ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৪ শতাংশ দিতে হবে কৃষি খাতে
অনলাইন ডেস্ক
চলতি অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার একটি ব্যাংকের মোট ঋণের অন্তত চার শতাংশ কৃষিতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা দিয়ে এই লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এত দিন মোট ঋণের অন্তত আড়াই শতাংশ কৃষিতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে, গত অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এই নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তিনি কৃষি ঋণ কর্মসূচির তদারকি জোরদার করতে একটি বিশেষ ‘ওয়েব বেসড এগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস সফটওয়্যার’ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালার উল্লেখযোগ্য ও নতুন বিষয়
এবারের নীতিমালায় বেশকিছু নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য প্রচলিত স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলবদ্ধ জামানত ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে, নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এই অর্থায়ন সহজ করা হয়েছে। শস্য, ফসল এবং মৎস্য খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলের বিভিন্ন আয়-উৎসারি কর্মকাণ্ডে দলবদ্ধভাবে ঋণ দেওয়া যাবে এবং দলের সদস্য সংখ্যার সীমা শিথিল করা হয়েছে।
নীতিমালায় নতুন খাত হিসেবে হ্যাচারিতে মাছ ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনের মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ব্লুবেরি ফল, শিমুল মূল, অর্শ্বগন্ধা ও ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের মতো নতুন নতুন খাতকে ঋণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রকৃত কৃষক যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহার করা হবে। ঋণ পাওয়ার জন্য পাসবই থাকার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কৃষকদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করে, এই সময়োপযোগী নীতিমালা দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিডি প্রতিদিন