স্বতন্ত্র আর বিকল্প প্রার্থী নিয়ে সিলেট বিএনপিতে অ স্ব স্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের কয়েকটি আসনে স্বতন্ত্র আর বিকল্প প্রার্থী নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। এসব প্রার্থী একদিকে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন, অন্যদিকে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছে দল। যদিও তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয়।
তবে স্বতন্ত্র হিসেবে দলের যেসব নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, শিগগিরই তাদের কেন্দ্রে ডাকা হবে। দায়িত্বশীল নেতারা প্রথমে তাদের বোঝাবেন; দল ক্ষমতায় গেলে বিভিন্নভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেবেন। এতেও কাজ না হলে কঠোর হবে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
জানা গেছে, সিলেট বিভাগে তিনটি আসনে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে বিএনপি। সিলেট-৬ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ফয়সল আহমদ চৌধুরী লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিকল্প প্রার্থী করা হয়েছে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকে। সুনামগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার সাথে ভোটে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া। রেজা কিবরিয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। এই আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া, তবে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ (মিলন)। তিনি এই আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মিজানুর রহমান চৌধুরী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। মিজানুর রহমান চৌধুরী এই আসনে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন।
এদিকে সিলেট-৫ আসনে এবার দেখা দিয়েছে জটিলতা। প্রার্থী সমঝোতায় বিএনপি এই আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে মনোনয়ন দিলেও এই আসনটি থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন জেলা বিএনপি’র প্রথম সহ-সভাপতি (বহিস্কৃত) মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন। দলের সিদ্ধান্ত না মানায় ইতোমধ্যে দল থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। এসব বিকল্প প্রার্থী নিয়ে যেমন নানা নেতিবাচক সমালোচনা রয়েছে, তেমনি অনেক আসনে তারা হয়ে উঠেছেন ‘আশীর্বাদ’।
এদিকে, আগামী ২১ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। আর বিএনপির এই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবে সিলেট থেকে। ২২ জানুয়ারি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট সফরে আসবেন। ওইদিন তিনি হযরত শাহাজলাল ও হযরত শাহপরাণ (র.) এর মাজার জিয়ারত করবেন এবং পরে সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। সিলেট সফর শেষে দলের বিকল্প প্রার্থীদের বিষয়ে নতুন করে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বিএনপির হাইকমান্ড।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/