• সিলেট, দুপুর ১:৪৩, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তারেক রহমানের দেশে ফেরার রাজনৈতিক তাৎপর্য

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫
তারেক রহমানের দেশে ফেরার রাজনৈতিক তাৎপর্য

Manual3 Ad Code

তারেক রহমানের দেশে ফেরার রাজনৈতিক তাৎপর্য

Manual1 Ad Code

ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন

 

দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৮ বছর পর তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মানুষও উদ্বেলিত নেতার আগমনে রাজনীতিতে নতুন এক যুগের সূচনা করতে পারবেন, মানুষের মনে এমন একটি ধারণাও সৃষ্টি হয়েছে! তারেক রহমান ফেরার পর দেশের বর্তমান এলোমেলো রাজনীতির ময়দানে শৃঙ্খলা ফিরে আসার বিষয়টি নিয়েও অনেকে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কারণ নেতার আগমনের পর বিএনপি আরও বেশি সুসংগঠিত এবং সুশৃঙ্খল হয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। এ অবস্থায় তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব মহল গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে সন্দেহ নেই।

Manual1 Ad Code

উল্লেখ্য তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার বহুবিধ কারণ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁর নিজ দল বিএনপির কথাই প্রথমে বলা প্রয়োজন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাঁর পক্ষে দলটির নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে এত দিন তারেক রহমান বিদেশে বসে দল পরিচালনা করেছেন। অতঃপর এখন তিনি দেশে থেকে দল পরিচালনা করবেন এবং সরাসরি দলের কার্যক্রম তদারকি করবেন; এত দিন যা সম্ভব ছিল না। নেতার অবর্তমানে দলের অভ্যন্তরে কিছু সমস্যা এবং বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হচ্ছিল! দলীয় নেতা-কর্মীরা অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং কলহে জড়িয়ে পড়েছেন এমন ঘটনা নিতান্ত কম নয়! তারেক রহমান দেশে ফেরায় তাতে লাগাম পরানো সম্ভব হবে। কারণ তাঁর চোখের সামনে এসব ঘটনা তিনি বরদাশত করবেন না বিধায় অঘটনঘটনপটীয়সী ব্যক্তিরা সাবধান হয়ে যাবেন। দ্বিতীয়ত দলের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কোনো অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং সে ক্ষেত্রে দলীয় ইমেজ অক্ষুণ্ন থাকবে। দেশে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দেড় মাস আগে তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। এ অবস্থায় নির্বাচনের আগে তাঁর হাতে যে কটা দিন সময় থাকবে তার মধ্যেই তাঁকে অনেক কাজ করতে হবে।

Manual7 Ad Code

সামনের নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়া যেহেতু খুব সহজসাধ্য কাজ হবে না, সুতরাং নিজ দলের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তাঁর আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন হবে বলে মনে করি। আর এ ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, মিত্র দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে! নতুন প্রজন্মের জেন-জির বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। বিএনপির মতো একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের সুসম্পর্কের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। আর বিএনপির কর্ণধার তারেক রহমানও এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত হবেন বলেই বিশ্বাস। কারণ এতদিন ধরে তাঁকে যেভাবে দেখেছি, তাঁর কার্যকলাপ, কথাবার্তা পর্যবেক্ষণ করেছি, তাতে একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি হিসেবেই তিনি অন্তরে অধিষ্ঠিত আছেন। আর এসব কারণেই প্রায় এক যুগ আগে আমি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলাম, ‘ভবিষ্যতে তারেক রহমান এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন!’ এমনকি এ বিষয়ে একদিন আলাপ প্রসঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে কথাটি বলায়, তিনিও বলেছিলেন, ‘হতে পারে’!

Manual7 Ad Code

তবে সে ক্ষেত্রে আবারও উল্লেখ করা প্রয়োজন, আসন্ন নির্বাচনি বৈতরণি পার হতে হলে বিএনপিকে আরও দক্ষতা দেখাতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জনের জন্য আরও বেশি তৎপর হতে হবে। আরও বেশি আন্তরিক হতে হবে! বিএনপি একটি বড় দল। তাদের বিশাল কর্মী বাহিনী আছে, কথাটি সত্যি হলেও এবারের নির্বাচন একটু আলাদা বলেই মনে হচ্ছে! যেভাবে ভাবা হচ্ছে, সেভাবে নির্বাচনে জিতে আসা সহজ না-ও হতে পারে! বিএনপিকে আরও বেশি করে জনসম্পৃক্ত হতে হবে! জনগণের মনের কথা বুঝে সেই অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে! আর সামনের এই অল্প সময়টুকুর মধ্যেই তা করতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে হবে। দেশের মানুষকে জাগরণের নতুন বাণীতে উজ্জীবিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে গতানুগতিক রাজনীতির দিন কিন্তু শেষ। ইতোমধ্যে দেশের মানুষ কিন্তু অনেক কিছু জেনে এবং বুঝে ফেলেছে; অতএব সাধু সাবধান!

অতঃপর জেন-জির বন্ধুদের প্রসঙ্গেও কিছু বলা প্রয়োজন মনে করছি। জেন-জির বন্ধুরা বয়সে নবীন, বলা চলে কাঁচা! কিন্তু তাদের শক্তি অদম্য। তারুণ্যের শক্তি দিয়ে তাঁরা দেশবাসীর মন জয় করেছেন, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে দেড় হাজার তরতাজা প্রাণ অকাতরে বিসর্জন দিয়ে তাঁরা শহীদের মর্যাদা অর্জন করেছেন! আমরা অন্তর থেকে তাঁদের ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। সেই সঙ্গে তাঁদের উদ্দেশে এ কথাটিও বলতে চাই, বয়স কম হওয়ার কারণে তাঁদের অভিজ্ঞতা কম। বিশেষ করে রাজনীতির ময়দানে যে প্রজ্ঞা এবং কৌশলগত দক্ষতার প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে তাঁদের ঘাটতি আছে। সুতরাং তাঁদের পথচলা, কথাবার্তা ইত্যাদিতে আপাতত সাবধানতা অবলম্বন করাই ভালো! কারণ আবেগের বশে কোনো ভুলভাল কথাবার্তা বললে আখেরে তাঁদেরই ক্ষতি! মনে রাখতে হবে যে রাজনীতির ময়দানে আবেগতাড়িত কথাবার্তা অনেক ক্ষেত্রেই বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়! কথাটা বলার কারণ হলো, ইতোমধ্যে তাঁরা একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে নির্বাচন কমিশনে তাঁদের দল নিবন্ধিত করে নির্বাচনি ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁদের কথাবার্তায় দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ, চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ ইত্যাদি শ্রেণির মানুষ সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে মন্তব্য করতে হবে! তা ছাড়া প্রতিশোধমূলক চিন্তা-চেতনা বা কথাবার্তা থেকেও দূরে থাকতে হবে। মানুষের মধ্যে ভালোবাসার বাণী ছড়িয়ে দিতে হবে, সাম্যের কথা বলে ভোটারদের মন জয় করতে হবে। বিপ্লবের সময় বিপ্লবের কথা, ভালোবাসার সময় ভালোবাসার কথা বলাই যুক্তিযুক্ত, সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এ কথাগুলোও বলার কারণ হলো, জেন-জির বন্ধুদের আমরা অন্তর থেকেই ভালোবাসি, সেই সঙ্গে তাঁদের সাফল্যও কামনা করি।

পরিশেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরার গুরুত্ব নিয়ে আরও কিছু বলেই লেখাটি শেষ করতে চাই। দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমান নিজ দেশে একজন সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর দল বিএনপিকে তিনি সব সময় উজ্জীবিত রেখেছেন। তাঁর কথাবার্তা, প্রাজ্ঞতা, প্রতিভা দিয়ে দেশের মানুষের মন জয় করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র হিসেবে যোগ্যতার পরিচয় দিয়েই তিনি বিএনপির মতো বিরাট দলটি পরিচালনা করে চলেছেন। বিদেশের মাটিতে বসে দেশের রাজনীতিতে অবদান রাখার মতো একটি অসম্ভব কাজকে তিনি সম্ভব করে দেখিয়েছেন। দিনরাত পরিশ্রম করে নিজে সঠিক পথে থেকে দলটিকেও সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়েছেন। তারেক রহমানের একনিষ্ঠতা, দেশ এবং দলের প্রতি কর্তব্যপরায়ণতা এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি একজন বুদ্ধিদীপ্ত অবিচল, অদম্য মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ভবিষ্যতে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি আরও বেশি করে দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করবে সে কথাটিও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আর বিএনপি যদি অতীতে কোনো ভুলত্রুটি করে থাকে, তাঁর অবর্তমানে দলের কোনো নেতা-কর্মী যদি কোথায়ও কোনো অন্যায় কিছু করে থাকে, সে ক্ষেত্রেও তারেক রহমান তাঁর নিজস্ব গুণাবলি দিয়ে সেসব দোষত্রুটি কাটিয়ে নিতে পারবেন বলে অনেকের ধারণা। কারণ একজন সফল রাজনীতিক হিসেবে ইতোমধ্যে তারেক রহমান তাঁর সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। আর এসব কারণে দেশের মানুষ তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছে। অতঃপর তারেক রহমান একটি সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গঠনে অবদান রাখবেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন তাঁর চারিত্রিক ক্যারিশমায় দেশের মানুষকে মুগ্ধ করে সম্মানিত হয়েছেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া যেমন চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণে আপসহীন নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন, তাঁদের পুত্র তথা উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানও বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে তাঁর সবটুকু দিয়ে কাজ করবেন, তেমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক : কলামিস্ট, বীর মুক্তিযোদ্ধা

বিডি প্রতিদিন/

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com