• সিলেট, রাত ৮:১২, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজান হলেই মসজিদে ছুটে যেতেন রসুল (সা.)

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ১৬, ২০২৬
আজান হলেই মসজিদে ছুটে যেতেন রসুল (সা.)

Manual8 Ad Code

মসজিদে নববী। সংগৃহীত ছবি

Manual5 Ad Code

আজান হলেই মসজিদে ছুটে যেতেন রসুল (সা.)

Manual8 Ad Code

আল্লামা মাহ্‌মূদুল হাসান

Manual2 Ad Code

 

 

দুনিয়াতে এমন কোনো কাজ নেই যা সমাধা করার জন্য প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। যে কাজের গুরুত্ব যত বেশি সে কাজের প্রস্তুতিও তত গুরুত্বের দাবি রাখে। নামাজ আল্লাহপাক প্রদত্ত এক মহান হুকুম, তার গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং তার প্রস্তুতিও অত্যন্ত গুরুত্বের দাবিদার। আর নামাজ যেহেতু আল্লাহ প্রদত্ত বিধান, তাই প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে, প্রস্তুতির উপকরণগুলো কী তা-ও আল্লাহপাক নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

নামাজের প্রস্তুতিমূলক কাজ : ১. ওয়াক্ত মতো নামাজ পড়া। ২. পবিত্রতা অর্জন করে নামাজ পড়া। ৩. বস্ত্রাবৃত অবস্থায় নামাজ পড়া। ৪. পবিত্র কাপড় পরিধান করে নামাজ পড়া। ৫. পাক-পবিত্র স্থানে নামাজ পড়া। ৬. কেবলার দিকে ফিরে নামাজ পড়া। ৭. নামাজের নিয়ত করা।

নামাজের প্রস্তুতিস্বরূপ আল্লাহপাক এ সাতটি কাজের হুকুম দিয়েছেন। এর মাঝে অনেক হেকমত নিহিত রয়েছে। প্রথমেই আলোচনা করি নামাজের সময়সূচি নিয়ে। আল্লাহপাক প্রত্যেক নামাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ের বিধান রেখেছেন। মনগড়া নামাজ পড়লেই হবে না, যে নামাজের জন্য যে সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে সে সময়েই তা আদায় করতে হবে, অন্যথায় সে নামাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণেযোগ্য হবে না। প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য আল্লাহপাক নির্ধারণ করে রেখেছেন কিছু চিহ্ন ও নিদর্শন। সময় হলেই চতুর্দিক থেকে মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ভেসে আসে সুমধুর আজানের ধ্বনি। এটা আল্লাহপাকের বিধান, যা সর্বসাধারণের সুবিধার্থে বিধিবদ্ধ হয়েছে।

আজানের বিধান কেন : আল্লাহপাক এ পৃথিবীকে আখেরাতের প্রতিচ্ছবিরূপে সৃষ্টি করেছেন। মুয়াজ্জিনের সুমধুর কণ্ঠ থেকে যখন ভেসে আসে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ধ্বনি, তখন মুসলিম হৃদয় মাতোয়ারা হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করতে ছুটে চলে মসজিদ পানে।

অনুরূপভাবে কেয়ামতের পর যখন হজরত ইসরাফিল (আ.) দ্বিতীয়বার শিঙায় ফুঁ দেবেন, তখনো মানুষ মধুর কণ্ঠে ভেসে আসা ধ্বনি শুনে মাতোয়ারা হয়ে আল্লাহর স্মরণে ছুটে চলবে হাশরের পানে। সেই মহাদিবসের স্মরণার্থেই আজ পৃথিবীতে আজানের বিধান। যাতে করে আজানের ধ্বনি শোনামাত্রই মানুষ অনুধাবন করতে সক্ষম হয় যে, এমনিভাবে একদিন আমাকে হাশরের ময়দানের দিকে ডাকা হবে। এতে সেই ভয়াবহ দিবসের প্রস্তুতিস্বরূপ অন্তরে আমলের তাগিদ সৃষ্টি হবে। আজান বিধিবদ্ধ হওয়ার পেছনে এ অপূর্ব হেকমত নিহিত রয়েছে।

Manual6 Ad Code

বস্তুত আল্লাহপাক দেখতে চান, আজান শুনে কে নামাজের প্রস্তুতি নেয়, আর কে উদাসীন হয়ে বসে থাকে? যারা আজান শুনে আগ্রহ ও গুরুত্বের সঙ্গে মসজিদে উপস্থিত হয়, তারা কেয়ামতের দিন সম্মান ও চিন্তামুক্ত দিল নিয়ে উপস্থিত হবে, আর যারা নামাজ থেকে উদাসীন, মসজিদে উপস্থিত হয় না, তাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ! আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুকুম হলো সব কাজকর্ম ত্যাগ করে মসজিদে উপস্থিত হওয়া। আজানের পর মসজিদে না গিয়ে অন্য কাজে লিপ্ত হলে তা হবে বরকতহীন কাজ। কাজের বরকত ও প্রতিদান আল্লাহপাকের হাতে। আল্লাহপাক বরকতের সব ধারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রাখেন।

যখন আজান হয়ে যায়, তখন বরকতের সব ধারা মসজিদের দিকে ধাবিত করে দেন। তখন অন্য কোনো কাজে এবং অন্য কোনো স্থানে বরকত থাকে না। এ সময় যারা মসজিদে থাকে, তারাই কেবল বরকত লাভ করতে পারে। যদিও দেখা যায় আজান হয়ে যাওয়ার পর দোকানে ক্রেতার ভিড় বেশি হয়, আসলে এটা দৃশ্যমান মাত্র, প্রকৃত বরকত মসজিদে। মাঠঘাট, দোকানপাট সবকিছু আজানের পর বরকতশূন্য হয়ে থাকে। সুতরাং আজানের পর শান্তি ও বরকত মসজিদেই বর্ষিত হয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা মোবারক বিবর্ণ হয়ে যেত। অতি আদরের স্ত্রীদেরও তখন অচেনা মনে হতো।

কারও সঙ্গে কোনোরূপ কথাবার্তায় লিপ্ত না হয়ে সবকিছু বর্জন করে তিনি মসজিদে ছুটে যেতেন। হাদিসের ভাষ্য দ্বারা বোঝা যায়, কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পর মানুষ যখন হাশরের ময়দানের দিকে ছুটবে, তখন হজরত বেলাল হাবশী (রা.) হবেন ইসলামের পতাকাবাহী। হজরত আবু বকর, হজরত ওমর, হজরত উসমান, হজরত আলীসহ সব সাহাবা কেরাম (রা.) সেখানে উপস্থিত থাকবেন; কিন্তু পতাকাবাহী আর কেউ থাকবে না। একমাত্র পতাকাবাহী থাকবেন বেলাল হাবশী (রা.)। কারণ তিনি দুনিয়াতে আজান দিতেন, আর সে ডাকে সাড়া দিয়েই মানুষ মসজিদ পানে ছুটে যেত এবং এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হতো কে মুসলমান আর কে মুসলমান নয়। সুতরাং সেদিন তাঁর হাতেই থাকবে মুসলমানদের পতাকা। আল্লাহপাক আমাদের সহিহ সমঝ দান করুন!

♦ লেখক : আমির, আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ

বিডি প্রতিদিন/

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com