• সিলেট, সন্ধ্যা ৭:০৫, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামের দৃষ্টিতে আকিকা

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯, ২০২৬
ইসলামের দৃষ্টিতে আকিকা

Manual8 Ad Code

ইসলামের দৃষ্টিতে আকিকা

ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল

Manual5 Ad Code

 

মায়ের কোলে যখন একটি শিশুর জন্ম হয়, তখন গোটা পরিবারে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। শুকরিয়াস্বরূপ সন্তানের পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, গরু, মহিষ, উট ইত্যাদি জবেহ করা সুন্নত। ইসলামের পরিভাষায় একে আকিকা বলে। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জন্মের সপ্তম দিবসে শিশুর মাথার চুল কেটে দিতে হয় এবং আল্লাহর দাসত্ববোধক অর্থ প্রকাশ পায়, এমন একটি নাম রাখতে হয়। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া কিতাবে দ্বিতীয় খণ্ডের (ই.ফা.বা. কর্তৃক অনূদিত, পৃষ্ঠা ৪৮৯-৪৯০) বর্ণনায় আকিকার বিধান ইসলামপূর্ব যুগেও ছিল। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দাদা আবদুল মোত্তালিব দয়াল রসুলের শুভ জন্মের সপ্তম দিবসে আকিকার অনুষ্ঠান করে রসুল (সা.)-এর নাম রাখেন। হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘রসুল (সা.) ইমাম হাসান (রা.)-এর আকিকায় একটি বকরি জবেহ করেন এবং বলেন, হে ফাতিমা। তার মাথা মুণ্ডন করে দাও এবং চুলের সমপরিমাণ রৌপ্য আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দাও।’ হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘আমি ওজন করে দেখলাম, তার চুল এক দিরহাম বা এক দিরহামের কিছু অংশ পরিমাণ হলো (তিরমিযি শরিফ প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭৮)’ আল্লাহর রসুল (সা.) বলেন, ‘পুত্রসন্তানের আকিকায় দুটি এবং কন্যাসন্তানের জন্য একটি ছাগল জবেহ করতে হবে (সুনানে নাসায়ি শরিফ দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৮)।’

হজরত সালমান ইবনে আমের (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি ‘শিশুর জন্মের সঙ্গে আকিকা জড়িত। সুতরাং তার পক্ষ থেকে তোমরা রক্ত প্রবাহিত করো (অর্থাৎ আকিকার উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করো)। আর তার শরীর থেকে কষ্ট দূর করে দাও (অর্থাৎ তার মাথার চুল কেটে দাও) (বোখারি শরিফের সূত্রে মেশকাত শরিফ, পৃষ্ঠা ৩৬২)’

Manual4 Ad Code

ইসলামের দৃষ্টিতে আকিকাআকিকার পশু : কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে যেসব শর্ত রয়েছে, আকিকার ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য। যেসব পশু কোরবানির জন্য জায়েজ, সেসব পশু আকিকার জন্যও জায়েজ। যেসব পশু কোরবানি করা জায়েজ নয়, তা আকিকার জন্যও জায়েজ নয়। সামর্থ্যবানদের জন্য ছেলেশিশু হলে দুটি বকরি অথবা দুটি ভেড়া অথবা দুটি দুম্বা জবেহ করতে হয় অথবা কোরবানির উপযুক্ত কোনো বড় পশুর এক অংশ দিতে হয়। যদি এমন সামর্থ্য না থাকে, তাহলে একটি বকরি অথবা একটি ভেড়া অথবা একটি দুম্বা অথবা কোরবানির উপযুক্ত কোনো বড় পশুর এক অংশ আকিকা হিসেবে দেওয়া যাবে। মেয়েশিশুর আকিকার জন্য একটি বকরি অথবা একটি ভেড়া অথবা একটি দুম্বা অথবা কোরবানির উপযুক্ত বড় কোনো পশুর এক অংশ দিয়ে আকিকা করতে হয়। বকরি দ্বারা আকিকা দেওয়া সর্বোত্তম। গরু, মহিষ ও উট দ্বারা একাধিক সন্তানের আকিকা দেওয়া যায়।

আকিকার পশু জবেহ করার নিয়ম : কোরবানির পশুর জবেহ করার যে নিয়ম, একই নিয়মে আকিকার পশু জবেহ করতে হয়। কোরবানির স্থলে সন্তানের পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে আকিকার পশু জবেহ করা হচ্ছে, তা উল্লেখ করতে হয়।

আকিকা করার সময় : সন্তান ভূমিষ্ঠের সপ্তম দিনে আকিকা করা এবং নাম রাখা সুন্নত। সপ্তম দিনে আকিকা করতে না পারলে ১৪ অথবা ২১ তারিখেও আকিকার অনুষ্ঠান করা যায়। আল্লাহর রসুল (সা.) বলেন, ‘আকিকার পশু সপ্তম দিবসে জবেহ করবে অথবা ১৪ অথবা ২১ তারিখে জবেহ করবে (ই.ফা.বা. কর্তৃক অনূদিত ফাতাওয়া ও মাসাইল ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৫)’

Manual7 Ad Code

আকিকার মাংসের বিধান : আকিকার মাংসের বিধান কোরবানির মাংসের বিধানের অনুরূপ। আকিকার মাংসের এক-তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকিনদের দান করা উত্তম। অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ নিজের ও নিজের আত্মীয়স্বজনের জন্য। কেউ যদি আকিকার সব মাংস রেখে দিয়ে নিজেরা খেয়ে ফেলে অথবা মেহমানদারির জন্য রাখে তাতেও আকিকা হবে। তবে এটি সৌন্দর্যের বিপরীত। ‘আকিকার মাংস কাঁচা অথবা পাক করে বণ্টন করা, অথবা দাওয়াত করে খাইয়ে দেওয়া সবই জায়েজ।’ (ই.ফা.বা. কর্তৃক অনূদিত ফাতাওয়া ও মাসাইল ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৬) আকিকা অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, ধনী-গরিব সবাইকে দাওয়াত দিয়ে মিলাদ শরিফ পাঠ করা উত্তম।

আকিকা উপলক্ষে শিশুদের প্রদত্ত হাদিয়া : আকিকা বা সুন্নতে খাতনা অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের হাদিয়া বা তোফা দেওয়া হয়। পিতা-মাতা সন্তানের জন্য সেগুলো সংরক্ষণ করে যথাসময়ে তাদের ফিরিয়ে দিতে পারেন। ইমাম প্রফেসর ড. আরসাম কুদরত এ খোদা রচিত ‘মোহাম্মদী ইসলামের তালিম’ কিতাবে আকিকার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

লেখক : গবেষক, কদর রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, ঢাকা

Manual3 Ad Code

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com