• সিলেট, রাত ১০:৩০, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভালো কাজের শুভ সূচনা ও সমাপ্তি যেভাবে হয়

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০২৬
ভালো কাজের শুভ সূচনা ও সমাপ্তি যেভাবে হয়

Manual1 Ad Code

ইসলামের আলোকে
ভালো কাজের শুভ সূচনা ও সমাপ্তি যেভাবে হয়

উম্মে আহমাদ ফারজানা

Manual3 Ad Code

 

আমাদের মধ্যে এমন কে আছেন, যিনি জীবনে পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই কোনো বড় কাজ করেছেন? প্রতিটি ভালো কাজে সফলতার জন্য পূর্ব পরিকল্পনা ও পূর্ব প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এ কথা বিশ্বাস রাখতে হবে যে একটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার আগে মহান আল্লাহ প্রজ্ঞাবানদের অন্তর্দৃষ্টি দান করেন, পথ সুগম করেন এবং এমন দিকে পরিচালিত করেন, যার জন্য তিনি অনেক আগেই প্রস্তুত করে রেখেছেন।

তাই কাজ সফল করতে সেটি আল্লাহর ওপর সোপর্দ করুন এবং আপনার পথে অবিচল থাকুন। মুসা (আ.)-এর মতো হোন।

তাঁর মতো আপনার মূলমন্ত্র হোক—‘আমি আমার লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থামব না।’ পবিত্র কোরআনে এসেছে : ‘আর যখন মুসা তার সহচরকে বলল, আমি দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত অথবা দীর্ঘকাল ধরে চলতে না থাকা পর্যন্ত থামব না।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৬০)
একটি কঠিন যাত্রার বলিষ্ঠ সূচনা এটি। এই আয়াতে তিনি তাঁর লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত, এমনকি বছরের পর বছর লেগে গেলেও জ্ঞান অন্বেষণে অবিচল থাকার প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছেন।

Manual7 Ad Code

তাই পরবর্তী আয়াতগুলো ‘ফা’ (অতঃপর) সংযোজক অব্যয় ব্যবহার করা হয়েছে, যা দ্রুততা এবং ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘অতঃপর যখন তারা পৌঁছাল…।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৬১)

তাই যে ব্যক্তি দুর্বলভাবে শুরু করে, তার মতো হওয়া যাবে না। কারণ আল্লাহ আমাদের এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেন : ‘তোমরা কি তাকে দেখেছ, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আর সামান্য দান করে, তারপর বন্ধ করে দেয়?’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩৩-৩৪)
মনে রাখতে হবে যে একটি দুর্বল শুরু (অল্প) একটি দুর্বল সমাপ্তির সমান।

কিভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবেন?

১. আপনি কী চান সে বিষয়ে নিজের সঙ্গে সৎ থাকুন এবং মনে রাখবেন যে আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনার নিজের তীব্র আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি আর কেউ আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে না।

আপনার সিদ্ধান্তের পেছনে একটি দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে, অন্যথায় প্রথম বাধাতেই আপনার সংকল্প টলে যাবে। যেকোনো সম্ভাব্য পরিণতি সত্ত্বেও আপনার লক্ষ্য অর্জনের পথে অবিচল থাকার জন্য আপনার মধ্যে প্রয়োজনীয় সততা থাকতে হবে।

২. সিদ্ধান্ত নিতে শিখুন এবং লক্ষ্য থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্ধ করুন।

আপনাকে অবশ্যই আপনার স্বস্তিদায়ক বলয়ের বাইরে পা রাখতে হবে, যা হলো সেই মানসিক ফাঁদ, যা আমাদের পরিচিত গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখে। এটি মূলত লক্ষ্যের প্রতি মনোযোগের অভাব এবং চিন্তা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফল।

৩. আপনার সিদ্ধান্তের সঙ্গে আপস করবেন না। নিজের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সময় নষ্ট করা বন্ধ করা এবং নিজের সিদ্ধান্ত এড়ানোর উপায় খোঁজা থেকে বিরত থাকা।

Manual5 Ad Code

৪. লক্ষ্য বড় করুন এবং সিদ্ধান্তে অবিচল থাকুন। আপনাকে নিজের মতামতে অবিচল থাকতে হবে, হোঁচট খেয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং যা-ই ঘটুক না কেন, নিজের লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত কখনো থামবেন না।

মনে রাখবেন, প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা লক্ষ্যের সমানুপাতিক, তাই উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখুন!

মহানবী (সা.) তাঁরা সাহাবিদের স্বপ্ন ও লক্ষ্য বড় করার তাগিদ দিতেন। তিনি বলতেন : ‘যখন তোমরা আল্লাহর কাছে কিছু চাও, তখন তাঁর কাছে জান্নাত চাও। কারণ তা জান্নাতের মধ্যভাগ এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ অংশ, আর তার ওপর আছে পরম করুণাময়ের আরশ এবং তা থেকে জান্নাতের নদীগুলো প্রবাহিত হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ২৭৯০)

৫. সর্বদা আল্লাহর কাছে সব কিছুতে সাফল্য ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রার্থনা করুন এবং প্রার্থনায় উচ্চ আকাঙ্ক্ষা রাখুন।

দোয়ার বরকতে মানুষের জীবনের গতিপথ বদলে যায়। দোয়ার মাধ্যমে বহু কঠিন কাজ সহজ হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করে তখন তাদের বলে দাও, নিশ্চয়ই আমি সন্নিকটবর্তী। কোনো আহ্বানকারী যখনই আমাকে আহ্বান করে তখনই আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই; সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাকে বিশ্বাস করে, তাহলেই তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত হতে পারবে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৬)

পাশাপাশি আপনার কর্ম বা সামর্থ্যের ঘাটতির কারণে কোনো কিছু অর্জন করতে পারবেন না—এই ভেবে আপনার কোনো প্রত্যাশা ছোট করবেন না। যদি ফলাফল অর্জন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর নির্ভর করে, তাহলে দোয়া হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। আল্লাহ কোরআনে আমাদের দুই ধরনের মানুষের কথা দেখিয়েছেন : প্রথম ধরনের মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাব থাকে এবং তারা তাদের দোয়াকে পার্থিব বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখে, পরকালকে অবহেলা করে। আল্লাহ বলেন : ‘‘আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের এই দুনিয়াতেই কল্যাণ দান করুন।’ পরকালে তাদের কোনো অংশ থাকবে না।’’

(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০০)

অন্যদিকে যাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে, আল্লাহ তাদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন : ‘‘আর তাদের মধ্যে এমনও আছে, যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০১)

উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা প্রত্যাশা বিস্তৃত করার অর্থ হলো, আল্লাহর কাছে এই দুনিয়া ও পরকাল উভয়ের সর্বোত্তম জিনিস প্রার্থনা করা এবং তাঁর সাড়া পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকা।

 

Manual8 Ad Code

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com