সিলেট বারের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল আহাদ আর নেই
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি
হাজার হাজার সুধী শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজন সহ বৃহত্তর জৈন্তিয়ার অগনিত মানুষকে কাঁদিয়ে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সিলেট বারের বিজ্ঞ আইনজীবী ও বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ (৫৬)।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ১২টায় সিলেট ওয়েসিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বাদ জোহর সারীঘাট ঈদগাহ মাঠে হাজারো মানুষের শেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জানাযার নামাজ শেষে জন্মমাটি রনিফৌদ গ্রামের পঞ্চায়েতী কবরস্থানে দাফন চিরনিদ্রা শায়িত করা হয় উত্তর সিলেটের এই কিংবদন্তিকে।
মরহুমের জানাযার নামাজে অংশ নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহ উদ্দিন, সিলেট বারের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট নুরুল হক, সিলেট জেলা বারের সভাপতি গোলাম ইয়াহিয়া চৌধুরী সুহেল, সেক্রেটারি জুবায়ের বখত জুবের, সাবেক সভাপতি একে এম সামিউল ইসলাম, এডিশনাল পিপি লুৎফুল কিবরিয়া শামীম ও অ্যাডভোকেট মুজাম্মিল আলী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এমএ হান্নান, সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের তাপাদার, সিলেট বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুজ্জামান জামান, শিল্পপতি মাওলানা এমএ কাদির খাঁন, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ গোলজার আহমদ হেলাল, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম, খরিলহাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফ, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইন্তাজ আলী চেয়ারম্যান, জৈন্তাপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর গোলাম কিবরিয়া, গোয়াইনঘাট উপজেলা আমীর মাস্টার আবুল হোসেন, গোয়াইনঘাট উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আনোয়ার হোসাইন, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মনজুর আহমদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম, সভাপতি ফয়েজ আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসেন চতুলী ও তোফায়েল চৌধুরী এবং আলোকিত গোয়াইনঘাট সম্পাদক আমির উদ্দিন প্রমুখ।
অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ঢাকায় তাঁর হার্ট সার্জারি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও কয়েকদিন আগে আবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে সিলেট নগরীর ওয়েসিস হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়ে, বৃদ্ধা মা, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
একজন দক্ষ আইনজ্ঞের পাশাপাশি বৃহত্তর জৈন্তিয়ার উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে পুরো উত্তর সিলেট অঞ্চলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।