সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যানের সাথে সারেগ কার্যকরি কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট এন্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ (সারেগ) কার্যকরি কমিটির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় সারেগের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এসময় ডেভেলপার কোম্পানীর সুযোগ সুবিধা নিয়ে রিয়েল এস্টেট কোম্পানীসমূহের ন্যায্য দাবি ও প্রস্থাবনা তুলে ধরা হয়।
সিলেটের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, নগরায়ন, আবাসন চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সিলেটের রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো বেসরকারি খাতে পরিকল্পিত আবাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তবে নকশা অনুমোদন, ডেভেলপার নিবন্ধন, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং নীতিগত অস্পষ্টতার কারণে রিয়েল এস্টেট খাতের অনেক প্রকল্প বাস্থবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং রিয়েল এস্টেট খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হলে সিলেটে আরও দ্রুত, পরিকল্পিত ও টেকসই নগর উন্নয়ন সম্ভব।
এ প্রেক্ষাপটে সিলেটের রিয়েল এস্টেট কোম্পানিসমূহের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ পেশ করা করেন- ১. রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার নিবন্ধন সহজ ও স্বচ্ছ করা। নিবন্ধন ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শর্তাবলি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে, ২. নিবন্ধন ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ। সিলেটের বাজার বাস্তবতা, কোম্পানির সক্ষমতা ও ব্যবসার পরিধি বিবেচনা করে নিবন্ধন এবং নবায়ন ফি যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে। ৩. নকশা অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নকশা অনুমোদনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং অপ্রোয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে হবে। ৪. ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা নকশা অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবার জন্য পর্যায়ক্রমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন দপ্তরে অযথা ঘুরতে না হয়। ৫. সম্পূর্ণ অনলাইন আবেদন ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু। আবেদন, ফি প্রদান, নথি দাখিল এবং আবেদনটির বর্তমান অবস্থান অনলাইনে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ৬. অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের সময়সীমা নির্ধারণ। আবেদন জমা থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করতে হবে। ৭. বিল্ডিং কোড ও নীতিমালার সহজ নির্দেশিকা প্রকাশ। সেটব্যাক, ভবনের উচ্চতা, পার্কিং, অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় সহজবোধ্য বাংলায় প্রকাশ করতে হবে। ৮. নতুন নীতিমালা প্রণয়নের আগে অংশীজনের মতামত গ্রহণ রিয়েল এস্টেট খাতকে প্রভাবিত করে এমন নতুন কোনো নীতিমালা, ফি বা শর্ত আরোপের আগে ডেভেলপার, প্রকৌশলী, স্থপতি ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। ৯. নিয়মিত সমন্বয় সভার আয়োজন। রিয়েল এস্টেট খাতের সমস্যা ও উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে প্রতি দুই বা তিন মাস অন্তর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ে সমন্বয় সভা আয়োজন করতে হবে। ১০. নিবন্ধিত ও আইন মেনে চলা কোম্পানির জন্য প্রণোদনা। যেসব কোম্পানি নিবন্ধিত, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করে এবং আইন ও নীতিমালা মেনে চলে তাদের জন্য দ্রুত সেবা, বিশেষ অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। ১১. সিলেটের বাস্তবতার আলোকে উন্নয়নবান্ধব নীতিমালা সিলেটের ভূমি, রাস্থার প্রস্থ, জলাবদ্ধতা, ভূমিকম্পঝুঁকি, প্রবাসী বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ নগর সম্প্রসারণের উন্নয়নবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট এন্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ (সারেগ) সভাপতি মাওলানা খায়রুল হোসেন, ১ম সহ-সভাপতি হাসিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার হোসাইন, সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আশিকুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাট্রি (এসএমসিসিআই) কোষাধ্যক্ষ মো. জহির হোসেন, অর্থ সম্পাদক তাজুল ইসলাম হাসান, সারেগ সদস্য কবির আহমদ, শাহজান কবির ডালিম,শিব্বর আহমদ, হাইব্রীড রিসোর্স (প্রা:) লি: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মুজিবুর রহমান, হলি আরবান প্রপাটিজ লি: পরিচারক শাহেদ আহমদ, ড্রিমলেন্ড প্রপার্টি পরিচারক আহমেদ রাজীব, আর্ক রিয়েল এস্টেট নির্বাহী কর্মকর্তা খলিলুর রহমান সুমন, সিলকো হোমস্ পরিচালক মনজুর মাওলা প্রমুখ।