• সিলেট, রাত ২:১৮, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু

admin
প্রকাশিত জুন ৭, ২০২৬
রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু

Manual7 Ad Code

রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু
বাসস

Manual3 Ad Code

 

তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বাইরে দেশের রপ্তানি খাতের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট পণ্য ও বাজারকেন্দ্রিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোর বিকাশে সহায়তা করতেই এ স্কিম চালু করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য দিয়ে এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হবে এবং এটি একটি ঘূর্ণায়মান (রিভলভিং) তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (পিএফআই) কাছে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেবে। আর রপ্তানিকারকরা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে অর্থায়ন পাবেন।

এ সুবিধার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। সুদ কমতি স্থিতি (রিডিউসিং ব্যালেন্স) পদ্ধতিতে হিসাব করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ স্কিমের মাধ্যমে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো, বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নয়ন এবং অপ্রচলিত রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

Manual3 Ad Code

রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ অনুযায়ী ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ ও ‘বিশেষ উন্নয়ন’ খাতভুক্ত শিল্পগুলো এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন সুবিধা পাবে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাট ও চামড়া খাতকে রপ্তানি বহুমুখীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত রপ্তানিকারক, রপ্তানি আয় দেশে আনতে বকেয়া রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এবং ঋণ অবলোপনের (রাইট-অফ) ইতিহাস রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার জন্য যোগ্য হবে না।

স্কিমে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি (পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করতে হবে।

ইসলামী ব্যাংকগুলোও শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে স্কিমের সুদহার ও মেয়াদসংক্রান্ত শর্ত মেনে চলতে হবে।

পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পেতে প্রতিটি অর্থ বিতরণের ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করতে হবে। এসব নথির মধ্যে রয়েছে ডিমান্ড প্রমিসরি নোট, লেটার অব কন্টিনিউটি, ডেবিট অথরিটি লেটার এবং হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন।

এ স্কিমের আওতায় অর্থায়নকৃত সব বিনিয়োগে ন্যূনতম ঋণ-ইকুইটি অনুপাত ৭০:৩০ বজায় রাখতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি ব্যবস্থাও চালু করেছে। অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য দিলে বা তহবিলের অপব্যবহার করলে পুনঃঅর্থায়নের স্বাভাবিক সুদের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে জরিমানা সুদ আরোপ করা হবে।

Manual7 Ad Code

জরিমানার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে সরাসরি আদায় করা হবে।

আরও বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

Manual6 Ad Code

এ ধরনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এককালীন কর্তনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে সম্পূর্ণ বকেয়া পুনঃঅর্থায়নের অর্থ আদায় করতে পারবে।

১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন (২০২৩ সালে সংশোধিত) এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ স্কিম চালু করা হয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com