্রী-সন্তান, ধনসম্পত্তি ও দুনিয়াবি ব্যস্ততায় অন্তরের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যায়। তিনি বিষয়টি আবু বকর (রা.)-কে জানালে তিনিও বললেন, আমারও তো একই অবস্থা। (মুসলিম)

এখান থেকে আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় হলো, নবীজি (সা.) তখন তাঁদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন এবং ফিতনার নিত্যনতুন ঝড়ও আজকের মতো প্রবল ছিল না। তবু তাঁরা নিজেদের ইমান নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। অথচ আজ নানা ধরনের ইমানবিধ্বংসী ফিতনা আমাদের চারপাশ ঘিরে ধরেছে, কিন্তু সে তুলনায় আমাদের সচেতনতা ও আত্মসমালোচনা নেই। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিজের ইমানকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া। ১. সঠিক জ্ঞান অর্জন : ফিতনাসংকুল সময়ে ইমান রক্ষার প্রথম ধাপ হলো সমসাময়িক ফিতনাগুলো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা। বিনোদন, খেলাধুলা কিংবা সংস্কৃতির নামে কীভাবে ইমানবিধ্বংসী চিন্তা ও জীবনদর্শন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা গভীরভাবে বোঝা। শিক্ষার নামে নাস্তিকতা, ভোগবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তার প্রসার, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে মানুষের রুহানিয়াত দুর্বল করে দেওয়া, স্বাধীনতা কিংবা অধিকারচর্চার নামে সমকামিতা ও অন্যান্য অনৈতিক বিষয়কে স্বাভাবিক করে তোলার প্রচেষ্টাসহ এসব বিষয়ে সচেতন হওয়া। কারণ যে ব্যক্তি ফিতনাকে চিনতে পারে না, তার পক্ষে ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা করা অসম্ভব।

২. তাকওয়া অবলম্বন : আল্লাহভীতি বা তাকওয়া হলো মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল। হালাল-হারামের প্রশ্নে কোনো আপস না করা, আল্লাহর প্রতিটি নির্দেশ বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেওয়া এবং গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে সর্বদা আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা মুমিনের কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর, তবে তিনি তোমাদের জন্য সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করার শক্তি (ফুরকান) দান করবেন, তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।’ (সুরা আনফাল, ২৯)

৩. কোরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা : যে ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিই সৃষ্টি হোক না কেন, প্রথমেই দেখতে হবে কোরআন ও সুন্নাহ কী নির্দেশনা দিচ্ছে। মানুষের মত, আবেগ, সামাজিক চাপ বা প্রচলিত সংস্কৃতিকে নয়; বরং আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সা.)-এর নির্দেশনাকেই সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকবে, ততদিন কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। সেই দুটি বিষয় হলো, আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ।’ (মুয়াত্তা মালেক)

Manual6 Ad Code

৪. দোয়া করা : মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দোয়া। ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর সাহায্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই সব সময় সঠিক পথে অবিচল থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া ও জিকির পাঠ করা এই সময়ে অত্যন্ত জরুরি। ৫. বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী চলা : কোনো দিকে প্রভাবিত হওয়ার আগে বিজ্ঞ, আমানতদার ও তাকওয়াবান আলেমের কাছে বিষয়টি জানা এবং তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। নয়তো ফিতনাসংকুল সময়ে সাধারণ মানুষের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।

♦ জুমার মিম্বর থেকে

গ্রন্থনা : নুরুল ইসলাম তানঈম

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com