• সিলেট, রাত ১২:২২, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

টেংরাটিলায় অ গ্নি কা ণ্ড : চাওয়ার চেয়ে কম পাচ্ছে ক্ষতিপূরণ

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
টেংরাটিলায় অ গ্নি কা ণ্ড : চাওয়ার চেয়ে কম পাচ্ছে ক্ষতিপূরণ

Manual3 Ad Code

টেংরাটিলায় অ গ্নি কা ণ্ড : চাওয়ার চেয়ে কম পাচ্ছে ক্ষতিপূরণ
১২,৩৭১ কোটি টাকা চেয়ে ৫১২ কোটি পাচ্ছে বাংলাদেশ

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক

Manual8 Ad Code

সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ মামলার চূড়ান্ত রায় অবশেষে আসছে। বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের (ইকসিড) রায়ে বাংলাদেশ ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রার বর্তমান মূল্যে ৫১২ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এ ক্ষতিপূরণ দেবে কানাডার কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস।

যদিও বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা ও পরিবেশের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করেছিল ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা)।

জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের ছয়জন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনজীবীদের মাধ্যমে পাওয়া মামলার রায়ের একটি সংক্ষিপ্তসার থেকে ক্ষতিপূরণের অঙ্কটি জানা গেছে। তবে রায়ের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। পুরো রায় পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরকারের পরামর্শ নিয়ে করণীয় ঠিক করা হবে। কর্মকর্তারা আরও বলছেন, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ অনেক কম। বাংলাদেশের ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। পাশাপাশি মামলা চালাতেও অনেক খরচ হয়েছে।

Manual6 Ad Code

ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের খবর প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিস্তারিত রায় দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০০৩ সালে নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রটিতে দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে গ্যাসক্ষেত্রের মজুত গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ জন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা, তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

Manual6 Ad Code

ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ২০০৭ সালে বাংলাদেশের আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা। পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয় নাইকোর কাছে থাকা ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের বিল পরিশোধ। নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা পরে হাইকোর্টে যায়। হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গেলে সেখানেও পেট্রোবাংলার পক্ষেই রায় আসে।

২০২০ সালের ১৯ মে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, নাইকো ছাতক গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণের ঘটনায় তারা দায়ী নয় মর্মে ঘোষণা চেয়ে ২০১০ সালে ইকসিডে একটি সালিসি মোকদ্দমা দায়ের করে। ২০১৬ সালে বাপেক্স আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। পরে নাইকোর কাছে বাপেক্স ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং বাংলাদেশ সরকার ৮৯ কোটি ৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে ইকসিডে নালিশ করে। দুয়ে মিলে ক্ষতিপূরণের দাবি দাঁড়ায় ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (বর্তমান মূল্যে ১২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা)।

নসরুল হামিদ আরও বলেছিলেন, ইকসিড ট্রাইব্যুনাল ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের জন্য যৌথ উদ্যোগ চুক্তির অধীন শর্ত ভঙ্গের জন্য নাইকোকে দায়ী করে ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২০) রায় প্রদান করেন।

নাইকোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নালিশি মামলাসংশ্লিষ্ট পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের দুজন কর্মকর্তা বলেন, দেশে শুরুতে নাইকোর কাছে যে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছিল, ইকসিডে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ চাওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে শুনানিতে প্রশ্ন উঠেছিল। আরও কিছু ব্যাপার আছে। তাই পুরো রায় না দেখে আগাম কিছু বলা সম্ভব নয়। তাঁরা আরও বলেন, বিগত সরকারের সময় মামলার রায় নিয়ে আগাম তথ্য প্রকাশ করায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ইকিসডের গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তাই এবার তাড়াহুড়া না করে বিস্তারিত রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com