• সিলেট, রাত ৮:৪৪, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুনামগঞ্জ-২ নির্বাচনে সম্পদে শীর্ষে শিশির, তলায় শোয়াইব

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩, ২০২৬
সুনামগঞ্জ-২ নির্বাচনে সম্পদে শীর্ষে শিশির, তলায় শোয়াইব

Manual8 Ad Code

সুনামগঞ্জ-২ নির্বাচনে সম্পদে শীর্ষে শিশির, তলায় শোয়াইব

দিরাই প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত দুইজনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। তবে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে বিএনপি তাদের দুই মনোনীত প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করবে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের একজন হলেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। তিনি ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অপরজন হলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল।

এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. সাখাওয়াত হোসেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের শোয়াইব আহমদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নিরঞ্জন দাস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেব।

হলফনামা অনুযায়ী, ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনেরই আগে কোনো সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নেই। পেশাগত দিক থেকে দুইজন কৃষিজীবী, তিনজন আইনজীবী, একজন ব্যবসায়ী এবং একজন শিক্ষক। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধেই উল্লেখযোগ্য দায়-দেনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৭ টাকা। অপরদিকে সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শোয়াইব আহমদ, যার মোট সম্পদ ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

Manual8 Ad Code

স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেব পেশায় একজন কৃষক। আগে তিনি বায়িংহাউসের মার্চেন্ডাইজার ছিলেন। কৃষিখাত থেকে তিনি বার্ষিক আয় করেন ৩ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা, টিউশনি থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং নির্ভরশীলদের আয় ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।

Manual6 Ad Code

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ নামে নগদ অর্থ ১ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৪৬০ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণ ৩ লক্ষ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ৫০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৪ লক্ষ টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৮ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪৬০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ৯ লক্ষ ৬৯ হাজার ৪৬০ টাকা। এদিকে স্বামী/ স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ আছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৭৫ হাজার টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণ ৩০ লক্ষ টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৩১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ৪১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- যৌথ মালিকানায় কৃষি জমি, অকৃষি জমি, এবং নিজ ও যৌথ মালিকানায় মালিকানায় ঘর। যার মোট মূল্য ১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা। এরমধ্যে প্রার্থীর অংশ ৩৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা যুক্তরাজ্য প্রবাসী তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল পেশায় একজন আইনজীবী। কৃষিখাত থেকে তিনি বার্ষিক আয় করেন ৩ লক্ষ ২ হাজার ৪০০ টাকা, শেয়ার, বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত ৪৫ হাজার ২৪৪ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ নামে নগদ অর্থ ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫৭৯ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৪ লক্ষ ৮ হাজার ৮৯২ টাকা, প্রাইভেট কার ১০ লক্ষ টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ২ লক্ষ টাকা, আসবাবপত্র ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৫০ লক্ষ ৩৩ হাজার ৪৭১ টাকা। যার বর্তমানে আনুমানিক মূল্যও একই। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ নামে ১১.০০ একর কৃষি জমি। অকৃষি জমির মূল্য ১৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত নিরঞ্জন দাস আইনজীবী পেশা থেকে বার্ষিক ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ নামে নগদ অর্থ ৭ লক্ষ ৮ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ১ লক্ষ টাকা, আসবাবপত্র ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ১০ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ১২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও স্বামী/স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী বর্তমানে একজন কৃষিজীবী। অবশ্য এর আগে তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। কৃষিখাত থেকে তিনি বার্ষিক আয় করেন ৪ লক্ষ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ নামে নগদ অর্থ ১০ লক্ষ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ১ লক্ষ টাকা, আসবাবপত্র ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ১২ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা। যার বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ১৪ লক্ষ টাকা।এদিকে স্বামী/স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ,স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ নামে ৩.০০ একর ও যৌথ মালিকানায় ১০.০০ একর কৃষি জমি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত মো. সাখাওয়াত হোসেন একজন ব্যবসায়ী। কৃষিখাত থেকে তিনি বার্ষিক আয় করেন ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া দেশের বাইরের বোন থেকে পান ৫০ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ নামে নগদ অর্থ ১ লক্ষ টাকা, বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি, মোটরসাইকেল অধিগ্রহনকালে মূল্য ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৩ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে আনুমানিক মূল্যও একই।

Manual1 Ad Code

স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ নামে যৌথ মালিকানায় ১০ শত কৃষি জমি, যার মূল্য ৫ লক্ষ টাকা। এখানে প্রার্থীর অংশ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত কৃষি জমি ১০.৫০ একর, যার মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা। যার মধ্যে প্রার্থীর অংশ ৭ ভাগের ২ ভাগ অর্থাৎ, ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রার্থীর মূল্য স্থাবর সম্পদ ১১ লক্ষ টাকা।

Manual6 Ad Code

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনোনীত শোয়াইব আহমদ শিক্ষকতা পেশা থেকে বার্ষিক ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আয় করেন। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ নামে নগদ অর্থ ৮ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ৫০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- একটি টিনের ঘর ১ লক্ষ টাকা, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত একটি বাড়ি ১ লক্ষ টাকা।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির পেশায় একজন আইনজীবী। এই পেশা থেকে তিনি বার্ষিক ৫১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা ও অন্যান্য উৎস থেকে ৯৬ হাজার ৫৯৩ টাকা আয় করেন। এছাড়াও নির্ভরশীলরা শেয়ার, বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে বার্ষিক ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮৩৮ টাকা, চাকুরি থেকে ৬৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৩২ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ২০ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৪৫ টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ নামে নগদ অর্থ ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ টাকা, বাস, ট্রাক, মোটরযান, মোটরসাইকেল অধিগ্রহনকালে মূল্য ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ২৫ ভরি স্বর্ণ (উপহার), ইলেকট্রনিক পণ্য ৪ লক্ষ টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৫১ লক্ষ ৪ হাজার ৩০৪ টাকা। যার বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ১৪ লক্ষ টাকা। বর্তমানে আনুমানিক মূল্যও একই।

এদিকে স্বামী/স্ত্রী নামে নগদ অর্থ ৯ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৬৫ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৮ লক্ষ ২৬ হাজার ৩১৭ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানীর শেয়ার ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৯১ লক্ষ ৯০ হাজার ৫৯৫ টাকা, বাস, ট্রাক, মোটরযান, মোটরসাইকেল অধিগ্রহনকালে মূল্য ৪৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, কেনা ও উপহার হিসেবে প্রাপ্ত স্বর্ণ ৫ লক্ষ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ৭ লক্ষ ২০ হাজার ৪০০ টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৫১ লক্ষ ৪ হাজার ৩০৪ টাকা। যার বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৯৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৮৪৩ টাকা। বর্তমানে আনুমানিক মূল্যও একই।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- স্ত্রীর নামে ১ একর ৯৩.৯৬৩ শতাংশ অকৃষি জমি, যার মূল্য ১ কোটি ৮১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৪২০ টাকা।

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com