জকিগঞ্জে ছেলের হামলায় প্রাণ গেল মায়ের, আ হ ত ৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের জকিগঞ্জে জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার দাবিতে ও টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের ওপর ছেলের হামলায় গুরুতর আহত মা পিয়ারা বেগম (৬৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
এ ঘটনায় আড়াই বছরের শিশুকন্যাসহ পরিবারের আরও চার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত ছেলে সুমন আহমদকে (৩২) বসতঘর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার তাকে জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম সরকারের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিহত পিয়ারা বেগম জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের স্ত্রী। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার দাবিতে ও টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার মা কুটিনা বেগমকে (৪৫) রুইল দিয়ে আঘাত করে ছেলে সুমন আহমদ।
এতে মায়ের চোখে আঘাত লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর সুমনের মা পিয়ারা বেগম ছেলের হামলা থেকে রক্ষা করার জন্য সতীন কুটিনা বেগমকে তার অপর ছেলে শাহীন আহমদের ঘরে নিরাপদে রাখেন।
পরদিন শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে সুমন আবারও পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করেন এবং জায়গা-সম্পত্তি তাঁর নামে লিখে দিতে বলেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সুমন সুপারিগাছের রুইল দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তার মা পিয়ারা বেগম, সৎমা কুটিনা বেগম, ভাই শাহীন আহমদ (৩৮), ভাইয়ের স্ত্রী শাহানা বেগম (৩২) এবং আড়াই বছরের ভাতিজি ইসরাত জাহান গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার মধ্যরাতে পিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সুমন কয়েক দিন ধরে তাদের কাছে টাকা দাবি করছিলেন। একই সঙ্গে বাড়ির জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলো। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত। নেশার টাকার জন্য পরিবারের নিয়মিত চাপাচাপি করে আসছিলো।
এ ঘটনায় সুমনের আপন বড় ভাই শাহীন আহমদ বাদী হয়ে সুমন আহমদ ও অপর ভাই শামীম আহমদকে (৪৭) আসামি করে মামলা করেছেন।
মামলার বাদী শাহীন আহমদ জানান, হামলায় আহতদের মধ্যে তার স্ত্রী শাহানা বেগম ও মেয়ে ইসরাত জাহানের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। মা কুটিনা বেগমের চোখের জখম ছিল গুরুতর। এবং তিনি নিজেও মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
এদিকে, পরিবারের সদস্যদের ওপর এমন নৃশংস হামলা ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত সুমনের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত বিচার করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ প্রসঙ্গে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলের হামলায় আহত পিয়ারা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সুমন আহমদকে তার বসতঘর থেকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় হত্যা মামলায় দণ্ডবিধির ধারা সংযোজন করা হবে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য সুমন কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলো। এ বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। সুমনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম