• সিলেট, রাত ৮:৫৮, ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সবার জন্য তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২৬
সবার জন্য তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

Manual8 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Manual7 Ad Code

 

সবার জন্য তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

অনলাইন ডেস্ক

 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আগে বলেছিলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজরা যে দলেরই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত বৃহস্পতিবার নিজের দলের সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজদের এতটুকু ছাড় দেবেন না। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে তার শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি কেবল কথার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা বিশ্বাস করেন এবং বাস্তবায়ন করেন।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অতীতে বহু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলেও কোন রাজনৈতিক দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফেনীর জয়নাল হাজারী কিংবা ইয়াবা সম্রাট বদির মতো সর্বজন স্বীকৃত সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ী দিব্যি সংসদ সদস্য হয়েছিল। সবাই জানত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। কিন্তু তৎকালীন সরকারি দলের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শুধু সংসদ সদস্য কেন, সরকারি দলের পাতি নেতা এমনকি কর্মীরা পর্যন্ত অবাধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়তো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারত না। কারণ, তারা শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকতো। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের যেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর দুর্নীতির লাইসেন্স দেওয়া হতো।

Manual1 Ad Code

কিন্তু তারেক রহমান গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেই বাংলাদেশের রাজনীতির এই অনৈতিক ধারা পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসীদের কোন দলীয় পরিচয় নেই, তাদের একটাই পরিচয় তারা অপরাধী। তারেক রহমান তার কথা রেখেছেন। তিনি নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে বলেন। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আসে। এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে অতীতে বহু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এরকম কিংবা এরচেয়েও গুরুতর অভিযোগ এসেছে। কিন্তু যারাই ক্ষমতায় ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। এর পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত ছিলো। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অস্বীকৃতির সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। নিজের দলের লোকদের খারাপ বললে জনগণের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়- এ ধরনের একটি মিথ্যা বিশ্বাস রাজনীতিতে প্রচলিত আছে। তাই নিজের দলের লোক অন‍্যায় করলেও তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ক্ষমতাসীন দলের সর্বনাশ করেছে সবসময়। ক্ষমতাসীনরা অস্বীকার করলেও সাধারণ মানুষ তাদের অপকর্মের কথা জানতো, ফলে ক্ষতি হতো রাজনৈতিক দলেরই। জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হতো যে ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি করা যায়। এসবের বিচার হয় না। এর ফলে শুধু যে ক্ষমতাসীন দলের ক্ষতি হয় তা নয়, সামগ্রিকভাবে রাজনীতির উপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। কিন্তু অতীতে কোন দলের নেতাই সাহসের সাথে নিজের দলে শুদ্ধি অভিযান করতে পারেননি, ফলে রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মনোভাবেরও পরিবর্তন হয়নি।

তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবার পর থেকেই এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। বিএনপির কঠিন সময়ে, যখন দলের নেতা-কর্মীরা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে, নানা রকম জুলুম নির্যাতনের শিকার, তখনও দলের শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোন আপস করেননি। যারাই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারেক রহমান এতটুকু দ্বিধা করেননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সিদ্ধান্ত নেয় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তারা আর কোন নির্বাচনে অংশ নেবে না। এই সময়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব হেভিওয়েট নেতারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু বিপথগামী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পথে পা বাড়ায়। কিন্তু তারেক রহমান এদের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখাননি। তাদের একবিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হয়নি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত দুই বছরে বিএনপির সহস্রাধিক নেতা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এখন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তারেক রহমান প্রমাণ করলেন তিনি বিএনপিকে পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে কোন ধরনের ছাড় দেবেন না। এটি আমাদের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। এটি দলীয় নেতাকর্মী কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

Manual6 Ad Code

এই পদত্যাগের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে- সরকার এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স-নীতি অনুসরণ করছে, আর কোনো বাড়াবাড়ি করা যাবে না। বাড়াবাড়ি করলেই এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে দেশে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম অনেকটাই কমে আসবে। এর ফলে অন‍্য রাজনৈতিক দলগুলোর তাদের ভেতরের আবর্জনা পরিষ্কার করার সাহস পাবে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিকে যেমন দুর্নীতি এবং সন্ত্রাস মুক্ত করতে সাহায্য করবে, তেমনি সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিডি-প্রতিদিন

Manual7 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com